12/09/2020
♦বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সেক্টরের ইতিকথাঃ
🔶আপনি কি জানেন কিভাবে বাংলাদেশে শুরু হয়েছিল বিদ্যুতের যাত্রা? বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা, আজকের এই রঙিন ঢাকা আগে কেমন ছিল? আজকে যেভাবে বৈদ্যুতিক বাতির আলোয় চারদিক আলোকিত হয়ে থাকে আগে কি এমনটাই ছিল? অবশ্যই না। কেমন ছিল সে সময়কার ঢাকা?
🔶ঢাকাকে বাংলার রাজধানী ঘোষণার পরও প্রায় ৩০০বছর পর্যন্ত ঢাকা বাসীকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল বিদ্যুতের জন্য।নিউইয়র্ক শহরে ১৮৮২ সালে বিদ্যুৎ আসার প্রায় ১৯ বছর পর এবং লন্ডন শহরে বিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হওয়ার ১৩ বছর পর ঢাকা শহরে বিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হয়। এটি সম্ভব হয়েছিল, তখনকার ঢাকার নবাব খাজা আহসানউল্লাহ্ সার্বিক সহযোগিতার কারণে।আমাদের দেশে বাতি ব্যবহারের কার্যক্রম শুরু হয় ১৮৬৯ সালে। ঢাকার তৎকালীন সিভিল সার্জন ডঃ হেনরি কাটক্লিফ ঢাকার স্যানিটেশন ও তার উন্নতিকল্পে একটি রিপোর্ট প্রস্তুত করেন যেখানে ঢাকার সড়কবাতির জন্য গ্যাস লাইটের পরিবর্তে কেরোসিন তেলের ব্যবহৃত বাতি স্থাপনের প্রস্তাব করেন তিনি। পরের বছর ১৮৭০ সালে খাজা আব্দুলগনি ঢাকায় একটি গ্যাস লাইটের ফ্যাক্টরি স্থাপন করেন। এর কয়েক বছর পর ১৮৭৭ সালে ঢাকা শহরে ১০০ টি ল্যামপোস্ট স্থাপনের জন্য নাগরিক কমিটি কর্তৃক ৬৫০০ রুপি প্রদান করা হয়; যা দিয়েওয়াইজঘাট থেকে শুরু করে চকবাজার পর্যন্ত প্রাথমিক ভাবে ৬০ টি কেরোসিন বাতির ল্যামপোস্ট স্থাপন করা হয়। ১৮৭৯ সালে টমাস আলভা এডিসন স্বচ্ছ বৈদ্যুতিক বাল্প আবিষ্কার করলে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহারের খরচ অনেক কমে যায়। ১৮৮৬ সালের দিকে খাজা আব?গনির পুত্র খাজা আহসানউল্লাহ প্রত্যেকটি ঘর বৈদ্যুতিক বাতির আলোকিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। এর স্বীকৃতিস্বরুপ খাজাআব্দুল গনিকে নাইট কমান্ডার অব স্টার উপাধিতে ভূষিত করা হয়।এরপর ১৮৮৮ সালে লর্ড ডাফারিন গ্যাস বাল্ব স্থাপনের উদ্দেশ্যে ঢাকায়আসেন, যা কিনা ইতিমধ্যে ঢাকার নবাব বাহাদুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখে ছিলেন। এ ঘটনার ৩ বছর পর ১৮৯১ সালে ঢাকা মিউনিসিপালকে একটি ক্যাশ মেমো পাঠানো হয় কেরোসিনের বাতি গুলো সরিয়ে গ্যাস লাইট স্থাপনের জন্য, যা মিউনিসিপাল খুব ভালভাবে গ্রহণ করে। কিন্তু কোন কারণে তা সম্ভব না হওয়ায় নবাব বাহাদুর তার প্রতিশ্রুতি রাখতে ব্যর্থ হন। তারপর ১৮৯৭ সালে তার দুলাভাই নবাব খাজা ইউসুফ জান ঢাকা মিউনিসিপালের চেয়ারম্যান হওয়ায় সে সমস্যা সমাধানের পথ খুলে যায়।বিংশ শতকের প্রথম বছর, ১৯০১ সালে ঢাকা তথা বাংলাদেশে প্রথম বিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হয়েছিল। এ লক্ষ্যে খাজা আহসানউল্লাহ ৪,৫০,০০০ রুপি দান করেছিলেন। শুধু অর্থই নয় বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহারে সার্বিক সহযোগিতার দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। ৭ ই ডিসেম্বর, ১৯০১ সালে ঢাকার রাস্তায় প্রথম জ্বলে উঠে বিদ্যুতের বাতি। এই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য " দি ঢাকা ইলেকট্রিক ট্রাস্টিস" নামে পরিষদও গঠন করা হয়েছিল সে সময়। এভাবেই বাংলাদেশে শুরু হয়েছিল দেশে বৈদ্যুতিক বাতি প্রচলন।
