18/04/2025
৮৭ এর কাফন আন্দোলন ✊✊ পলিটেকনিক শিক্ষার্থীরা কি ভুলে গেছেন??
১৯৮০-এর দশকে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সটি ছিল ৩ বছর মেয়াদী। সরকার ১৯৮৬ সালে একটি সিদ্ধান্ত নেয় এই কোর্সের মেয়াদ ১ বছর বাড়িয়ে ৪ বছর করা হবে। কিন্তু এটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ত্রুটি ছিল—সার্টিফিকেট ও ডিগ্রির স্বীকৃতি, চাকরি ক্ষেত্রের সুযোগ, শিক্ষার মান, পরীক্ষার পদ্ধতি ইত্যাদিতে অসংগতি রয়ে যায়। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়।
---
কেন "কাফন-পেট্রোল-নাইলন" (KPN)?
এই আন্দোলনের তিনটি প্রতীক ছিল:
কাফন – জীবন বিসর্জনের প্রস্তুতি।
পেট্রোল – আত্মদাহের হুমকি বা প্রতীক।
নাইলন – দড়ি, আত্মহত্যার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত।
এই তিন প্রতীক ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বুঝিয়ে দিয়েছিল, তারা এই অনৈতিক সিদ্ধান্ত বাতিল না হওয়া পর্যন্ত জীবন ত্যাগ করতেও প্রস্তুত।
---
আন্দোলনের ধারাবাহিকতা:
সারাদেশের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা একযোগে আন্দোলনে অংশ নেয়।
ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে বিশাল মিছিল, অবস্থান কর্মসূচি ও ক্লাস বর্জন কর্মসূচি শুরু হয়।
সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে আন্দোলন দমন করার চেষ্টা চলে, পুলিশের লাঠিচার্জ, গ্রেফতার, টিয়ারশেল ফেলা হয়।
আন্দোলন চরমে পৌঁছায় যখন শিক্ষার্থীরা কাফনের কাপড় পরে, আত্মহুতির প্রতীক হিসেবে পেট্রোল নিয়ে রাজপথে নামে।
---
ফলাফল:
সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের দাবি আংশিকভাবে মেনে নেওয়া হয়।
৪ বছর মেয়াদি কোর্সের স্বীকৃতি নিশ্চিত করা হয় এবং চাকরির ক্ষেত্রেও সেই অনুযায়ী নীতিমালা ঠিক করা হয়।
এটি দেশের শিক্ষা আন্দোলনের ইতিহাসে এক সাহসী এবং ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের উদাহরণ হয়ে ওঠে।
---
উপসংহার:
১৯৮৭ সালের কেপিএন আন্দোলন ছিল শুধু একটি শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ নয়, বরং ছিল ছাত্র-ছাত্রীদের অধিকার আদায়ের জন্য এক মহৎ আত্মত্যাগের প্রতীক। এই আন্দোলন এখনো প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা জোগায়।
©️