16/10/2024
পিতার পক্ষ থেকে ছেলে-মেয়ের জন্য কিছু উপদেশ....❗
১। লজ্জাশীল হও। কেননা লজ্জা না থাকলে, যেকোনো অন্যায় করা যায় (ছহীহ বুখারী, হা/৩৪৮৪; মিশকাত, হা/৫০৭২)। লজ্জা সব ধরনের কল্যাণ বহন করে (ছহীহ বুখারী, হা/৬১১৭; ছহীহ মুসলিম, হা/১৬৫; মিশকাত, হা/৫০৭১)।
২। স্বভাব-চরিত্র ভাল করো। কেননা এটাই হবে নেকীর পাল্লায় সবচেয়ে ভারী (তিরমিযী, হা/২০০২; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৭৫৯৫; মিশকাত, হা/৫০৮১; সিলসিলা ছহীহা, হা/৮৭৬)।
৩। কর্কশ ভাষা পরিহার করো। কেননা কর্কশ ভাষার পরিণাম জাহান্নাম (মুসনাদে আহমাদ, হা/৭০১০; সিলসিলা ছহীহা, হা/১৭৪১)।
৪। অহংকার করো না। কেননা অহংকারীর পরিণাম জাহান্নাম (মুসনাদে আহমাদ, হা/৭০১০; সিলসিলা ছহীহা, হা/১৭৪১)।
৫। আগেই সালাম দেওয়ার চেষ্টা করো। কেননা আল্লাহর কাছে সর্বাপেক্ষা উত্তম ব্যক্তি হচ্ছে প্রথমে সালাম প্রদানকারী (আবু দাউদ, হা/৫১৯৭: সিলসিলা ছহীহা, হা/৩৩৮২)।
৬। অসহায় মানুষকে খাদ্য দাও। কেননা এর বিনিময় জান্নাত (ছহীহ ইবনু হিব্বান, হা/৪৯০; ছহীহ আদাবুল মুফরাদ, হা/৬২৭, ৮১১; ছহীহ আত্ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২৬৯০)।
৭। দুই কানে মানুষের ভাল কথা শ্রবণ করো। কেননা এর পরিণাম জান্নাত (ইবনু মাজাহ, হা/৪২২৪; সিলসিলা ছহীহা, হা/১৭৪০)।
৮। দুই কানে মানুষের মন্দ কথা শ্রবণ করো না। কেননা এর পরিণাম জাহান্নাম (ইবনু মাজাহ, হা/৪২২৪; সিলসিলা ছহীহা,
হা/১৭৪০)।
৯। মুখ ও লজ্জাস্থান নিয়ন্ত্রণে রাখো। কারণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না হলে, পরিণাম জাহান্নাম (তিরমিযী, হা/২০০৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/৯৬৯৪; মুসতাদরাক হাকেম, হা/৭৯১৯)।
১০। মানুষের সম্পদ অবৈধভাবে গ্রহণ করো না। কেননা এতে অন্তরের উপর ছাপ পড়ে যায়, যা কিয়ামত পর্যন্ত মিশে না (ছহীহ বুখারী, হা/৭৪৪৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/৩৯৪৬; মিশকাত, হা/৪৮৩২; সিলসিলা ছহীহা, হা/৩৩৬৪)।
১১। পিতা-মাতার সেবা করো। কারণ তারা জান্নাতের মাধ্যম (তিরমিযী, হা/১৯০০; ইবনু মাজাহ, হা/২০৮৯; মিশকাত, হা/৪৯২৮; সিলসিলা ছহীহা, হা/৯১৪)। কারও প্রতি হিংসা করো না। তাহলে সর্বদা কল্যাণে থাকবে (ইবনু মাজাহ, হা/৪২১৬; মিশকাত, হা/৫২২১; সিলসিলা ছাহীহা, হা/৯৪৮)।
১২। তিনজন এক সাথে থাকলে তৃতীয়জন ছেড়ে দুজন চুপে চুপে কথা বল না (মুসনাদে আহমাদ, হা/৮৫৯৮; সিলসিলা ছহীহা, হা/১৪০২)।