#১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসকরা চলে যাবার সময় বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাটি ছিল একেবারে বিচ্ছিন্ন ধরনের, এ সময় কোন দূরবর্তী ট্রান্সমিশন ব্যবস্থা ছিল না। কিছু সুনির্দিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন হত সে সকল এলাকায় ব্যবহারের জন্য। বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হত বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়। এছাড়া কিছু শিল্প (চা, চিনি এবং টেক্সটাইল) এবং রেলওয়ে ওয়ার্কশপে নিজস্ব উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হত। অধিকাংশ জেলাগুলিতে শুধুমাত্র রাতের বেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। শুধুমাত্র ব্যতিক্রম ছিল ঢাকা শহরযেখানে দুটি ১৫০০ কিলোওয়াটের জেনারেটর দ্বারা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ ছিল ৬৬০০ ভোল্টের। পাওয়ার ইউটিলিটি কোম্পানীর কর্তৃক উৎপাদন ক্ষমতা ছিল মাত্র ৭ (সাত) মেগাওয়াট এবং দেশের সর্বমোট উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ২১ মেগাওয়াট।
#১৯৪৮ সালে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিস্থিতির পরিকল্পনা ও উন্নয়নের জন্য বিদ্যুৎ অধিদপ্তর তৈরি করা হয়।
#১৯৫৮ সাল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের পানি এবং বিদ্যুৎ সেক্টর নিয়ে গঠিত হয়েছিল “East Pakisthan Water and Power Development Authority ( EPWPDA )”, যা শুধু ওয়াপদা নামেই বেশি পরিচিত ছিল।
১৯৭২ সালের ১মে বিদ্যুৎ সেক্টরকে আলাদা করে গঠিত হয়“ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ( বিউবো )” বা “ Bangladesh Power Development Board (BPDB )” যা PDB নামেই পরিচিত। সেসময় PDB এর generation capacity ছিল মাত্র 200MW । তখন PDB এককভাবে Generation, Transmission এবং Distribution তথা সমগ্র বিদ্যুৎ সেক্টরকে নিয়ন্ত্রণ করত।
১৯৭৭ সালে বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্য একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে গঠন করা হয় “ বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ( বাপবিবো )” বা “ Bangladesh Rural Electrification Board ( BREB )। ২০১৩ সালে এই অধ্যাদেশকে আইনে পরিনত করা হয়।দেশব্যাপী ৮০ টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহায়তায় পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
১৯৯০ সালে ঢাকা শহরের Distribution কে আলাদা করে Dhaka Electricity Supply Authority ( DESA ) গঠন করা হয়।
১৯৯৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর জেনারেশন কোম্পানি Rural Power Company Limited ( RPCL ) গঠিত হয় , যা তৎকালীন সময়ে বাংলাদেশের একমাত্র Independent Power Producer ( IPP )। তাছাড়া RPCl ই বাংলাদেশের প্রথম জেনারেশন এনটিটি , যা PDBএর অন্তরভুক্ত নয়।
