Rakib Ahmed

Rakib Ahmed Assalamualaikum, I am Md Rakib Ahmed. I am a Diploma in Electrical Engineer. You all will follow the page. Thanks everyone.
(7)

On this page of mine, current events and various engineering topics will be discussed and shared, Inshallah.

 #নিষিদ্ধ_রাতের_পবিত্রতা Rakib Ahmed  # # # **৪র্থ পর্ব: ভাগ্যের চাকা ও হাসপাতালের সাক্ষাৎ**বাগানবাড়ির সেই রাতের পর বেশ ...
21/06/2026

#নিষিদ্ধ_রাতের_পবিত্রতা
Rakib Ahmed
# # # **৪র্থ পর্ব: ভাগ্যের চাকা ও হাসপাতালের সাক্ষাৎ**
বাগানবাড়ির সেই রাতের পর বেশ কিছুদিন কেটে গেছে। মাহবুব নিজেকে নতুন করে গুছিয়ে নিয়েছে। মেঘলার সেই নোংরা প্রতারণা আর বিষাক্ত অধ্যায়টি সে নিজের জীবন থেকে চিরতরে মুছে ফেলেছে। এখন তার পুরো মনোযোগ বাবার বিশাল ব্যবসা 'আহমেদ গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজ'-এর ওপর। কিছুদিন পরেই সে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিরেক্টরের চেয়ারে বসবে।
মাহবুবের পরিবারে এখন আনন্দের হাওয়া। বিশেষ করে তার একমাত্র ছোট বোন সিনথিয়া, যে এই বছর কলেজে উঠেছে, তাকে নিয়ে পুরো পরিবার মেতে থাকে। মাহবুব তার এই আদরের বোনটিকে নিজের প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসে।
সেদিন দুপুরবেলা। আকাশটা সকাল থেকেই কিছুটা মেঘলা ছিল। সিনথিয়া কলেজ শেষ করে হেঁটে রাস্তার ওপাড়ে থাকা নিজের গাড়ির দিকে যাচ্ছিল। কানে হেডফোন গোঁজা থাকায় সে খেয়ালই করেনি যে পেছন থেকে একটা বেপরোয়া গতির রিকশা তীব্র বেগে তার দিকেই ধেয়ে আসছে। রিকশাচালক চিৎকার করে ব্রেক চাপার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।
"এই মেয়ে, সরো! সামনে থেকে সরো!" চারপাশের মানুষের চিৎকারে সিনথিয়া চমকে তাকাল, কিন্তু ভয়ে সে রাস্তার মাঝখানেই জমে গেল। রিকশাটি যখন তার থেকে মাত্র ইঞ্চিখানেক দূরে, ঠিক তখনই এক বোরকা পরা তরুণী চিতাবাঘের মতো ছুটে এসে সিনথিয়াকে জড়িয়ে ধরে রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ল।
রিকশাটি তাদের পাশ কাটিয়ে চলে গেল। সিনথিয়া পিচঢালা রাস্তায় পড়ার কারণে হাত-পায়ে সামান্য চোট পেলেও এক বড়সড় নিশ্চিত দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে গেল। কিন্তু যে মেয়েটি তাকে বাঁচাল, তার কনুই কেটে রক্ত বের হতে শুরু করেছে। মেয়েটি নিজের ব্যথার তোয়াক্কা না করে দ্রুত সিনথিয়াকে টেনে তুলল এবং ব্যস্ত গলায় জিজ্ঞেস করল, "তুমি ঠিক আছ তো বোন? কোথাও বেশি লেগেছে?"
সিনথিয়া কাঁপতে কাঁপতে বলল, "আ... আমি ঠিক আছি। কিন্তু আপনার হাত থেকে তো রক্ত পড়ছে!"
মেয়েটি নিজের ওড়না দিয়ে রক্তটা চেপে ধরে বলল, "ও কিছু না। চলো, আগে তোমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই।"
মেয়েটি কোনো ঝুঁকি না নিয়ে সিনথিয়াকে নিয়ে কাছের একটি বড় হাসপাতালে চলে এলো। জরুরি বিভাগে সিনথিয়ার প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মেয়েটি তাকে একটি কেবিনে বসাল। তারপর সিনথিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল, "তোমার বাসায় একটা ফোন দেওয়া দরকার। তোমার আম্মু বা আব্বুর নম্বরটা দাও, আমি কথা বলছি।"
সিনথিয়া ব্যাগ থেকে তার ফোনটা বের করতে গিয়ে দেখল স্ক্রিনটা ভেঙে বন্ধ হয়ে গেছে। সে ভয়ার্ত গলায় বলল, "আমার ফোনটা তো নষ্ট হয়ে গেছে। আপনি প্লিজ আমার ভাইয়ের নম্বরে একটা কল দিন।" এই বলে সে মাহবুবের নম্বরটি মুখস্থ বলল।
মেয়েটি নিজের পুরনো বাটন ফোন থেকে সেই নম্বরে ডায়াল করল।
এদিকে অফিসে বসে একটি জরুরি ফাইল দেখছিল মাহবুব। হঠাৎ একটি অপরিচিত নম্বর থেকে কল আসতেই সে রিসিভ করল, "হ্যালো, কে বলছেন?"
ওপাশ থেকে এক নারীর কাঁপা অথচ চেনা কণ্ঠস্বর ভেসে এলো, "হ্যালো, আপনি কি সিনথিয়ার ভাই মাহবুব সাহেব বলছেন? সিনথিয়া রাস্তায় একটা ছোটখাটো এক্সিডেন্ট করেছিল। আমি তাকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। তবে ভয়ের কিছু নেই, ও এখন সুস্থ আছে।"
"কী!"
বোনের এক্সিডেন্টের কথা শুনে মাহবুবের হাতের কলমটা মেঝেতে পড়ে গেল। তার পায়ের তলা থেকে যেন মাটি সরে গেল। সে আর এক সেকেন্ডও অপেক্ষা করল না। বসের চেয়ার ছেড়ে সে পাগলের মতো লিফটের দিকে ছুটল। গাড়ি নিয়ে তীব্র গতিতে হর্ন বাজাতে বাজাতে সে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হলো। তার পুরো শরীর তখন উদ্বেগে কাঁপছিল।
হাসপাতালে পৌঁছে সে কাউন্টার থেকে কেবিন নম্বর জেনে দ্রুত দোতলার কেবিনে প্রবেশ করল। কেবিনের বিছানায় সিনথিয়াকে অক্ষত অবস্থায় বসে থাকতে দেখে মাহবুবের হাড়ের ভেতর যেন জান ফিরে এলো। সে দ্রুত গিয়ে বোনকে বুকে জড়িয়ে ধরল, "সিনথিয়া! তুই ঠিক আছিস তো মা? কোথায় লেগেছে তোর?"
সিনথিয়া মাহবুবের বুকে মুখ লুকিয়ে বলল, "আমি ভালো আছি ভাইয়া। শুধু পায়ে একটু ছিলে গেছে। আমাকে যে আপুটা বাঁচিয়েছে, সে যদি ঠিক সময়ে ধাক্কা না দিত, তবে আজ আমি আর বাঁচতাম না।"
মাহবুব স্বস্তির দীর্ঘশ্বাস ফেলল। এরপর সে কেবিনের দায়িত্বে থাকা ডাক্তারের সাথে কথা বলল। ডাক্তার তাকে আশ্বস্ত করে বললেন, "ভয়ের কিছু নেই। হালকা চোট লেগেছে, ব্যান্ডেজ করে দেওয়া হয়েছে। আজকে বিকেলেই ওনাকে আপনারা বাসায় নিয়ে যেতে পারবেন। তবে ওনাকে যে মেয়েটি হাসপাতালে এনেছে, সে সত্যিই খুব সাহসী আর দায়িত্বশীল।"
মাহবুব ডাক্তারকে ধন্যবাদ জানিয়ে কেবিন থেকে বের হয়ে হাসপাতালের লম্বা বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল। তার মনের ভেতরের উদ্বেগ এখন অনেকটাই শান্ত। সে পকেট থেকে রুমাল বের করে কপালের ঘাম মুছল এবং ওপরের মেঘলা আকাশের দিকে তাকিয়ে একটা লম্বা শ্বাস নিল।
ঠিক তখনই, তার ঠিক পাশটিতে এসে দাঁড়াল এক বোরকা পরা অবয়ব। মেয়েটির সারা শরীর কালো বোরকায় ঢাকা, মুখটা নিকাবে আবৃত—শুধু চোখের দুটো মণি বাইরে বের হয়ে আছে। মেয়েটি একটু সময় নিয়ে, খুব নিচু এবং দ্বিধামাখা গলায় প্রশ্ন করল, "আমাকে চিনতে পারেননি?"
মাহবুব মেয়েটির দিকে একবার তাকাল। বোরকা আর নিকাব পরা থাকায় সে প্রথম দেখায় চিনতে পারল না। সে কিছুটা লজ্জিত হয়ে মাথা নেড়ে বলল, "দুঃখিত, ঠিক চিনতে পারলাম না। আপনিই কি আমার বোনকে বাঁচিয়েছেন?"
মেয়েটি আলতো করে তার ফর্সা হাত দিয়ে মুখের নিকাবটি নিচের দিকে নামিয়ে দিল।
নিকাব সরতেই মাহবুবের চোখের সামনে ভেসে উঠল সেই অতি চেনা, মায়াবী আর নিখুঁত সুন্দর মুখ—যা সে কোনোদিন ভুলতে পারবে না। এ তো বাগানবাড়ির সেই রহস্যময়ী মেয়ে! যার চোখের জল সেদিন তাকে এক কালরাত্রির পাপ থেকে বাঁচিয়েছিল।
"আমি সেদিনের সেই মেয়ে... যাকে আপনি নিজের বাসায় নিয়ে গিয়েছিলেন এবং মায়ের অপারেশনের জন্য এক লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন।" মেয়েটির ঠোঁটের কোণে এবার এক চরম কৃতজ্ঞতা আর স্বস্তির হাসি ফুটে উঠল।
মাহবুব অবাক চোখে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে রইল। তার চোখ দুটো বিস্ময়ে বড় বড় হয়ে গেল। তার নিজের জীবনের সবচেয়ে প্রিয় জিনিস, তার একমাত্র আদরের ছোট বোনকে এই মেয়েটিই আজ নিজের জীবন বাজি রেখে বাঁচিয়েছে! মাহবুবের বুকটা এক অদ্ভুত এক কৃতজ্ঞতায় ভরে গেল। সে বলল, "তুমি! আমার বোনকে তুমি বাঁচিয়েছ?
ভাগ্য আমাদের এভাবে আবার মেলাবে আমি ভাবিনি। আমি তোমাকে কীভাবে ধন্যবাদ দেব বুঝতে পারছি না।"
মেয়েটি মৃদু হেসে বলল, "ধন্যবাদ দিতে হবে না। সেদিন আপনি এক লক্ষ টাকা না দিলে আমার মা আজ বেঁচে থাকত না। আজ আপনার বোনকে বিপদে দেখে আমি আর স্থির থাকতে পারিনি। আমার মনে হচ্ছে, ঈশ্বর আমাকে সুযোগ দিয়েছেন আপনার ঋণের সামান্য হলেও শোধ করার। আমার মা এখন একদম ভালো আছেন, অপারেশন পুরোপুরি সাকসেসফুল হয়েছে। হয়তো কালই ওনাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দিয়ে দেবে।"
মেয়েটির এই নিঃস্বার্থ মন, সততা আর সরলতা দেখে মাহবুব মনে মনে তার প্রতি এক তীব্র এবং গভীর কৌতূহল অনুভব করতে লাগল। সে জিজ্ঞেস করল, "আচ্ছা, তোমার নামটাই তো সেদিন জানা হয়নি। তোমার নাম কী?"
মেয়েটি মাথা নিচু করে লাজুক গলায় বলল, "আয়শা।"
"চমৎকার নাম," মাহবুব বলল। "তা আয়শা, তুমি না তখন একটা চাকরি খুঁজছিলে? কোনো কাজ পেয়েছ কি?"
আয়শা ম্লান মুখে মাথা নাড়ল, "না স্যার, এখনো কোনো কাজ পাইনি। এই বাজারে পড়াশোনা শেষ করেও একটা সাধারণ চাকরি পাওয়া খুব কঠিন হয়ে গেছে।"
মাহবুব আর এক মুহূর্তও ভাবল না। সে তার পকেট থেকে নিজের একটি পার্সোনাল এক্সক্লুসিভ বিজনেস কার্ড বের করে আয়শার নরম হাতের মুঠোয় গুঁজে দিল। কার্ডটিতে সোনালী অক্ষরে রাজকীয়ভাবে খোদাই করে লেখা—'মাহবুব আহমেদ, ডিরেক্টর, আহমেদ গ্রুপ অফ行业 (Group of Industries)'।
মাহবুব আয়শার চোখের দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী গলায় বলল, "আগামী শনিবার ঠিক সকাল দশটায় এই কার্ডটি নিয়ে আমাদের প্রধান অফিসে এসো। সেখানে নতুন কর্মচারীদের ইন্টারভিউ নেওয়া হবে। তুমিও ইন্টারভিউ দিও, হয়তো তোমার একটা ভালো চাকরি হয়ে যেতে পারে।"
আয়শা কার্ডটির দিকে তাকিয়ে পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে গেল। ঢাকা শহরের সবচেয়ে বড় এবং প্রভাবশালী কোম্পানি 'আহমেদ গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজ'-এর মালিকের একমাত্র ছেলে স্বয়ং মাহবুব! অথচ সেদিন সে কত সাধারণ একটা গাড়ি নিয়ে ঘুরছিল এবং এত বড় লোক হওয়া সত্ত্বেও তার মনে বিন্দুমাত্র অহংকার নেই, এক রাতের দেহোপজীবীকে সে বোন বলে এক লক্ষ টাকা দিয়ে সাহায্য করেছিল!
আয়শা কার্ডটি বুকে চেপে ধরে কৃতজ্ঞ চোখে মাহবুবের দিকে তাকিয়ে রইল, আর মাহবুবের মনে হতে লাগল—এই মেয়েটির সাথে তার জীবনের গল্পটা হয়তো এখানেই শেষ হওয়ার নয়।