১৩। মানুষকে অপমান করো না। কারণ এটাই সবচেয়ে বড় সূদ (বায়হাক্বী কুবরা, হা/২১৬৫৮; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বা, হা/৪৭৩৯; মুসান্নাফ 'আব্দুর রায্যাক, হা/২০২৫২; সিলসিলা ছাহীহা, হা/১৪৩৩)।
১৪। মানুষকে সালাম দাও। কারণ যে সালাম দেয় না, সে সবচেয়ে বড় কৃপণ (ছহীহ ইবনু হিব্বান, হা/৪৪৯৮; আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব, হা/২৭১৪; সিলসিলা ছাহীহা, হা/৬০১)।
১৫। গভীর রাতে রাস্তায় চল না। কারণ এ সময় এমন প্রাণি চলে, যাদের দেখা যায় না (মুসনাদে আহমাদ, হা/১৪৮৭২; আবু দাউদ, হা/৫১০৪; নাসাঈ কুবরা, হা/১০৭৭৮; সিলসিলা ছাহীহা, হা/১৫১৮)।
১৬। রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করো, এটা তোমার জন্য ছাদাক্বা হবে (আদাবুল মুফরাদ, হা/২২৮; ছহীহ আদাবুল মুফরাদ, হা/২২৮; সিলসিলা ছাহীহা, হা/১৫৫৮)।
১৭। কোন বৈঠকে বসলে পশ্চিমমুখি হয়ে বস। কারণ প্রতিটি জিনিসের একটা মূল অংশ আছে। আর বৈঠকের মূল অংশ হচ্ছে পশ্চিম দিক (মু'জামুল আউসাত (ত্ববরানী), হা/২৩৫৪; সিলসিলা ছাহীহা, হা/২৬৪৫)।
১৮। মানুষের মুখের উপর প্রশংসা করো না। কারণ এতে তাকে যবেহ করা হয়। অর্থাৎ তার মধ্যে অহংকার এসে যায়, যা তার ধ্বংসের কারণ (ইবনু মাজাহ, হা/৩৭৪৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৬৮৮৩; শু'আবুল ঈমান, হা/১০৩০৭; সিলসিলা ছাহীহা, হা/১২৮৪)।
১৯। রাতের প্রথমাংশ পার হওয়ার পর গল্প করো না। কেননা এই সময় আল্লাহ তাআলা এমন কতক সৃষ্টিজীব পাঠান, যা তোমাদের জানা নেই (মুসতাদরাক হাকেম, হা/৭৭৬৪; সিলসিলা ছাহীহা, হা/১৭৫২)।
২০। ধৈর্যশীল হয়ে প্রশান্তির সাথে কাজ করো। কোন সময় তাড়াহুড়া করে কোন কাজ করো না। কেননা প্রশান্তি আসে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে। আর তাড়াহুড়া আসে শয়তানের পক্ষ থেকে (বায়হাক্বী কুবরা, হা/২০০৫৭; তারগীব, হা/১৫৭২; শু'আবুল ঈমান, হা/৪০৫৮; সিলসিলা ছাহীহা, হা/১৭৯৫)।
২১। কথা বলার পূর্বে সালাম দাও। কেউ সালাম দেওয়ার পূর্বে কথা বলা আরম্ভ করলে, তার উত্তর দিও না (আল-কামিল ফিয যু'আফা ওয়ার রিজাল, (ইবনু আদী)-২৯১পৃ./৫খন্ড; সিলসিসলা ছাহীহা, হা/৮১৬)।
২২। পরিবারকে সংশোধন করার জন্য চাবুক এমন স্থানে রাখ, যেন পরিবার তা দেখতে পায়। কারণ এটাই তাদের জন্য শিষ্টাচার (মুসান্নাফ 'আব্দুর রায্যাক, হা/১৭৯৬৩; ত্ববরানী, হা/১০৬৭১; সিলসিলা ছাহীহা, হা/১৪৪৬)।
