26/06/2020
কেন আমাদের ছিঁড়ে যাওয়া লিফট নিয়ে চিন্তায় পড়া উচিত?
একটা লিফটে দূর্ঘটনা এড়ানোর জন্য সাধারণত কিছু 'সেফটি ফিচার' থাকে।
১. কেবলঃ লিফট ইস্পাতের যে কেবলে ঝুলে থাকে সেটা সাধারণত ৪ বা ৮টি হয়। অর্থ্যাৎ, একটি কেবল ছিঁড়ে গেলেও আরও অনেকগুলো কেবল থেকে যায় লিফটি পড়ে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য।
২. ব্রেকঃ ধরা যাক লিফটের সবগুলো কেবল একসাথে ছিঁড়ে গেলো। তখন লিফট যে গতিতে নিচে পড়া শুরু করবে, তাতে দ্বিতীয় সেফটি ফিচার একটিভেট হয়, সেটা ব্রেক সিস্টেম। লিফটটি যে রেইলের সাথে উপরে নিচে চলাফেরা করে, সেটিতে ব্রেক সিস্টেম চালু হয়ে লিফট থেমে যাবে অস্বাভাবিক গতি পাওয়া মাত্রই।
৩. শক অ্যাবজরভারঃ ধরা যাক, লিফটের কেবল 'সবগুলো' ছিঁড়ে গেলো। এমনকি ব্রেকও কাজ করলো না। তাহলে?
লিফট যে শ্যাফটের মধ্যে দিয়ে ওঠানামা করে, তার একেবারে নিচে থাকে একটা শক অ্যাবজরভার। একদম ছিঁড়ে যাওয়া লিফট নিচে পড়ার সময় এমনিতেই গতি কমে আসবে কারণ শ্যাফটের মধ্যের বাতাসের বিপরীতমুখী চাপের জন্য। একদম শেষে থাকবে একটা শক অ্যাবজরভার যেটা অনেকটা স্প্রিং(আসলে অয়েল ফিলড সিলিন্ডার) এর মত কাজ করে লিফটাকে একদম ভয়াবহ পতন থেকে বাঁচাবে।
শংকার বিষয় হলো এর আগে উত্তরায় বিপণী বিতানে ছিঁড়ে যাওয়া লিফটের দূর্ঘটনা থেকে নিশ্চিত এই তিনটা 'ব্যাসিক' নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটাও কাজ করে নি অথবা লিফটগুলোতে এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিলো না। এমনকি লিফটের কেবল এ কোন ত্রুটি লিফটের মাসিক রক্ষণাবেক্ষণের সময়-ই ধরা পড়ার কথা।
এটা খুব দুঃখের বিষয়, আমাদের দেশে বেশিরভাগ লিফটে নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো যতটা সম্ভব বাদ দেয়া হয়, খরচের কথা চিন্তা করে, যদিও এখানে উল্লেখ্য তিনটা অনেকটা বাধ্যবাধকতামূলক হবার কথা। যদি লিফটে এগুলো থাকার পড়েও দূর্ঘটনা হয়ে থাকে, তবে অবশ্যই তা লিফট বিক্রেতা বা ক্রেতা কারও একজনের গাফিলতিতে হয়েছে।
দূর্ঘটনায় কারও বিচার চাই না, বাংলাদেশে এখন বিচার চাওয়াটা ঠিক মানায় না। তবে, হাইরাইজ ভবনে ছেয়ে যাওয়া ঢাকা শহরে আপনার বাসার লিফটের নিরাপত্তা ফিচারগুলো নিশ্চিত করা আপনার-ই দায়িত্ব।
★★জনসচেতনতায়:
এম, এ, মনিম রুমান
সিইও
মিলিনিয়াম লিফট