 #আমার_এক_আকাশ_ভালোবাসা Rakib Ahmed অধ্যায়–৭: নতুন শুরু, অচেনা অস্থিরতাঢাকার সেই চেনা সকালটা আজ একটু অন্যরকম।কলেজে ভর্ত...
21/06/2026

#আমার_এক_আকাশ_ভালোবাসা
Rakib Ahmed

অধ্যায়–৭: নতুন শুরু, অচেনা অস্থিরতা

ঢাকার সেই চেনা সকালটা আজ একটু অন্যরকম।

কলেজে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি চলছে দুই বাড়িতেই। নতুন ব্যাগ, নতুন বই, নতুন ইউনিফর্ম—সবকিছুতেই একটা পরিবর্তনের গন্ধ।

কিন্তু এই পরিবর্তনের ভেতরে সবচেয়ে বেশি বদলাচ্ছে দু’জন মানুষ—

আদনান আর আদ্রিতা।

---

সকালে গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে আদনান রহমান।

হাতে নতুন কলেজ ব্যাগ, চোখে অদ্ভুত উত্তেজনা।

আজ তার জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।

---

পেছন থেকে পরিচিত কণ্ঠ।

“ব্যাগটা ঠিক করে নে।”

আদনান ঘুরে তাকাল।

আদ্রিতা রহমান।

হাতে পানি, আর চোখে সেই চিরচেনা কঠোরতা।

---

সে এগিয়ে এসে ব্যাগের স্ট্র্যাপ ঠিক করে দিল।

“এভাবে ঝুলে থাকলে অস্বস্তি হবে।”

---

আদনান একটু হেসে বলল,

“তুমি কলেজে যাবে না?”