১৯৯৬ সালে দেশের Transmission Sector কে PDB থেকে আলাদা করে “Power Grid Company of Bangladesh ( PGCB ) Limited। ১৯৯৬ সালে পাওয়ার গ্রীড কোম্পানী অব বাংলাদেশ দায়িত্ব গ্রহণ করার সময় ২৩০ কিলোভোল্টের ট্রান্সমিশন লাইনের মোট দৈর্ঘ্য ছিল ৮৩৮ সার্কিট কিলোমিটার এবং ১৩২ কিলোভোল্টের ট্রান্সমিশন লাইনের মোট দৈর্ঘ্য ছিল ৪৭৫৫ সার্কিট কিলোমিটার। ২০০২ সালের ৩১ ডিসেম্বর PDB এবং DESA তাদের Transmission রিলেটেড সমস্ত সম্পত্তি PGCB এর কাছে হস্তান্তর করে। এখন পর্যন্ত PGCB দেশের একমাত্র Transmission এনটিটি।
পিজিসিবির অধীনে মোট সঞ্চালন লাইন-১১৬৫০ সার্কিট কিলো মিটার ।বাংলাদেশে বর্তমান সঞ্ছালন ভোল্টেজ-৩৩কেভি,৬৬কেভি,১৩২কেভি,২৩০কেভি,৪০০কেভি। গ্রিড সাব- স্টেশনের সংখা ১২৫ টি ।দেশের প্রথম ৪০০কেভি Transmission লাইন-বহরামপুর ( ভারত ) থেকে ভেরামারা ( বাংলাদেশ )।নির্মাণাধীন ৭৬৫কেভি Transmission লাইন ২ টি যথাক্রমে মাতারবাড়ি ( কক্সবাজার ) থেকে ভুলতা ( ঢাকা ) এবং বরনগড় ( ভারত ) থেকে পার্বতীপুর ( বাংলাদেশ )।বর্তমান দীর্ঘতম লাইন খুলনা থেকে ভেরামারা-৩৫৩ সার্কিট কিলো মিতার।বাংলাদেশের প্রথম আইসোলেটেড গ্রিড হবে-হাতিয়া, নোয়াখালী। বর্তমান মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২২৩২৯ মেগা ওয়াত।ইতিহাসে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন ১১৬২৩ মেগাওয়াট।
১৯৯৬ সালের ২৩৩ নভেম্বের Meghnaghat Power Company ( MPC ) Limited নামে নতুন একটি জেনারেশন কোম্পানি গঠিত হয়। ২০০৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী কোম্পানিটি নাম পরিবর্তন করে EGCB নামে যাত্রা শুরু করে।
১৯৯৮ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর DESA এর কাছ থেকে মিরপুর অঞ্চলের এর দায়িত্ব গ্রহণ করে কার্যক্রম শুরু হয় DESCO এর। ২০০৩ সালের ৯ এপ্রিল হতে গুলশান, উত্তরা এবং টঙ্গির একাংশের Distribution ,DESCO এর দায়িত্বে চলে যায়।
২০০০ সালের ২৮ জুন জেনারেশন কোম্পানি “Ashugonj Power Station Company Limited (APSCL )” গঠিত হয়। ২০০৩ সালের ২২মে পিডিবির আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন APSCL এর কাছে হস্তান্তরের পর একই বছর পহেলা জুন থেকে এই কোম্পানিটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয়।
২০০২ সালে গঠিত Distribution কোম্পানি “West Zone Power Distribution Company Limited (WZPDCL )” ২০০৩ সালের ১ অক্টোবর PDB এর কাছ থেকে খুলনা বিভাগ, বরিশাল বিভাগ বৃহত্তর ফরিদপুর শহরাঞ্চলের এর দায়িত্ব বুঝে নেয়।
২০০৫ সালের ২৫ অক্টোবর ঢাকা শহরের দক্ষিণাঞ্চলের এবং নারায়ণগঞ্জের একাংশে Distribution এর উদ্দেশ্যে গঠিত হয় “Dhaka Power Distribution Company ( DPDC ) Limited।২০০৮ সালের ১ জুলাই DESA এর কাছ থেকে সমস্ত সম্পত্তি অধিগ্রহণ করে তারা comemercial operation শুরু করে , আর এর মাধ্যমেই DESA এর বিলিপ্তি ঘটে।
