01/05/2026
সম্প্রতি একটি বিখ্যাত জাপানিজ কোম্পানির এক্সরে ফিল্মের নতুন দামের (ছবিতে) ভিত্তিতে আমরা হিসাব করে দেখলাম—বাস্তব চিত্রটা আসলে কতটা পরিবর্তন হয়েছে।
কিন্তু গল্পটা আজকের না।
২০২২ সালে যখন আমি এই ফিল্ম প্রজেক্টটা শুরু করি, তখন অনেকেই বুঝতেই পারত না আমি কী করতে চাই। নতুন কিছু করতে গেলে যেমন হয়—সন্দেহ, প্রশ্ন, এমনকি নিরুৎসাহও ছিল। শুরুটা সহজ ছিল না, প্রচুর স্ট্রাগল করতে হয়েছে। কিন্তু একটা জিনিস পরিষ্কার ছিল—বাজারে যতই কাঁচামালের সংকট হোক, যতই দাম বাড়ুক, আমি এমন একটা সমাধান বানাতে চাই যেখানে প্রাইসিংয়ে লড়াই করা যাবে।
আমি তখনই ভাবতাম, বড় কোম্পানিগুলো যদি ১০ টাকা দাম বাড়ায়, আমি ৫ টাকা কমিয়েও টিকে থাকতে পারব। কারণ আমার লক্ষ্য ছিল শুধু প্রফিট না, বরং এমন একটা সিস্টেম তৈরি করা যেখানে হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো বাস্তবভাবে খরচ কমাতে পারবে।
আজকে এসে দেখছি, সেই চিন্তাটাই বাস্তবে রূপ নিয়েছে।
একটু হিসাব করে দেখুন। একটি সেন্টারে যদি মাসে ১০০০টি ফিল্ম লাগে, যেখানে ১০×১৪ সাইজ ৭০০ পিস এবং ৮×১০ সাইজ ৩০০ পিস, তাহলে থার্মাল বা লেজার ফিল্ম ব্যবহার করলে শুধু ফিল্মেই মাসে খরচ হচ্ছে প্রায় ১,০২,২০০ টাকা।
একই কাজ আমাদের Inkjet Blue Film + Special Ink দিয়ে করলে খরচ দাঁড়ায় মাত্র ৬৪,৫০০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি মাসে প্রায় ৩৭,৭০০ টাকা সেভ করা সম্ভব। বছরে এই সেভিং দাঁড়ায় প্রায় ৪,৫২,৪০০ টাকা।
এখন যদি প্রিন্টারের দামের দিকটা দেখেন, যেখানে একটি থার্মাল বা লেজার প্রিন্টারের দাম প্রায় ৪,০০,০০০ টাকা, সেখানে আমাদের নতুন Epson অফিস প্রিন্টার মাত্র ৬৮,০০০ টাকা এবং সেকেন্ড-হ্যান্ড মাত্র ৩০,০০০ টাকায় পাওয়া যায়। অর্থাৎ শুরুতেই প্রায় ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সেভ করা সম্ভব।
সব মিলিয়ে, কম খরচে কাছাকাছি আউটপুট, ক্লিয়ার ও শার্প প্রিন্ট, আর দীর্ঘমেয়াদে বিশাল সেভিং—এটাই এখন বাস্তবতা।
আজকে বাজারে যে দামের পার্থক্য আপনি দেখছেন, সেটা শুধু সংখ্যা না—এটা কয়েক বছরের স্ট্রাগল, ভিশন আর কনসিস্টেন্সির ফল।
আপনি যদি এখনো বেশি খরচ করে থাকেন, তাহলে একবার হিসাবটা নিজে করে দেখুন।
স্মার্ট সেন্টারগুলো ইতিমধ্যেই পরিবর্তন করছে।
আপনি কি এখনো অপেক্ষা করছেন?
ইঞ্জি: শরিয়ত রহমান
সিইও ও কো-ফাউন্ডার
শান মেডিকেল টেকনোলজি
মিরপুর ১, ঢাকা