---

আদ্রিতা শান্ত গলায় বলল,

“যাব।”

---

“একই সময়?”

---

আদ্রিতা মাথা নাড়ল।

“হ্যাঁ।”

---

আদনানের মুখে অজানা এক স্বস্তি।

“ভালো লাগছে…”

---

এই কথাটা শুনে আদ্রিতা একটু থমকে গেল।

“কেন?”

---

আদনান সহজভাবে বলল,

“তুমি থাকলে… সব ঠিক লাগে।”

---

এক মুহূর্ত নীরবতা।

---

আদ্রিতা চোখ সরিয়ে নিল।

তারপর খুব আস্তে বলল,

“সবসময় আমাকে দেখে অভ্যস্ত হয়ে যাস না।”

---

আদনান অবাক।

“কেন বলছো এসব?”

---

আদ্রিতা কিছু বলল না।

শুধু সোজা দাঁড়িয়ে রইল।

---

---

কলেজের প্রথম দিন

কলেজের বড় গেট।

নতুন মানুষ, নতুন পরিবেশ, নতুন কোলাহল।

আদনান চারপাশে তাকাচ্ছে।

তার পাশে হাঁটছে আদ্রিতা।

---

হঠাৎ কয়েকজন ছেলে-মেয়ে তাদের দিকে তাকাল।

ফিসফিস শুরু হলো।

“ওরা ভাই-বোন নাকি?”
“কিন্তু একসাথে এত সিরিয়াস কেন?”

---

আদনান অস্বস্তি অনুভব করল।

কিন্তু আদ্রিতা একবারও কারও দিকে তাকাল না।

সে শুধু সামনে হাঁটছে।

---

“তুমি আমার পাশে থাকো।”

আদনান হঠাৎ বলল।

---

আদ্রিতা থেমে গেল।

“কেন?”

---

আদনান একটু লজ্জা পেয়ে বলল,

“ভালো লাগে।”

---

এই কথাটা শোনার পর আদ্রিতার চোখে এক মুহূর্তের জন্য নরমতা এল।

কিন্তু সে কিছু বলল না।

শুধু বলল,

“চুপচাপ হাঁট।”

---

---

ক্লাসরুমের ভেতর

নতুন ক্লাস, নতুন মুখ।

আদনান বসে আছে।

তার চোখ দরজার দিকে।

---

কিছুক্ষণ পর দরজা খুলল।

আদ্রিতা ঢুকল।

---

আদনানের মুখে হালকা হাসি ফুটে উঠল।

সে নিজেই বুঝতে পারল না—কেন।

---

ক্লাস শেষের বিরতিতে—

আদনান বলল,

“তুমি সব ক্লাসে আমার দিকে তাকাবে?”

---

আদ্রিতা ভ্রু কুঁচকে বলল,

“কেন?”

---

আদনান মৃদু হেসে বলল,

“না তাকালে আমি অস্বস্তি পাই।”

---

এই কথাটা শুনে আদ্রিতা একটু চুপ রইল।

তারপর খুব স্বাভাবিক গলায় বলল,

“তুই ছোট বাচ্চা না, আদনান।”

---

কিন্তু তার চোখে ছিল অন্য কিছু।

---

---

বিকেল

কলেজ থেকে ফেরার পথে।

আদনান হঠাৎ থেমে গেল।

“আপু…”

---

আদ্রিতা ঘুরে তাকাল।

“কি?”

---

আদনান একটু দ্বিধা করে বলল,

“আজকে আমার দিনটা ভালো ছিল।”

---

আদ্রিতা কিছু বলল না।

---

আদনান আবার বলল,

“কারণ তুমি ছিলে।”

---

এইবার আদ্রিতা থেমে গেল।

তার চোখে অজানা এক আবেগ।

---

সে খুব আস্তে বলল,

“আমি সব সময় থাকব না… কিন্তু যতদিন থাকব, তোর দিন খারাপ হতে দেব না।”

---

আদনান হাসল।

“তাহলে আমি খুশি।”

---

আর সেই মুহূর্তে—

প্রথমবারের মতো কলেজ জীবনের ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে—

দু’জনের সম্পর্ক একটু বদলাতে শুরু করল।

শাসন থেকে অভ্যাসে।

আর অভ্যাস থেকে নির্ভরশীলতায়।

---

চলবে…

 #নিষিদ্ধ_রাতের_পবিত্রতা Rakib Ahmed  # # # **৩য় পর্ব: পবিত্র চুমু ও বিদায়**সোফায় বসে থাকা মাহবুবের দিকে আয়শা এক অদ্ভুত ...
21/06/2026