২০০৫ সালের আগস্টে নেসকো ১৯৯৪ সালের পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার সময় এর নাম ছিল নর্থ ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (সংক্ষেপে নওজোপাডিকো) । নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিঃ (নেসকো সংক্ষিপ্ত নামে বেশি পরিচিত) হল বাংলাদেশের সরকারি মালিকানাধীন একটি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি। এর সদরদপ্তর রাজশাহীর হেতেমখায় অবস্থিত এবং এটি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অধীন। ২০০৯ সালে নেসকো বিদ্যুৎ বিতরণের জন্য রেগুলেটরি কমিশন থেকে লাইসেন্স পায়। ২০১৬ সালের ১ আগস্ট বিপিডিবির সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করে এবং ১ অক্টোবর থেকে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬টি জেলায় বিদ্যুৎ বিতরণের কাজ শুরু করে। ২০১৭ সালের অক্টোবরে নাম পরিবর্তন করে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড - নেসকো রাখা হয়।
বর্তমানে এক নজরে নেসকো
সেবা প্রদানকারী এলাকারাজশাহী ও রংপুর বিভাগ
গ্রাহক সংখ্যা 1477886,
বিদ্যুৎ ক্রয় (মাসিক)326.36 মেগা কি. ওয়াট ঘন্টা ,
বিদ্যুৎ বিক্রয় (মাসিক)292.08মেগা কি. ওয়াট ঘন্টা ,
বিলের পরিমাণ (মাসিক)1929 মিলিয়ন টাকা ,
গ্রাহক বৃদ্ধির হার৭.২০%,
বিতরণ লাইনের দৈর্ঘ্য৩৩ কেভি লাইন- 1110.41 কি.মি.,
১১ কেভি লাইন-5925.62কি.মি.
১১/.০৪ কেভি লাইন-5148.14কি.মি.
০.৪ কেভি লাইন-6947.15কি.মি.
বিতরণ লাইনের মোট দৈর্ঘ্য191৩১.৩২কি.মি.৩৩/১১ কেভি সাব-স্টেশনের সংখ্যা 63
৩৩/১১ কেভি সাব-স্টেশনের ক্ষমতা1249.38/1599.88এমভিএ
১১/০.৪ কেভি বিতরণ ট্রান্সফর্মারের সংখ্যা৭৫২৬১১/০.৪ কেভি
বিতরণ ট্রান্সফর্মারেরক্ষমতা১২৭৭ এমভিএ
২০০৭ সালের ২৮ অগাস্ট খুলনা ও রাজশাহী অঞ্চলের জেনারেশন সেক্টরকে বেগবান করার জন্য গঠিত হয় “North West Power Generation Company Limited ( NWPGCL ) নামের জেনারেশন কোম্পানি। ২০১৩ সালের ২৪ অক্টোবর NWPGCL , comemercial operation শুরু করে।
২০০৯/১০ সালের দিকে যখন চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ ঘাটতি চরমে পৌঁছে তখন দ্রুততম সময়ে সংকট নিরসনের জন্য সরকার বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে Power Purchase Agreement ( PPA ) সাইন করে।এর ফলশ্রুতিতে পরবর্তী কয়েক বছরের মাঝে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক Rental and Quick Rental Power Plant এর আত্মপ্রকাশ ঘটে।
২০১১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর “Coal Power Generation Company of Bangladesh Limited CPGCBL ) গঠিত হয়। এর প্রধান কাজ বর্তমান ও আপকামিং কয়লাভিত্তিক Power Plant নির্মাণ, পরিচালন ও সংরক্ষণ করা।
২০১২সালে নবায়নযোগ্য ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী কার্যক্রমের পরিকল্পনা প্রণয়ন, তদারকিকরণ , অর্থায়নের উৎস অনুসন্ধানসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় সাধনের জন্য “Sustainable and Renewable Energy Development Authority ( SZPDCL )” গঠন করা হয়।।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সেক্তরের কাঠামোঃ- যে কোন দেশের বিদ্যুৎ সেক্টরকে প্রধানত ৩ টি ভাগে ভাগ করা যায়।
• Generation
• Transmission
• Distribution
এই মুহূর্তে আমাদের দেশের প্রধান প্রধান জেনারেশন এনটিটি গুল হচ্ছে-
• Bangladesh Power Development Board ( BPDB ).
