20/05/2026
এই ধর্ষক ও খুনিদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, যা পুরো জাতি নিজের চোখে দেখে। এমন শাস্তি, যা ভবিষ্যতে আর কোনো নরপিশাচকে এমন জঘন্য অপরাধ করার চিন্তাও করতে না দেয়। বিচার শুধু আদালতের রায় নয়, বিচার হতে হবে এমন এক সতর্কবার্তা, যা সমাজের প্রতিটি অন্ধকার মানসিকতার মানুষকে ভয় পাইয়ে দেবে।
আমরা শুধু বিচার চাই না, আমরা দ্রুত ও দৃশ্যমান বিচার চাই। এমন বিচার, যা প্রমাণ করবে এই দেশে এখনো মানবতা বেঁচে আছে। একটি নিষ্পাপ শিশুর রক্ত যেন আর কোনোদিন অবহেলা, প্রভাব কিংবা সময়ের ভিড়ে হারিয়ে না যায়।
আমরা এই দেশের সকল বাবা-মায়ের কাছে বিনীত অনুরোধ করছি, আপনার কন্যাসন্তানদের প্রতি আরও বেশি যত্নবান হোন। পৃথিবী আগের মতো নিরাপদ নেই। আপনার সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, কার বাসায় যাচ্ছে, আশেপাশে কারা থাকে, এমনকি নিজের ভবনের প্রতিটি ফ্লোর ও প্রতিবেশীদের সম্পর্কেও সতর্ক থাকুন। কখনো ছোট শিশুদের একা ছেড়ে দেবেন না।
মনে রাখবেন, বিপদ সবসময় অপরিচিত মানুষের কাছ থেকে আসে না। অনেক সময় সবচেয়ে পরিচিত মুখের আড়ালেই লুকিয়ে থাকে সবচেয়ে ভয়ংকর মানুষ।
আপনার মেয়েকে শুধু ভালো স্কুলে পড়ালেই দায়িত্ব শেষ হয় না। তাকে নিরাপত্তা দিন, সময় দিন, সাহস দিন যেন সে কোনো অস্বস্তি, ভয় বা খারাপ আচরণ আপনার সঙ্গে নির্দ্বিধায় শেয়ার করতে পারে। সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুর মতো সম্পর্ক গড়ে তুলুন। তাদের নীরবতা বুঝতে শিখুন। কারণ অনেক শিশু ভয়, লজ্জা বা আতঙ্কে মুখ খুলতেই পারে না।
আজকের পৃথিবী এতটাই ভয়ংকর হয়ে গেছে যে ছোট ছোট মেয়েরাও নিরাপদ নয়। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও কোনো মা তার সন্তান হারাচ্ছেন, কোনো শিশু নৃশংসতার শিকার হচ্ছে। অথচ আমরা কিছুদিন কাঁদি, কিছুদিন পোস্ট করি, তারপর আবার সব ভুলে যাই।
আমারা সকল অভিভাবকের কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করছি, সন্তানদের প্রতি আরও দায়িত্বশীল হোন। যদি আমরা তাদের নিরাপত্তা, যত্ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে না পারি, তাহলে এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে তাদের আনার আগে আমাদের আরও গভীরভাবে ভাবা উচিত।
একটি শিশুর নিরাপত্তা শুধু তার পরিবারের নয়, পুরো সমাজের দায়িত্ব। আজ যদি আমরা নীরব থাকি, কাল এই আগুন আমাদের ঘরেও পৌঁছাতে পারে।
আজ রামিসার জন্য বিচার চাইছি। কাল যেন আর কোনো শিশুর জন্য এভাবে রাস্তায় দাঁড়াতে না হয়।