#নিষিদ্ধ_রাতের_পবিত্রতা
Rakib Ahmed
# # # **৩য় পর্ব: পবিত্র চুমু ও বিদায়**
সোফায় বসে থাকা মাহবুবের দিকে আয়শা এক অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। তার চোখ দুটো এখনো ভেজা, কিন্তু সেই চোখে এখন ভয়ের বদলে তীব্র বিস্ময়। এই নিষ্ঠুর, পঙ্কিল শহরে পুরুষ মানুষকে সে চেনে কেবলই শিকারি হিসেবে। অথচ এই অন্ধকার রাতে, একটা ফাঁকা ঘরের ভেতর সর্বময় ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও এই যুবকটি নিজেকে সরিয়ে নিল শুধু তার চোখের জল দেখে।
আয়শা নিজের জায়গায় শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। সে মাথা নেড়ে অত্যন্ত দৃঢ় কিন্তু ভাঙা গলায় বলল, "না, আমি কাজ না করে কোনো টাকা নিতে পারব না। আমি পরিস্থিতির শিকার হতে পারি, কিন্তু আমি ভিক্ষা করতে এখানে আসিনি। আমার আত্মসম্মান এখনো মরে যায়নি।"
মেয়েটির মুখের এই কথাগুলো মাহবুবের বুকে গিয়ে আঘাত করল। যে মেয়েটি নিজের শরীর বিক্রি করতে এসেছে, তার ভেতরেও এত বড় আত্মসম্মানবোধ লুকিয়ে আছে? মাহবুবের মনে আয়শার প্রতি এক গভীর শ্রদ্ধা আর সমবেদনা জেগে উঠল।
সে নরম গলায় জিজ্ঞেস করল, "তোমার টাকার এত কী প্রয়োজন বলো তো? আমাকে খুলে বলতে পারো। তোমাকে আমি অন্যভাবেও সাহায্য করতে পারি। এভাবে নিজেকে শেষ করার কোনো মানে হয় না।"
ঠিক তখনই আয়শার বোরকার পকেটে থাকা পুরনো বাটন ফোনটা উচ্চশব্দে বেজে উঠল। হাসপাতালের এই চেনা নম্বরটি দেখে আয়শা তাড়াহুড়ো করে ফোনটা কানে তুলল। ওপাশ থেকে ডাক্তারের গম্ভীর কণ্ঠস্বর ভেসে এলো। ডাক্তারের কথা শুনতে শুনতে আয়শার চোখ দিয়ে আবার অঝোরে পানি পড়তে লাগল। সে আর নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারল না। ফোনের ওপাশেই কেঁদে ফেলে আকুতি করতে লাগল, "ডাক্তার বাবু, আমি টাকার ব্যবস্থা করছি! আর আধা ঘণ্টার মধ্যে আমি হাসপাতালে আসছি। দয়া করে আমার মায়ের অপারেশনটা বন্ধ করবেন না, আমি হাত জোড় করছি আপনার কাছে!"
ফোনটা কেটে আয়শা আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। সে দেয়ালের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল। তার দুই হাতে মুখ ঢেকে সে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল। তার পুরো শরীরটা তখন কাঁপছিল।
মাহবুব আর এক মুহূর্তও সোফায় বসে থাকতে পারল না। সে দ্রুত সোফা থেকে নেমে আয়শার সামনে গিয়ে মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসল। সে অত্যন্ত শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করল, "কী হয়েছে? কাঁদছ কেন? তোমার মায়ের কী হয়েছে?"
আয়শা কাঁদতে কাঁদতেই মুখ তুলে তাকাল। তার মায়াবী মুখটা তখন চোখের জলে ভেসে গেছে। সে বলল, "আমার মা... আমার মা হাসপাতালে ভর্তি। আজ রাতেই মায়ের অ্যাপেন্ডিসাইটিস অপারেশন করতে হবে। ডাক্তাররা বলেছে এক লক্ষ টাকা না দিলে অপারেশন থিয়েটারে নেবে না। আমার কাছে কোনো টাকা নেই। আত্মীয়-স্বজন কেউ সাহায্য করেনি। কোনো উপায় না পেয়ে আমি আজ প্রথমবার রাস্তায়..."
কথাটা শেষ করতে পারল না আয়শা, লজ্জায় আর ক্ষোভে তার মাথা নিচু হয়ে গেল।
মাহবুবের বুকটা চড়াত করে উঠল। এই নিষ্পাপ মেয়েটি নিজের আম্মুর জীবন বাঁচাতে আজকে নিজের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ—নিজের সম্ভ্রম বিসর্জন দিতে এই কালরাত্রিতে রাস্তায় নেমেছিল! মাহবুবের নিজের মায়ের কথা মনে পড়ে গেল। সে আর এক সেকেন্ডও নষ্ট করল না। সে দ্রুত তার পকেটে হাত দিল, কিন্তু তার পার্সে এত ক্যাশ ছিল না। সে পাশে রাখা তার অফিসিয়াল ব্যাগ থেকে এক লক্ষ টাকার একটি চেকবই বের করল। কলম দিয়ে দ্রুত এক লক্ষ টাকা লিখে নিজের স্বাক্ষর বসিয়ে চেকটি আয়শার দিকে এগিয়ে দিল।
আয়শা চেকটির দিকে তাকিয়ে স্তব্ধ হয়ে গেল। সে মাথা নেড়ে বলল, "না, না! আমি এত টাকা আপনার থেকে এমনি এমনি নিতে পারব না। আমি আপনার কোনো কাজই করতে পারিনি। এই টাকা আমার জন্য পাপের টাকা হবে।"
মাহবুব এবার মৃদু হাসল। তার হাসিতে কোনো কুৎসিত ভাব ছিল না, ছিল এক স্বর্গীয় পবিত্রতা। সে আয়শার খুব কাছে এগিয়ে এলো। আয়শার ফর্সা কপালে এক গোছা চুল অবাধ্য হয়ে এসে পড়েছিল। মাহবুব অত্যন্ত যত্নে, আলতো করে সেই চুলগুলো সরিয়ে দিল। তারপর কোনো রকম কামনার ছোঁয়া ছাড়া, অত্যন্ত পবিত্রভাবে আয়শার কপালে নিজের ঠোঁট দুটো ছোঁয়াাল। এক দীর্ঘ, শান্ত এবং পবিত্র ভালোবাসার চুমু।
চুমু দিয়ে কিছুটা পিছিয়ে এসে মাহবুব আয়শার চোখের জল মুছে দিয়ে বলল, "যাও, তোমাকে আমি এই কপালে একটা চুমু দেওয়ার জন্যই আজ রাতে পঞ্চাশ হাজার নয়, এক লক্ষ টাকা দিয়ে কিনে নিয়ে এসেছিলাম। এখন এই চেকটা ধরো। এটা কোনো পাপের টাকা নয়, এটা একটা ভাইয়ের তরফ থেকে তোমার মায়ের চিকিৎসার সাহায্য। এবার দ্রুত হাসপাতালে যাও, তোমার মায়ের অপারেশন করাতে হবে।"
আয়শা অবিশ্বাস্য এবং ঘোর লাগা চোখে মাহবুবের দিকে তাকিয়ে রইল। এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে এমন দেবতাতুল্য কোনো পুরুষ থাকতে পারে, তা সে কখনো কল্পনাও করেনি। সে চেকটা দুই হাতে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরল। তার চোখ দিয়ে তখন কৃতজ্ঞতার অশ্রু ঝরছিল। সে মাহবুবের দিকে তাকিয়ে এক মুহূর্তের জন্য থামল, তারপর বোরকাটা ঠিক করে দ্রুত পায়ে বাগানবাড়ি থেকে বেরিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হলো।
মাহবুব জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। মেয়েটি চলে যাচ্ছে। রাতের অন্ধকার কেটে তখন ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। মাহবুব একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। মেঘলার দেওয়া অপমানের ক্ষতটা যেন এই মেয়েটির পবিত্র চোখের জল আর কৃতজ্ঞতার হাসিতে এক নিমেষেই ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গেল।

 #আমার_এক_আকাশ_ভালোবাসা Rakib Ahmed অধ্যায়–৬: বদলে যাওয়া দিনগুলোঢাকার সেই পরিচিত বাড়ি দুটোতে এখন আর শুধু শৈশব নেই—ধীর...
21/06/2026

#আমার_এক_আকাশ_ভালোবাসা
Rakib Ahmed

অধ্যায়–৬: বদলে যাওয়া দিনগুলো

ঢাকার সেই পরিচিত বাড়ি দুটোতে এখন আর শুধু শৈশব নেই—ধীরে ধীরে বড় হওয়ার ছায়া পড়তে শুরু করেছে।

স্কুল জীবন শেষের পথে। সামনে কলেজের প্রস্তুতি। আর সেই সঙ্গে বদলে যাচ্ছে দু’জনের সম্পর্কের অদৃশ্য টানও।

---

সকালটা আজ একটু ব্যস্ত।

ড্রয়িংরুমে বসে আছেন দুই পরিবার।

চা-নাস্তা চলছে, কিন্তু আলোচনার বিষয়টা অন্যরকম।

“কলেজটা ঠিক করে ফেলতে হবে।”
আরিফ রহমান বললেন।

আসিফ রহমান মাথা নাড়লেন।

“হ্যাঁ, ভালো কলেজে না দিলে পরে সমস্যা হবে।”

---

কোণার সোফায় বসে আছে আদনান রহমান।

তার হাতে মোবাইল, কিন্তু মন নেই সেখানে।

সে শুধু চুপচাপ শুনছে।

তার চোখ মাঝে মাঝে দরজার দিকে যাচ্ছে।

---

আর ঠিক তখনই দরজা দিয়ে ঢুকল আদ্রিতা রহমান।

হাতে ফাইল, মুখে স্বাভাবিক কঠোরতা।

কিন্তু চোখে এক অদ্ভুত ক্লান্তি।

---

আদনান এক মুহূর্তেই সোজা হয়ে বসল।

যেন তার ভেতরের কোনো অস্থিরতা শান্ত হয়ে গেল।

---

আদ্রিতা সবাইকে সালাম দিল।

তারপর চুপচাপ পাশে বসে পড়ল।

---

আরিফ রহমান বললেন,

“আদ্রিতা, তুমি আর আদনান—একই কলেজে ভর্তি হও।”

---

এক মুহূর্তের জন্য ঘরটা থেমে গেল।

---

আদনান চমকে তাকাল।

“একই কলেজ?”

তার কণ্ঠে অবাকতা।

---

আদ্রিতা চোখ তুলল।

কিছু বলল না।

শুধু হালকা মাথা নাড়ল।

---

আদনানের মুখে অজানা এক অনুভূতি।

ভয় না, আনন্দ না—মাঝামাঝি কিছু একটা।

---

বিকেল।

উঠোনে দুইজন একসাথে দাঁড়িয়ে।

বাতাস ধীরে ধীরে বইছে।

---

আদনান বলল,

“আপু… আমরা একই কলেজে যাব?”

