22/07/2026
এর প্রতিকার কে করবে?
সিলেট থেকে ঢাকা—দূরত্ব বাড়েনি, কিন্তু সময় যেন দ্বিগুণ হয়ে গেছে!
ট্রেনের টিকিট না পেয়ে বাধ্য হয়ে বাসে ঢাকা আসতে হলো। একসময় যেখানে সিলেট থেকে ঢাকা পৌঁছাতে সাড়ে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা লাগত, এবার প্রায় ১১ ঘণ্টা লেগেছে। এই দীর্ঘ যাত্রা শুধু সময়ের অপচয় নয়, আমাদের সড়ক ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোর বাস্তব চিত্রও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সিলেট অংশের কাজের দীর্ঘসূত্রিতা আজ বহু বছরের ভোগান্তির প্রতীকে পরিণত হয়েছে। যে প্রকল্প অনেক আগেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করার কথা ছিল, সেটি এখনও প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি। এর দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। পরিকল্পনা, সমন্বয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যর্থতার বোঝা আজ বহন করছেন সিলেট অঞ্চলের সাধারণ মানুষ। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, রোগী ও পরিবহন শ্রমিক এই ধীরগতির মূল্য দিচ্ছেন সময়, অর্থ এবং মানসিক চাপ দিয়ে।
তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা হয়েছে ঢাকার প্রবেশমুখ কাচপুরে। সেখানে প্রশস্ত ও উন্নত সড়ক থাকা সত্ত্বেও প্রায় আড়াই ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়েছে। অর্থাৎ, যেখানে চলমান নির্মাণকাজের কারণে ধীরগতি কিছুটা স্বাভাবিক, তার চেয়েও বেশি সময় নষ্ট হয়েছে এমন একটি সড়কে, যেখানে অবকাঠামোগত সক্ষমতা অনেক বেশি।
যাত্রাপথে গাড়ির চালক আক্ষেপ করে বললেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিশেষ করে ব্যস্ততম সড়কগুলোতে ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ আগের মতো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। এটি একজন চালকের ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ। তবে দীর্ঘ সময়ের বিশৃঙ্খল যানজট দেখে প্রশ্ন জাগে—ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, সমন্বয় ও আইন প্রয়োগে কোথায় ঘাটতি রয়েছে?
এই অভিজ্ঞতা থেকে আমার উপলব্ধি একটাই—শুধু রাস্তা বড় করলেই হবে না, সেই রাস্তা দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনাও করতে হবে। উন্নয়ন তখনই অর্থবহ, যখন মানুষ দ্রুত, নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। অন্যথায় কোটি কোটি টাকার অবকাঠামোও মানুষের কাছে কাঙ্ক্ষিত সুফল এনে দিতে পারে না।
সিলেটের মানুষ আর নতুন প্রতিশ্রুতি নয়; সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন, কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতা এবং বাস্তব ফলাফল দেখতে চায়। উন্নয়নের প্রকৃত মূল্য তখনই, যখন তা মানুষের জীবনকে সহজ করে—আরও কঠিন নয়।