21/07/2026
শুনতে রসিকতা মনে হলেও, প্রাচীন জাপানে সত্যিই এমন এক ধরনের নারী সহকারী ছিলেন, যাদের বলা হতো হেঐবিকুনি। তাদের কাজ ছিল সম্ভ্রান্ত পরিবারের স্ত্রী বা কন্যাদের সঙ্গে থাকা এবং তারা বায়ুত্যাগ করলে সেই দায় নিজের ওপর নেওয়া!
জাপানি অভিধান কোটোব্যাংকে হেঐবিকুনিকে এমন এক নারী বা সন্ন্যাসিনী হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যিনি সম্ভ্রান্ত নারীর সঙ্গে থাকতেন এবং তার বায়ুত্যাগসহ বিব্রতকর ভুলের দায় গ্রহণ করতেন। শব্দটির ব্যবহার অন্তত ১৫৬৩ সালের একটি লেখায় পাওয়া যায়। অর্থাৎ এই প্রথা শুধু এদো যুগেই নয়, তার আগেও পরিচিত ছিল।
পরবর্তী সময়ে এদো যুগে উচ্চবিত্ত ও সামুরাই পরিবারের নারীদের সামাজিক আচরণে কঠোর শালীনতা প্রত্যাশা করা হতো।
জনসমক্ষে বায়ুত্যাগকে একজন সম্ভ্রান্ত নারীর জন্য ভয়াবহ লজ্জার বিষয় হিসেবে দেখা হতো। বিশেষ করে অতিথি আপ্যায়ন বা সম্ভাব্য বিয়ের পাত্রের সামনে এমন ঘটনা ঘটলে সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
এই পরিস্থিতিতে হেঐবিকুনি পাশে থেকে বলতেন, "আমি পাদ দিয়েছি!" উপস্থিত লোকেরা সত্যটি অনুমান করলেও সামাজিক সৌজন্যের খাতিরে বিষয়টি নিয়ে আর আলাপ তুলতেন না।
এভাবে মনিবের সম্মান রক্ষা পেত। সাধারণ দায়িত্বে তারা সহচরী, পরিচারিকা বা অভিভাবকের মতো কাজ করলেও এই অস্বাভাবিক দায় গ্রহণই তাদের সবচেয়ে আলোচিত পরিচয়।
‘বিকুনি’ শব্দের অর্থ সাধারণত বৌদ্ধ সন্ন্যাসিনী। তবে সব হেঐবিকুনি প্রকৃত সন্ন্যাসিনী ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত নয়। কেউ কেউ হয়তো শুধু সন্ন্যাসিনীর মতো পোশাক পরতেন।