19/08/2026
বদলির সময় যে বিষয়গুলোকে মাথায় রাখতে হবে?
১. পদের অফিসিয়াল অনুমোদন: যে শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করছেন, তা পরিচালনা পর্ষদ (গভর্নিং বডি) বা বোর্ডের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত কি না তা সুনিশ্চিত করে নেওয়া।
২. সর্বশেষ এমপিও নীতিমালার সামঞ্জস্যতা: খালি পদটি সাম্প্রতিক এমপিও নীতিমালার (২০২৫–২০২৬) শর্তাবলি ও কাঠামোর সাথে শতভাগ সঙ্গতিপূর্ণ কি না দেখে নেওয়া।
৩. পূর্ববর্তী শিক্ষকের অবসানের কারণ: পদে আগে কর্মরত শিক্ষকের অবমুক্তির সঠিক কারণ (অবসর, মৃত্যু, বদলি নাকি পদত্যাগ) অনুসন্ধান করা।
৪. ইনডেক্স ও রিলিজ প্রসেস সম্পন্নতা: পূর্বের শিক্ষকের ইনডেক্স বা এমপিও ভুক্তি যথাযথভাবে অনলাইন সিস্টেম থেকে বাতিল এবং প্রদেয় ছাড়পত্র (Release Document) হালনাগাদ আছে কি না তা পরখ করা।
৫. আইনি বিরোধ বা মামলা পর্যবেক্ষণ: শূন্য পদটি নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ বা তৃতীয় কোনো পক্ষের আদালতের মামলা বা আইনি জটিলতা ঝুলে আছে কি না জেনে নেওয়া।
৬. প্রশাসনিক প্রস্তাব ও রেজুলেশন: শূন্য পদ ঘোষণা সংক্রান্ত যাবতীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও রেজুলেশন খাতা সঠিকভাবে নথিভুক্ত রাখা হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া।
৭. কাম্য শিক্ষার্থীর সরকারি শর্ত: প্রতিষ্ঠানের এমপিও বজায় রাখার জন্য সরকার-নির্ধারিত ন্যূনতম শিক্ষার্থীর সংখ্যা (কাম্য শিক্ষার্থী) আছে কি না তা খতিয়ে দেখা।
৮. শিক্ষার্থী ভর্তির সার্বিক গতিপ্রকৃতি: বিগত কয়েক বছরে প্রতিষ্ঠানে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির হার বৃদ্ধি পাচ্ছে নাকি হ্রাস পাচ্ছে, সে বিষয়ে নজর দেওয়া।
৯. গত ৩ বছরের পাসের হার: প্রতিষ্ঠানের গত ৩ বছরের পাবলিক পরীক্ষার পাসের হার দেখা (টানা শূন্য শতাংশ বা নিম্ন পাসের হার থাকলে এমপিও বাতিলের ঝুঁকি থাকে)।
১০. বিষয়ের সক্রিয়তা ও শিক্ষার্থী থাকা: আপনি যে নির্দিষ্ট বিষয়ে বদলি হচ্ছেন, সেই বিষয়টিতে আসলেই সক্রিয়ভাবে পাঠদান চলছে কি না এবং শিক্ষার্থী আছে কি না তা দেখা।
১১. শিক্ষক রোস্টার ও পদমর্যাদা মেলানো: প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত মোট পদ, কর্মরত শিক্ষক ও প্রকৃত খালি পদের তথ্য একে অপরের সাথে মিলিয়ে নেওয়া।
১২. EIIN কোড ও ঠিকানার নির্ভুলতা: আবেদন করার সময় একই নামের অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিভ্রান্তি এড়াতে প্রতিষ্ঠানের EIIN নম্বর, উপজেলা ও জেলা তথ্য সঠিক আছে কি না দেখা।
১৩. নিজ জেলা বা স্বামী/স্ত্রীর জেলা অগ্রাধিকার: নীতিমালার শর্ত অনুযায়ী প্রথমে নিজ জেলায়, অথবা নিজ জেলায় পদ না থাকলে একই বিভাগে, কিংবা স্বামী/স্ত্রীর কর্মস্থল/নিজ জেলায় আবেদন করার যোগ্যতা যাচাই করা।
১৪. চাকরির ন্যূনতম ২ বছর পূর্ণতা: একই প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ২ বছর চাকরি পূর্ণ করেছেন কি না এবং চাকরি জীবনে সর্বোচ্চ ৩ বার বদলির যে নিয়ম রয়েছে, তা পূর্ণ হচ্ছে কি না নিশ্চিত হওয়া।
১৫. অনলাইন তথ্য ও ইউজার আইডি: মাউশি/টেলিটক বদলি পোর্টালে প্রদত্ত ব্যক্তিগত ডেটা, ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড সঠিক কি না তা চেক করা।
১৬. অনুপস্থিত শৃঙ্খলাজনিত জটিলতা: নিজের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বিভাগীয় মামলা, 'স্টপ পেমেন্ট' আদেশ কিংবা কোনো ফৌজদারি মামলা অমীমাংসিত অবস্থায় নেই তো, তা নিশ্চিত করা।
১৭. অভ্যন্তরীণ কর্মপরিবেশ ও পরিবেশ: প্রধান শিক্ষক/প্রিন্সিপালের পরিচালনা পদ্ধতি, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ এবং পরিচালনা পর্ষদের স্থায়িত্ব নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া।
১৮. যাতায়াত সুবিধা ও সময়কাল: নতুন কর্মস্থলের যাতায়াত মাধ্যম, নিজস্ব বাসস্থান থেকে যাতায়াতের সময় এবং খরচ বিবেচনা করা।
১৯. সর্বনিম্ন ২ বছর বহাল থাকার বাধ্যবাধকতা: নতুন স্থানে বদলি হওয়ার পর কমপক্ষে আগামী ২ বছর ওই/স্কুলেই দায়িত্ব পালন করতে হবে—এই দূরদর্শিতা রেখে স্কুল নির্বাচন করা।