---

আদ্রিতা শান্ত গলায় বলল,

“হ্যাঁ।”

---

আদনান একটু থেমে বলল,

“তাহলে তুমি তো সবসময় আমার পাশে থাকবে…”

---

এই কথাটা শুনে আদ্রিতা এক সেকেন্ড চুপ রইল।

তারপর ধীরে ধীরে বলল,

“সবসময় না।”

---

আদনান অবাক হলো।

“কেন?”

---

আদ্রিতা চোখ সরিয়ে বলল,

“কারণ জীবন সবসময় একই জায়গায় থাকে না।”

---

এই কথাটা আদনানের ভেতরে অদ্ভুত অস্থিরতা তৈরি করল।

---

সন্ধ্যা।

আদনান রুমে বসে আছে।

হাতে বই, কিন্তু পড়া হচ্ছে না।

তার মাথায় শুধু একটা কথাই ঘুরছে—

“সবসময় না…”

---

ঠিক তখন দরজায় টোকা পড়ল।

“টক টক…”

---

আদনান তাকাল।

“কে?”

---

দরজা খুলে ঢুকল আদ্রিতা।

হাতে একটা নোটবুক।

---

সে চুপচাপ এসে টেবিলে বসে বলল,

“আজ পড়া হবে না?”

---

আদনান মাথা নাড়ল।

“মন নেই…”

---

আদ্রিতা একটু থেমে বলল,

“কেন?”

---

আদনান নিচু গলায় বলল,

“তুমি বলেছিলে… সবসময় থাকবে না।”

---

এই কথাটা শুনে আদ্রিতা থমকে গেল।

---

কয়েক সেকেন্ড পর সে ধীরে ধীরে বলল,

“আমি তোকে ছেড়ে কোথাও যাচ্ছি না।”

---

আদনান তাকাল।

“সত্যি?”

---

আদ্রিতা একটু কঠিন গলায় বলল,

“মিথ্যা বলার অভ্যাস নেই আমার।”

---

কিন্তু তার চোখ অন্য কথা বলছিল।

---

রাত।

সবাই ঘুমিয়ে গেছে।

কিন্তু জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আবারও সেই একই মেয়ে—

আদ্রিতা রহমান।

---

সে খুব আস্তে বলল,

“আমি যদি একদিন তোর থেকে দূরে যাই… তুই আমাকে খুঁজবি তো আদনান?”

---

তারপর নিজেই মাথা নাড়ল।

“না… তুই বুঝবি না।”

---

আর দূরে ঘুমিয়ে থাকা ছেলেটা জানে না—

যে মেয়েটা তার পুরো জীবনটা নিয়ন্ত্রণ করে,

সে আসলে নিজের জীবনটাই লুকিয়ে রাখছে।

---

চলবে…

 #নিষিদ্ধ_রাতের_পবিত্রতা Rakib Ahmed  # # # **২য় পর্ব: কালরাত্রির মুখোমুখি এবং তীব্র স্পর্শ**গাড়ি এসে থামল আহমেদ গ্রুপের...
20/06/2026

#নিষিদ্ধ_রাতের_পবিত্রতা
Rakib Ahmed
# # # **২য় পর্ব: কালরাত্রির মুখোমুখি এবং তীব্র স্পর্শ**
গাড়ি এসে থামল আহমেদ গ্রুপের নিজস্ব বাগানবাড়ির বিশাল লোহার গেটের সামনে। এই বাড়িটি সবসময় ফাঁকাই থাকে, শুধু একজন বিশ্বস্ত প্রবীণ কেয়ারটেকার ছাড়া কেউ থাকে না। মাহবুব হর্ন দিতেই কেয়ারটেকার দরজা খুলে দিল। মধ্যরাতে ছোট সাহেবকে এক বোরকা পরা তরুণীর সাথে গাড়ি থেকে নামতে দেখে সে কিছুটা অবাক হলেও মাহবুবের মুখের গম্ভীর ও থমথমে ভাব দেখে কোনো প্রশ্ন করার সাহস পেল না।
মাহবুব কেয়ারটেকারকে কড়া গলায় নির্দেশ দিল, "আজ রাতে আমি এখানে আছি। এই কথা যেন ভুলেও বাসার কেউ বা বাইরের কোনো মানুষ না জানে। তুমি এখন নিজের রুমে যাও।"
"জি ছোট সাহেব," কেয়ারটেকার মাথা নিচু করে চলে গেল।
মাহবুব মেয়েটির হাত ধরে টান দিয়ে দোতলার বিশাল মাস্টার বেডরুমে নিয়ে এলো। ঘরের দরজাটা বন্ধ করে লক করতেই এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা গ্রাস করল তাদের। রুমের সেন্ট্রাল এসিটার ঠান্ডা বাতাস শরীরে লাগলেও মাহবুবের বুকের ভেতর তখন মেঘলার দেওয়া অপমানের আগুন দাউদাউ করে জ্বলছিল। তার মাথায় তখন শুধু একটা কথাই ঘুরছিল—সে অপদার্থ নয়, সে নামপুরুষ নয়। নিজের পুরুষত্বকে প্রমাণ করার এক হিংস্র জেদ ভর করেছে তার ওপর।
সে আর এক মুহূর্তও অপেক্ষা করল না। এক তীব্র, অবাধ্য আকর্ষণে সে মেয়েটির দিকে এগিয়ে গেল। মেয়েটি কিছু বুঝে ওঠার আগেই মাহবুব তাকে দুহাতে জড়িয়ে ধরে নিজের শক্ত, চওড়া বুকের সাথে পিষে ফেলল।
হঠাৎ এই তীব্র স্পর্শে মেয়েটি শিউরে উঠল। তার পুরো শরীর কাঁপতে লাগল। সে অত্যন্ত নিচু ও কাঁপানো কণ্ঠে বলল, "শুরু করুন... আমার সময় খুব কম।"
মেয়েটির কণ্ঠস্বর মাহবুবের কানে পৌঁছালেও তার মস্তিস্ক তখন ক্ষোভে অন্ধ। সে কোনো উত্তর দিল না। মেয়েটি নিজেকে গুটিয়ে রাখার চেষ্টা করছিল, কিন্তু মাহবুব এক ঝটকায় মেয়েটির মুখের নিকাবটি সরিয়ে দিল। বোরকার কাপড়ের আড়াল থেকে বেরিয়ে এলো এক অপার্থিব সুন্দর মায়াবী মুখ। কিন্তু মাহবুবের সেদিকে তাকানোর তর সইছিল না। চার বছরের জমানো ক্ষোভ, অপমান আর তীব্র শারীরিক আকর্ষণ এক হয়ে তাকে তাড়া করছিল।
সে কোনো দ্বিধা না রেখে সরাসরি মেয়েটির নরম, পাপড়ির মতো ঠোঁট দুটো নিজের ঠোঁটের মাঝে বন্দি করে নিল। এক তৃষ্ণার্ত, গভীর ও তীব্র চুমু... যেখানে ভালোবাসার চেয়ে জেদ আর অধিকারবোধ ছিল বেশি। মেয়েটি নিজেকে ছাড়ানোর জন্য মাহবুবের বুকে আলতো ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করল, কিন্তু মাহবুবের শক্ত হাতের বাঁধন থেকে নড়ার শক্তি তার ছিল না। মাহবুব এক হাত দিয়ে মেয়েটির কোমর আরও শক্ত করে নিজের সাথে লেপ্টে ধরল।
ঠোঁটের সেই তীব্র উষ্ণতা শেষে মাহবুবের মুখ নেমে এলো মেয়েটির ফর্সা, নরম ঘাড়ের ওপর। সেখানে নিজের তপ্ত ঠোঁট ডুবিয়ে দিয়ে সে পাগলের মতো কিস করতে লাগল। তার প্রতিটি উষ্ণ ও তীব্র স্পর্শ মেয়েটির শরীরের চামড়ায় আগুনের মতো লাগছিল। মেয়েটি আর বাধা দিতে পারল না, সে চোখ বন্ধ করে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
কিন্তু ঠিক তখনই, ঘাড়ের ওপর তীব্রভাবে কিস করতে করতে মাহবুবের ঠোঁটে কেমন যেন একটা নোনতা জলের স্বাদ ঠেকল।
মুহূর্তের মধ্যে মাহবুবের ঘোর ভেঙে গেল। সে থমকে দাঁড়িয়ে মেয়েটির মুখ থেকে নিজের মুখ সরিয়ে নিল। ঘরের ডিম লাইটের আবছা আলোয় সে মেয়েটির মুখের দিকে তাকাল। মেয়েটি মূর্তির মতো স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু তার টানা টানা ডাগর চোখ দুটো বেয়ে অঝোরে জল গড়িয়ে পড়ছে। সেই অশ্রু কোনো কৃত্রিমতার ছিল না, তা ছিল এক চরম অসহায়ত্ব আর নিজের সম্মান বিলিয়ে দেওয়ার তীব্র কষ্টের জল।
মেয়েটির চোখের এই নীরব জল দেখে মাহবুবের বুকের ভেতরের সেই হিংস্র ইগো আর ক্ষোভটা যেন এক সেকেন্ডে স্তব্ধ হয়ে গেল। সে যেন হঠাৎ নিজের সেন্সে ফিরে এলো। তার মনে হলো, সে মেঘলার ওপর রাগ মেটাতে গিয়ে এক নিষ্পাপ, পবিত্র মেয়ের ওপর অত্যাচার করছে।
মাহবুব আলতো করে মেয়েটির কোমর থেকে নিজের হাত সরিয়ে নিল এবং অপরাধীর মতো দুই পা পিছিয়ে গেল। নিজের এই আচরণের জন্য লজ্জায় তার নিজেরই মাথা কাটা যাচ্ছিল। সে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মাথা নিচু করে বলল, "সরি... আসলে আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি। আমি দুঃখিত।"
আয়শা বোরকার ওড়না দিয়ে চোখ মুছে অবিশ্বাস্য চোখে মাহবুবের দিকে তাকাল। যে পুরুষটি একটু আগে তাকে পঞ্চাশ হাজার টাকায় পুরো রাতের জন্য কিনে এনেছে এবং এত তীব্রভাবে জড়িয়ে ধরেছিল, সে এখন এভাবে আফসোস করছে?
আয়শা বোরকার কাপড়টা টেনে নিজেকে একটু আড়াল করে কাঁপা গলায় বলল, "আপনি তো আমাকে কাজ করানোর জন্যই এখানে নিয়ে এসেছেন। তাহলে সরি বলছেন কেন? কাজ থাকলে তাড়াতাড়ি শেষ করুন... আমার সত্যিই খুব তাড়া আছে।"
মাহবুব মাথা নেড়ে সোফায় গিয়ে বসল এবং ক্লান্ত গলায় বলল, "না, আমার দ্বারা এই কাজ করা সম্ভব নয়। তুমি এক কাজ করো, তোমার টাকাটা নিয়ে তুমি এখন চলে যাও।"

