18/09/2025
এক বৃষ্টিভেজা রাতের আর্তি
রাত ৯:২০। টাউনহল মোড়। টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে। ফুটপাতে শুয়ে ভিজছেন এক মহিলা, পাশে রাখা বাটিতে ভিজছে কিছু খুচরো টাকা। ভিজছে তার দুটি শিশুও। ছোট শিশুটির বয়স এক বছরের মতো, বড়টির বয়স আনুমানিক চার।
মহিলার মুখ ও মাথা ওড়নায় ঢাকা। বড় শিশুটি তার কপালে আলতো করে মাথা ঠুকে ‘মা, মা’ বলে ডেকেই চলেছে, কিন্তু মায়ের কোনো সাড়া নেই। ছোট শিশুটি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন; বৃষ্টির পানিতে শরীর ভিজে গেলেও তার ঘুম ভাঙছে না। বড় শিশুটির আকুতিও যেন মায়ের কানে পৌঁছাচ্ছে না।
প্রথমে দৃশ্যটি ভিক্ষাবৃত্তির কৌশল ভেবে কিছুটা বিরক্ত হলাম। আমি উঁচু গলায় ডাকলাম, কিন্তু তাতেও কোনো লাভ হলো না, মহিলাটি অনড়। আমার সাথে আমার স্ত্রী ছিল। সে এগিয়ে গিয়ে মহিলার গায়ে ধাক্কা দিতেই তিনি হুড়মুড় করে উঠে বসলেন। দ্রুত ছোট বাচ্চাটিকে কোলে তুলে নিয়ে নিজের ওড়না দিয়ে তার ভেজা শরীর মুছতে মুছতে বললেন, “কখন বৃষ্টি এলো! আমি তো বুঝিনি। আমার শরীরটা ভালো না, হাতে-পায়ে খুব ব্যথা। কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি, জানিই না।”
আমি আর আমার স্ত্রী রাস্তার অপর পাশে একটি বন্ধ দোকানের বারান্দা দেখিয়ে তাদের সেখানে যেতে বললাম। মহিলাটি বাচ্চাদের নিয়ে দ্রুত সেখানে আশ্রয় নিলেন। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে আমরাও সেখানে গিয়ে দাঁড়ালাম।
কথার একপর্যায়ে আমার স্ত্রী বড় শিশুটির দিকে তাকিয়ে মহিলাকে বললেন, “এই বাচ্চাটি আমাকে দিয়ে দিন। আমি ওকে খুব যত্নে রাখব। ও আমার কাছে অনেক ভালো থাকবে। আপনারও এত কষ্ট করতে হবে না। দেবেন?”
মহিলা সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলেন, “না, না। আমি ওকে পড়াব। ও আমাকে ছেড়ে যাবে না। ও আমাকে ছাড়া থাকতে পারবে না।”
এক মায়ের অসহায়ত্ব আর সন্তানের প্রতি তার নিঃশর্ত ভালোবাসার এই দৃশ্য দেখে মনে মনে বললাম, "হে আল্লাহ, পৃথিবীতে এমন অসংখ্য মানুষ আছে, যাদের তুমি আরেকটু ভালো রাখতে পারতে। তাদের জীবন সংগ্রামের মাধ্যমে তুমি আমাদের যা শেখাতে চাও, তা-ই বা আমরা কয়জন শিখি? আল্লাহ, তুমি তাদের ভালো রেখো।"