• Ashugonj Power Station Company Limited ( APSCL ).
• North West Power Generation Company Limited ( NWGPCL ).
• Electricity Generation Company Limited ( EGCB ).
• Rural Power Company Limited ( RPCL ).
• Coal Power Generation Company of Bangladesh Limited ( CPGCBL ).
• Independent/Small Independent Power Produser ( IPP/SIPP ).
অন্যদিকে নতুন গঠিত ৩ টি জেনারেশন কোম্পানি “Nuclear Power Company of Bnagladesh Limited NPCBL )”, “Bangladesh-India Friednship Power Company ( Pvt. ) Limited” ও “Bangladesh China Power Company ( Pvt. )”।যথাক্রমে রুপ্পুর নির্মাণাধীন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট , রামপাল নির্মাণাধীন কয়লাভিত্তিক বিদ্দুতকেন্দ্র ও পায়রায় তৈরি হতে যাওয়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের স্ব-স্ব comemercial operation শুরু করবে।
Transmissiom Sector এর একমাত্র এনটিটি হচ্ছে Power Grid Company of Bangladesh ( PGCB ) Limited ।
অন্যদিকে Distribution এনটিটি গুলো হচ্ছেঃ-
• Bangladesh Power Development Board (BPDB).
• Dhaka Power Distribution Company ( DPDC ) Limited.
• West Zone Power Distribution Company ( WZPDCO ) Limited.
• Bangladesh Rural Electrification Board ( BREB ).
• North West Power Distribution Company ( NESCO ) Limited.
জেনারেশন এনটিটি গুলো তাদের উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রথমে ন্যাশনাল গ্রিডে তথা পিজিসিবিকে দেয়।বাংলাদেশ ন্যাশনাল গ্রিডের বর্তমান ভোল্টেজ লেভেল ১,৩২,০০০ ভোল্ট, ২,৩০,০০০ ভোল্ট ও ৪,০০,০০০ ভলত।পিজিসিবির কাজ হচ্ছে পাওয়ার প্ল্যান্টগুলো থেকে নেওয়া বিদ্যুৎ তার গ্রিড সাব- স্টেশন গুলোর মাধ্যমে ন্যাশনাল গ্রিডের উচ্চ ভোল্টেজর বিদ্যুতকে অপেক্ষাকৃত কম ভোল্টেজে ( সাধারণত ৩৩,০০০ ভোল্ট ও ১১,০০০ভোল্ট ) কনভার্ট করে Distribution এনটিটিগুলোর কাছে পৌঁছে দেওয়া। এবার Distribution এনটিটিগুলো পিজিসিবির গ্রিড সাব- স্টেশন থেকে নেওয়া বিদ্যুতকে Distribution sub-station/Transformer এর মাধ্যমে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী উপযুক্ত ভোল্টেজ লেভেলে কনভার্ট করে সাপ্লাই দেওয়া। যেমন বাসা বাড়ির ভোল্টেজ লেভেল হচ্ছে ২৩০ ভোল্ট। ইন্ডাস্ট্রির ক্ষেত্রে ভোল্টেজ লেভেল আরও বেশী।
উল্লেখিত সিস্টেমে মাদার অর্গানাইজেশন পিডিবি উৎপাদিত বিদ্যুতের একক ক্রেতা হিসাবে কাজ করে।এরপর ওরা সেই বিদ্যুৎকে Distribution এনটিটির কাছে বিক্রি করে আর Distribution এনটিটি গ্রাহকের কাছে বিক্রি করে। উৎপাদিত বিদ্যুতকে Power palnt থেকে Distribution এনটিটির কাছে পৌঁছে দেওার জন্য পিজিসিবি হইলিং চার্জ পায়। উল্লেখ্য যে পিডিবি Power palnt থেকে যে দামে বিদ্যুৎ ক্রয় করে, তার থেকে কম দামে Distribution Company গুলোর কাছে বিক্রি করে, যাতে গ্রাহক কম দামে বিদ্যুৎ পায়।আর এই জন্য সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা সাবসিডি বা ভর্তুকি দিচ্ছে।