 #আমার_এক_আকাশ_ভালোবাসা Rakib Ahmed অধ্যায়–৫: না বলা অভ্যাসঢাকার দুই বাড়ির উঠোনে আজ বিকেলের হাওয়াটা একটু আলাদা।গাছের ...
20/06/2026

#আমার_এক_আকাশ_ভালোবাসা
Rakib Ahmed

অধ্যায়–৫: না বলা অভ্যাস

ঢাকার দুই বাড়ির উঠোনে আজ বিকেলের হাওয়াটা একটু আলাদা।

গাছের পাতাগুলো নড়ছে ধীরে ধীরে, আর সূর্যটা পশ্চিমে হেলে পড়ছে।

কিন্তু সেই শান্ত বিকেলের মাঝেও কারো ভেতরে নেই শান্তি।

আদনান রহমান দাঁড়িয়ে আছে বারান্দার পাশে।

চোখে এক অদ্ভুত অপেক্ষা।

আজ স্কুল থেকে ফিরেই সে দাঁড়িয়ে আছে ঠিক সেই জায়গায়, যেখান থেকে গেটটা দেখা যায়।

যেন কোনো শব্দ আসলেই সে দৌড়ে যাবে।

---

“কি করছিস এখানে?”

পেছন থেকে কণ্ঠ।

আদনান ঘুরে তাকাল।

আদ্রিতা রহমান।

হাতে চাবি, মুখে একটু ক্লান্তি।

কিন্তু চোখে সেই চিরচেনা দৃঢ়তা।

---

আদনান একটু থেমে বলল,

“আমি… তোমার জন্য অপেক্ষা করছিলাম।”

---

এই কথাটা শুনে আদ্রিতা থেমে গেল।

চাবিটা হাতে ঘুরাতে ঘুরাতে সে ছেলেটার দিকে তাকাল।

“কেন?”

আদনান একটু লজ্জা পেয়ে গেল।

“আজ সকালে তুমি বলেছিলে না… ফিরবে।”

---

আদ্রিতা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।

তারপর হালকা গলায় বলল,

“তাহলে তো তুই সারাদিন এভাবেই দাঁড়িয়ে থাকবি?”

আদনান মাথা নিচু করল।

“না… আমি শুধু…”

সে থেমে গেল।

বলতে চাইল—

“তুমি না থাকলে আমার কিছু ভালো লাগে না।”

কিন্তু বলতে পারল না।

---

আদ্রিতা এগিয়ে এল।

তার হাতটা তুলে আদনানের কপালে রাখল।

“জ্বর নেই তো?”

আদনান চমকে উঠল।

“না…”

---

এই ছোট্ট স্পর্শ।

এই সামান্য যত্ন।

আদনানের ভেতরে যেন একটা অদ্ভুত শান্তি ছড়িয়ে দিল।

---

আদ্রিতা ধীরে ধীরে বলল,

“এভাবে অপেক্ষা করিস না।”

আদনান তাকাল।

“কেন?”

আদ্রিতা চোখ সরিয়ে নিল।

“কারণ অভ্যাস হয়ে গেলে কষ্ট বেশি হয়।”

---

এক মুহূর্ত।

বাতাস থেমে গেল।

আদনান বুঝল না কথাটার মানে।

কিন্তু আদ্রিতার চোখে একটা অজানা ছায়া ছিল।

---

সন্ধ্যা।

ঘরের ভেতর।

আদনান খাটে বসে আছে।

আর তার পাশে বসে আছে আদ্রিতা।

হাতে বই।

আজ পড়ানোর সময়েও তাদের মাঝে একটা অদ্ভুত নীরবতা।

---

আদনান হঠাৎ বলল,

“আপু…”

আদ্রিতা তাকাল।

“কি?”

আদনান একটু দ্বিধা করে বলল,

“তুমি যদি একদিন না থাকো… তাহলে?”