২৩। প্রতিবেশীর খোঁজ-খবর নিও। কেননা এমন মানুষ মু'মিন হতে পারে না, যে নিজে তৃপ্তি সহকারে খায় এবং প্রতিবেশি ক্ষুধার্ত থাকে (মুসনাদে আবী ইয়ালা, হা/২৬৯৯; শু'আবুল ঈমান, হা/৩১১৭; বায়হাক্বী কুবরা, হা/১৯৪৫২; সিলসিলা ছাহীহা, হা/১৪৯)।
২৪। কাউকে দোষারোপ করো না, কাউকে অভিশাপ করো না, কাউকে অশ্লীল কথা বল না, কারও সাথে মন্দ আচরণ করো না। কেননা এমন মানুষ মু'মিন নয় (তিরমিযী, হা/১৯৭৭; ছহীহ ইবনু হিব্বান, হা/১৯২; আদাবুল-মুফরাদ, হা/৩১২; মিশকাত, হা/৩৬; সিলসিলা ছাহীহা, হা/৩২০)।
২৫। যে কাজ জন-সম্মুখে করতে অপছন্দ মনে করো, তা গোপনেও করো না (ছহীহ ইবনু হিব্বান, হা/৪০৩; মুসান্নাফ 'আব্দুর রায্যাক, হা/২০১৫১; সিলসিলা ছাহীহা, হা/১০৫৫)।
২৬। রোদ ও ছায়ার মাঝে বস না। কেননা এরূপ বৈঠক শয়তানের বৈঠক (মুসনাদে আহমাদ, হা/১৫৪৫৯; সিলসিলা ছাহীহা, হা/৩১১০)।
২৭। দুজন কোন স্থানে বসে থাকলে, তুমি সেখানে অনুমতি ছাড়া যেও না (বায়হাক্বী কুবরা, হা/৫৬৮৫; সিলসিলা ছাহীহা, হা/২৩৮৫)।
২৮। একাকী বাড়িতে অবস্থান করো না এবং একা সফর করো না (মুসনাদে আহমাদ, হা/৫৬৫০; সিলসিলা ছাহীহা, হা/৬০)।
২৯। মানুষ অনুগ্রহ করলে তার শুকরিয়া আদায় করো। কেননা যে মানুষের শুকরিয়া আদায় করে না, সে আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায় করে না (আবু দাউদ, হা/৪৮১১; মুসনাদে আহমাদ, হা/৭৯২৬; সিলসিলা ছাহীহা, হা/৪১৬)।
৩০। আজ এমন কথা বল না, যার কৈফিয়ত কাল দিতে হবে (মুসনাদে আহমাদ, হা/২৩৫৪৫; সিলসিলা ছাহীহা, হা/৪০১)।
৩১। ছালাত আদায় করো। কারণ ছালাত বিহীন বাকী আমল বাতিল হবে (আল মু'জামুল আউসাত, হা/১৮৫৯; সিলসিলা ছাহীহা, হা/১৩৫৮)।
৩২। অত্যাচারিত ব্যক্তির বদ দু'আ থেকে বেঁচে থাক, কাফের হলেও।কেননা এমন দু'আ নিশ্চিতভাবে কবুল হয় (মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৫৭১; ছহীহ ইবনু হিব্বান, হা/৮৭৫; সিলসিলা ছাহীহা, হা/৭৬৭)।
৩৩। দুনিয়া থেকে সাবধান থাক। কেননা দুনিয়া সবুজ, সুন্দর, মনোহর মিঠা বস্তু (ছহীহ ওয়া যয়ীফুল জামি' আছ-ছগীর, হা/১৯২; সিলসিলা ছাহীহা, হা/১১০)।
৩৪। সদা সত্য কথা বল। কেননা সত্যের পরিণাম জান্নাত (ছহীহ মুসলিম, হা/৬৮০৫; মিশকাত, হা/৪৮২৪)।
৩৫। কখনও মিথ্যা কথা বল না। কেননা মিথ্যার পরিণাম জাহান্নাম। (ছহীহ মুসলিম, হা/৬৮০৫; মিশকাত, হা/৪৮২৪)।
রব্বিগফিরলী রব্বিগফিরলী রব্বিগফিরলী।