যে সকল গ্রাহকের বিদ্যুৎ চাহিদা অনেক বেশি তারা অনেক সময় নিজেরাই ছোটখাটো Power palnt স্থাপন করে, এই ধরণের Power palnt কে captive Power palnt বলে।
বিদ্যুৎ সেক্টরের বড় বড় কোম্পানিগুলোর অধিকাংশই রাষ্ট্র মালিকানাধীন। তবে কিছু কিছু কোম্পানির ( PGCB and DESCO ) আংশিক শেয়ার শেয়ারমার্কেটে পর্যাপ্ত ,যা যে কেউ কিনতে পারে।
বিদ্যুৎ সেক্টরের প্রশাসনিক বডি সমূহঃ- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধিনস্ত বিদ্যুৎ বিভাগ বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সেক্টরের মুল প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে। বিদ্যুৎ বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন আর কিছু প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ বিভাগকে কারিগরি ও নীতিনির্ধারণ বিষয়ে সহায়তা করে থাকে। এমন ২ টি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে-
• পাওয়ার সেলঃ- বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ইউলিটি সমূহের পারফরমেন্স মনিটরিং , ট্যারিফ পর্যালোচনা, সংস্কার কার্যক্রম ও বিদ্যুৎ খাতের অন্যান্য কারিগরি বিষয় ও নীতি প্রণয়নে বিদ্যুৎ বিভাগকে সহযোগিতা করে।
• বৈদ্যুতিক উপদেষ্টা ও প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শকের দপ্তরঃ- নিরাপত্তার ক্ষেত্রে উচ্চ ও মধ্যম ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক সংযোগ অনুমোদন, সুপারভাইজার সনদ ও ঠিকাদারি লাইসেন্স ইস্যু ইত্যাদির দায়িত্বে আছে বিদ্যুৎ বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন এই দপ্তর।
অন্যদিকে গুনশুনানির মাধ্যমে বিদ্যুতের ও জ্বালানীর ট্যারিফ নির্ধারণের দায়িত্বে আছে Bangladesh Energy Regulatroy Commission ( BERC )।
==================================
বিঃ দ্রঃ এই নোটের অনেকগুলো তথ্যই বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া। তথ্যে কোন আপডেট থাকলে জানানোর অনুরোধ রইল।
পুনশ্চঃ পোস্টটা পড়ে থাকলে হয়ত কিছুটা অনুধাবন করা যাচ্ছে যে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সেক্টর কেমন গতিতে অগ্রসর হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে কত বিশাল আকার ধারন করবে। শুধু উৎপাদন খাতই নয়, সঞ্চালন এবং বিতরণ খাতও আনুপাতিক হারে এক্সপান্ড করবে। এই সুবিশাল খাতকে সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য অসংখ্য দক্ষ (এবং সৎ) প্রকৌশলীর প্রয়োজন। সুতরাং আপকামিং ইলেক্ট্রিক্যাল এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারগণ, যারা এই সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী... “Stay Focused"
Eye
রেফারেন্সঃ
http://www.powerdivision.gov.bd/
http://www.bpdb.gov.bd/bpdb/Power System Master Plan – 2010
http://www.pgcb.org.bd/PGCB/
http://www.nwpgcl.org.bd/en
http://www.apscl.com/
http://www.sreda.gov.bd/
বিদ্যুৎ বিভাগের ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের উন্নয়ন কর্মকান্ড