---

এই প্রশ্নে আদ্রিতা থেমে গেল।

তার কলম ধীরে ধীরে নিচে নামল।

---

কয়েক সেকেন্ড পর সে খুব শান্ত গলায় বলল,

“থাকব না কোথাও।”

---

আদনান সন্তুষ্ট হলো না।

“সবাই একদিন চলে যায়…”

---

এবার আদ্রিতা একটু কঠোর গলায় বলল,

“আমি সবাই না।”

---

এই কথাটা বলার পর সে আবার লিখতে শুরু করল।

কিন্তু তার হাতটা একটু কাঁপছিল।

---

রাত।

সবাই ঘুমিয়ে গেছে।

কিন্তু জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে আদ্রিতা।

বাইরে অন্ধকার।

ভেতরে নিস্তব্ধতা।

---

সে খুব আস্তে নিজে নিজে বলল,

“আমি তোকে ছাড়া থাকতে পারব না আদনান…”

তারপরই নিজের ঠোঁট কামড়ে ধরে থেমে গেল।

---

কিন্তু সে জানে না—

তার এই “অভ্যাস” একদিন শুধু অভ্যাস থাকবে না।

এটা হয়ে যাবে—

ভালোবাসা।

নীরব, গভীর, আর অপরিবর্তনীয় ভালোবাসা।

---

চলবে…

 #নিষিদ্ধ_রাতের_পবিত্রতা**Rakib Ahmed  # # # **১ম পর্ব: বিশ্বাসের মরণ ও বিষাক্ত অপবাদ**ঢাকার এক অভিজাত রেস্টুরেন্ট। চারপ...
19/06/2026

#নিষিদ্ধ_রাতের_পবিত্রতা**
Rakib Ahmed
# # # **১ম পর্ব: বিশ্বাসের মরণ ও বিষাক্ত অপবাদ**
ঢাকার এক অভিজাত রেস্টুরেন্ট। চারপাশের মৃদু আলো, ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজতে থাকা পিয়ানোর সুর আর সুস্বাদু খাবারের সুবাস সাধারণত যুগলদের মনে প্রেমের দোলা দেয়। কিন্তু রেস্টুরেন্টের এক কোণের টেবিলে যে পরিবেশ বিরাজ করছিল, তা ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। সেখানে বসে থাকা যুবকের বুকের ভেতর তখন এক প্রলয়ংকরী ঝড় বইছিল।
যুবকের নাম মাহবুব। আহমেদ গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের একমাত্র উত্তরাধিকারী সে। যে কোম্পানির নাম শুনলে এক ডাকে পুরো ঢাকা শহর চেনে। কিন্তু মাহবুবের চেহারায় বা পোশাকে সেই আভিজাত্যের কোনো অহংকার নেই। সে অত্যন্ত সাধারণ একটা শার্ট পরে বসে আছে, চোখে-মুখে এক অদ্ভুত সরলতা। কিন্তু আজ তার সেই চেনা শান্ত চোখ দুটো লাল হয়ে আছে, কপাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে বিন্দু বিন্দু ঘাম।
তার ঠিক মুখোমুখি বসে আছে মেঘলা। অত্যন্ত সুন্দরী, আধুনিকা এবং চতুর এক নারী। চার বছর ধরে মাহবুব এই মেয়েটিকে নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবেসে এসেছে, অন্ধের মতো বিশ্বাস করেছে। মেঘলাদের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না, তাই গত চার বছরে মেঘলা যখনই কোনো উসিলায় টাকা চেয়েছে, মাহবুব এক মুহূর্তও ভাবেনি। সে ভেবেছে, মেঘলা তো তারই হবু বউ, আজ যা তার, কাল তা মেঘলারই হবে। কিন্তু মাহবুব জানত না, এই নিষ্পাপ চেহারার আড়ালে মেঘলা ছিল এক চরম লোভী আর দুশ্চরিত্র মেয়ে।
টেবিলের ওপর নিজের হাত দুটো শক্ত করে মুষ্টিবদ্ধ করে রাখল মাহবুব। তার শরীর কাঁপছিল। সে পকেট থেকে নিজের ফোনটা বের করে লক খুলল। তারপর ফোনটা মেঘলার দিকে এগিয়ে দিয়ে অত্যন্ত শান্ত কিন্তু থমথমে গলায় বলল, "এই ছবিগুলো একটু দেখবে মেঘলা?"
মেঘলা কিছুটা বিরক্ত হয়ে বলল, "কী এসব মাহবুব? হঠাৎ গম্ভীর হয়ে কী দেখাচ্ছ?"
কথাটা বলতে বলতেই মেঘলা ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকাল। আর তাকানোর সাথে সাথেই তার পুরো মুখ মুহূর্তের মধ্যে ফ্যাকাশে হয়ে গেল, চোখের মণি দুটো স্থির হয়ে গেল। স্ক্রিনে ভেসে উঠেছে কয়েকটি স্পষ্ট ছবি। ঢাকার একটি নামী হোটেলের রুমের ভেতর মেঘলা অন্য একটি ছেলের কোলে ঘনিষ্ঠ হয়ে বসে আছে, তাদের ঠোঁট দুটো একে অপরের সাথে লেপ্টে আছে। চরম অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি। যেগুলো কিছুক্ষণ আগেই মাহবুব নিজের চোখে দেখে, জানলার বাইরে থেকে তুলে এনেছে।
মেঘলা ঢোক গিলে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করল। সে দ্রুত মুখে একটা কৃত্রিম হাসির মুখোশ পরে বলল, "এ... এগুলো কী মাহবুব? এগুলো তো সব ফেক, এডিট করা ছবি! আজকাল প্রযুক্তির যুগে কত কী করা যায়। কেউ তোমাকে আমাদের মধ্যে ঝামেলা লাগানোর জন্য ভুল বোঝাচ্ছে। তুমি আমাকে বিশ্বাস করো..."
**"চুপ কর তুই! একবারে চুপ কর!"**
মাহবুবের ভেতরের চার বছরের জমাট বাঁধা বিশ্বাস আর ভালোবাসা এক সেকেন্ডে ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। সে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। পুরো রেস্টুরেন্ট কাঁপিয়ে সে চিৎকার করে উঠল এবং আসন থেকে উঠে চোখের পলকে মেঘলার গালে এক সজোরে থাপ্পড় বসিয়ে দিল।
*ঠাস্!*
থাপ্পড়ের তীব্র শব্দে ক্যাফের মৃদু মিউজিকটাও যেন হঠাৎ স্তব্ধ হয়ে গেল। আশেপাশের টেবিলের মানুষজন খাওয়া থামিয়ে চমকে তাকাল তাদের দিকে।
মেঘলা নিজের গালে হাত দিয়ে অবিশ্বাস্য চোখে তাকাল মাহবুবের দিকে। চার বছরের চেনা শান্ত, নরম স্বভাবের মাহবুব যে কোনোদিন কারো গায়ে হাত তুলতে পারে, তা সে স্বপ্নেও ভাবেনি। মাহবুবের চোখ দিয়ে তখন টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়ছিল, কিন্তু সেই চোখে ছিল তীব্র ঘৃণা আর আগুন।
"তুই একটা নষ্ট মেয়ে, মেঘলা! একটা জঘন্য, চরিত্রহীন মেয়ে!" মাহবুবের কণ্ঠ রাগে কাঁপছিল। "আমার পবিত্র ভালোবাসার এই দাম দিলি তুই? তোকে নিজের হবু বউ ভেবে আমি মনে মনে কত স্বপ্ন সাজিয়েছি। তুই যখনই বলতি তোদের অবস্থা খারাপ, আমি নিজের পকেটের কথা না ভেবে তোকে লাখ লাখ টাকা দিয়েছি। আর তুই? তুই আমার টাকার ওপর দাঁড়িয়ে অন্য একটা ছেলের সাথে হোটেল রুমে বেড শেয়ার করছিস? নিজের চোখে দেখে আসার পরও তুই মিথ্যা বলছিস?!"
যখন মেঘলা দেখল সে হাতেনাতে ধরা পড়ে গেছে এবং ন্যাকামো করার আর কোনো পথ নেই, তখন তার মুখের সেই চেনা মায়াবী রূপটা এক সেকেন্ডে উধাও হয়ে গেল। সে গালে হাত রেখেই সোজা হয়ে দাঁড়াল। তার চোখে এখন আর কোনো ভয় নেই, বরং সেখানে ফুটে উঠল এক কুৎসিত, বিষাক্ত অহংকার। সে ঠোঁটের কোণে এক অবজ্ঞার হাসি ফুটিয়ে বলল:
"তো কী করব? চার বছরে একটা দিনও আমায় ছুঁয়ে দেখেছ? আজ পর্যন্ত একটা কিস করতে পেরেছ আমাকে? নাকি বুকে জড়িয়ে ধরার ক্ষমতা আছে তোমার? শুধু হাত ধরে রেস্টুরেন্টে ঘুরে বেড়ালেই কি প্রেম হয়? পুরুষত্ব বলতে কিছু আছে তোমার? নাকি তুমি আসলে একটা অপদার্থ, নামপুরুষ?!"
কথাগুলো ধারালো তীরের মতো এসে লাগল মাহবুবের বুকে। একজন পুরুষের চরিত্রে, তার পুরুষত্বে এর চেয়ে বড় এবং জঘন্য আঘাত আর কিছু হতে পারে না। মাহবুবের কান ঝাঁ ঝাঁ করে উঠল, মাথার ভেতর সবকিছু যেন শূন্য হয়ে গেল। সে মেঘলাকে সম্মান করত, তাকে পবিত্র মনে করত বলেই বিয়ের আগে কখনো তার শরীরে হাত দেয়নি—আর সেটাই আজ তার জীবনের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা আর অপবাদ হয়ে গেল?
মাহবুব আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়াল না। তীব্র অপমান, বুকের ভেতর এক চরম শূন্যতা আর ক্ষোভ নিয়ে সে রেস্টুরেন্ট থেকে হনহন করে বেরিয়ে এলো রাস্তায়। পেছনে পড়ে রইল তার চার বছরের মিথ্যে ভালোবাসার এক স্তূপ ছাই।
বুকের ভেতর এক জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি নিয়ে মাহবুব নিজের গাড়ি চালিয়ে বুড়িগঙ্গার এক নির্জন পাড়ে এসে বসল। নদীর কালো জলের দিকে তাকিয়ে সে একটার পর একটা সিগারেট জ্বালছিল, যা সে সাধারণ সময়ে কখনো খায় না। মেঘলার সেই বিষাক্ত কথাগুলো তার মাথায় হাতুড়ির মতো পিটছিল—*"পুরুষত্ব বলতে কিছু আছে তোমার? তুমি আসলে একটা অপদার্থ!"*
তার সরলতা, তার অমায়িক ব্যবহার কি তবে তার দুর্বলতা ছিল? এই নিষ্ঠুর শহরে তবে কি ভালো মানুষের কোনো দাম নেই?
নদীর পাড়ে বসে থাকতে থাকতে কখন যে সময় গড়িয়ে মধ্যরাত পার হয়ে গেছে, মাহবুবের খেয়ালই ছিল না। ঘড়িতে তখন রাত প্রায় দুটো। চারিদিক নিস্তব্ধ, ঢাকা শহর তখন ঘুমে আচ্ছন্ন। মাহবুব একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজের গাড়িটার দিকে এগিয়ে গেল। শরীর আর মন দুটোই ক্লান্ত, এখন বাসায় ফিরতে হবে।
গাড়ি স্টার্ট দিয়ে অন্ধকার, ফাঁকা ও নিস্তব
গাড়ি স্টার্ট দিয়ে অন্ধকার, ফাঁকা ও নিস্তব্ধ রাস্তা ধরে সে এগিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ হেডলাইটের আলোয় সে দেখতে পেল সামনে রাস্তার ধারে একটা অবয়ব দাঁড়িয়ে আছে। খুব সাবধানে, একটু জড়সড় হয়ে একটা মেয়ে হাত উঁচিয়ে গাড়ি থামানোর ইশারা দিচ্ছে।
এই গভীর রাতে, নির্জন রাস্তায় একটা মেয়েকে একাকী দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মাহবুব কিছুটা কৌতূহল এবং অবাক হয়ে ব্রেক কষল। সে গাড়ির কাচ নামাতেই মেয়েটি ধীর পায়ে জানলার কাছে এগিয়ে এলো। মেয়েটির সারা শরীর কালো বোরকায় ঢাকা, মুখটা নিকাবে আবৃত—শুধু চোখের দুটো মণি অন্ধকার রাতেও চেনা যাচ্ছিল না, তবে কেমন যেন এক ম্লান আলো ছিল তাতে।
মেয়েটি জানলার দিকে কিছুটা ঝুঁকে খুব নিচু, কাঁপানো গলায় প্রশ্ন করল, "কাজ করবেন?"
মাহবুব কিছুক্ষণ হা করে তাকিয়ে রইল। এই গভীর রাতে এমন একটা প্রশ্ন সে আশা করেনি। সে কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে বলল, "কিসের কাজ?"
মেয়েটি বোরকার আড়াল থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তার কণ্ঠস্বরে এক অদ্ভুত ক্লান্তি আর বিরক্তি। সে ম্লান গলায় বলল, "আপনি বোঝেন না? মধ্যরাতে একটা মেয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে পুরুষ মানুষকে কিসের কাজের কথা বলে?"
মুহূর্তেই মাহবুবের মাথায় যেন বজ্রপাত হলো। সে বুঝতে পারল মেয়েটি কোন কাজের কথা বলছে। সে একজন দেহোপজীবী, টাকার বিনিময়ে শরীর বিক্রি করতে এসেছে!
ঠিক সেই মুহূর্তেই মাহবুবের মনে পড়ে গেল কিছুক্ষণ আগে মেঘলার দেওয়া সেই চরম অপবাদ—"তোমার পুরুষত্ব বলতে কিছু আছে?"
মাহবুবের ভেতরের পুরুষালি ইগোটা হঠাৎ হিংস্র হয়ে উঠল। তার মনে হলো, আজ সে নিজেকে প্রমাণ করবে। তার ভেতরের জমে থাকা অপমান আর ক্ষোভটাকে শান্ত করার জন্য এই মেয়েটাই হয়তো এখন তার একমাত্র মাধ্যম। সে নিজের ভালো মানুষটার মুখোশ আজ রাতে খুলে ফেলতে চায়।
সে মেয়েটির চোখের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর, তপ্ত গলায় জিজ্ঞেস করল, "কত টাকা?"
মেয়েটি একটু থমকে গেল, হয়তো মাহবুবের গলার তীব্রতা দেখে সে কিছুটা ভয় পেয়েছে। সে নিজেকে শক্ত করে বলল, "পুরো রাত, নাকি এক ঘণ্টা?"
"পুরো রাত।" মাহবুবের সংক্ষিপ্ত ও ঠান্ডা উত্তর।
"পঞ্চাশ হাজার টাকা দিতে হবে।" মেয়েটির গলার স্বর এবার তীব্র কাঁপছিল।
মাহবুব অবাক হয়ে বলল, "কী বলো তুমি? পাগল হয়েছ? এক রাতের জন্য পঞ্চাশ হাজার টাকা?"
মেয়েটি নিকাবের আড়াল থেকেই যেন চোখ বন্ধ করল, তারপর অভিমান আর তীব্র কষ্ট মেশানো গলায় বলল, "আজকে আমি প্রথম... জীবনে কোনোদিন কোনো পুরুষ মানুষ আমাকে ছোঁয়া তো দূরে থাক, ভালো করে দেখেনি। আপনার পোষালে নিন, না চাইলে চলে যেতে পারেন। আমার বেশি কথা বলার সময় নেই।"
মাহবুব একটু কুৎসিতভাবে হাসল। মনে মনে ভাবল, এই লাইনে এসেও মেয়েটা নতুনত্বের নাটক করছে? সে আর কথা বাড়াল না। লক খুলে দিয়ে বলল, "ওঠো।"
মেয়েটি গুটিসুটি মেরে, নিজেকে যতটা সম্ভব গুটিয়ে মাহবুবের গাড়ির সামনের সিটে এসে বসল। গাড়ি স্টার্ট দিয়ে মাহবুব দ্রুত গতিতে ছুটে চলল ঢাকার উপকণ্ঠে আহমেদ গ্রুপের নিজস্ব বাগানবাড়ির দিকে।
শুরু হলো এক নিষিদ্ধ রাতের গল্প, কিন্তু কেউ জানত না এই রাতের শেষটা কতটা পবিত্র হতে চলেছে।

Address

Sirajgonj
Sirajganj
6700

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Rakib Ahmed posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share