14/08/2026
*কোটি টাকার মসজিদ, কিন্তু খুতবার কথা বোঝা যায় না | স্থপতি, ইন্জিনিয়ার এবং মসজিদের নির্মাতাদের কাছে কিছু প্রশ্ন*
আলহামদুলিল্লাহ, কয়েকটি মসজিদ ও দাওয়াহ প্রতিষ্ঠানের sound system নিয়ে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতায় একটি বিষয় আমাকে বারবার ভাবিয়েছে: অনেক জায়গায় ভালো microphone, speaker, amplifier, processor সবই আছে, তবুও কথা পরিষ্কার বোঝা যায় না। সম্প্রতি বড় একটি মসজিদে কাজ করতে গিয়ে আরও পরিস্কার হলো, সমস্যাটা সবসময় sound system-এর নয়; অনেক ক্ষেত্রে সমস্যার শুরু আরও আগে, মসজিদের architecture ও interior design থেকেই।
বাংলাদেশে নতুন নতুন সুন্দর মসজিদ তৈরি হচ্ছে। কোনোটি কোটি টাকা ব্যয়ে, কোনোটি আরও বেশি। দৃষ্টিনন্দন tiles, marble, চকচকে দেয়াল, Thai aluminium-এর বিশাল glass window, উঁচু ceiling, dome, ঝাড়বাতি। স্থাপত্যের সৌন্দর্যে কোনো কমতি নেই।
কিন্তু মসজিদ চালু হওয়ার পর যখন ইমাম সাহেব মাইক্রোফোনে কথা বলতে শুরু করেন, তখন অনেক ক্ষেত্রেই একটি অদ্ভুত সমস্যা সামনে আসে।
শব্দ আছে, কিন্তু কথা পরিষ্কার নয়। সামনের কাতারে হয়তো বোঝা যাচ্ছে, পেছনে গিয়ে শব্দ ঘুরছে। কোথাও echo, কোথাও একই শব্দের সঙ্গে তার reflection মিশে যাচ্ছে। ইমাম সাহেব একটু দ্রুত বললে একটি শব্দের শেষাংশের সঙ্গে পরের শব্দের শুরু মিশে যায়।
তারপর শুরু হয় সমাধানের চেষ্টা। আরও দামি microphone, আরও বড় amplifier, আরও speaker, Digital processor, Equalizer, Sound engineer-
তারপরও কাঙ্ক্ষিত clarity আসে না। শেষ পর্যন্ত বলা হয়, "মসজিদে acoustic treatment লাগবে।"
কিন্তু তখন মসজিদ তো তৈরি হয়ে গেছে। অডিটোরিয়াম বা রেকর্ডিং স্টুডিওতে যেভাবে acoustic treatment করা যায়, মসজিদে ঠিক একইভাবে তা করা সবসময় সম্ভব নয়। কারণ দৃশ্যমান acoustic panel বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ কাঠামো মসজিদের নান্দনিকতা ক্ষুণ্ণ করতে পারে এবং মুসল্লিদের সালাতের মনোযোগেও ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তাই মসজিদের acoustic solution ভবন ডিজাইন ও নির্মাণের সময়ই করতে হয় এবং এর খুব একটা বিকল্প নেই।
*আসল ক্ষতিটা কোথায় হচ্ছে?*
সমস্যা হলো, মসজিদের যে কাজটা সরাসরি দাওয়াতের সাথে জড়িত এবং মানুষের জীবনের আত্মিক পরিশুদ্ধি ও পরিবর্তন ঘটাতে পারে, যেমন- খুতবা, তালিম, দারস, ওয়াজ, কুরআন তিলাওয়াত- তার পুরোটাই দাঁড়িয়ে আছে "কথাটা বোঝা গেল কি না" তার উপর। আর এখানেই আমরা নীরবে হেরে যাচ্ছি।
উপরন্তু এই টেক যুগে মানুষের শোনার চাহিদা বদলে গেছে। আজকের মুসল্লি সারাদিন কী শোনেন? ইয়ারবাডে ক্রিস্টাল-ক্লিয়ার পডকাস্ট। মোবাইলে HD ভিডিও। গাড়িতে ভালো স্পিকার। বাসায় HD সাউন্ডে খবর, ইউটিউবে ক্রিস্টাল ক্লিয়ার সাউন্ডে বিদেশি শায়খের লেকচার, প্রফেশনাল মাইক্রোফোনে রেকর্ড করা প্রতিটি শব্দ স্পষ্ট, কোমল ও প্রশান্তিদায়ক।
তারপর তিনি জুমায় এসে শোনেন ফাটা স্পিকারে প্রতিধ্বনিতে জড়ানো কণ্ঠ।
এখন মানুষের এমনিতেই মনোযোগের ক্ষমতা কমে গেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে মানুষ ১৫ সেকেন্ডে সিদ্ধান্ত নেয় শুনবে কি না। রিলস, শর্টস, স্ক্রলিং- এসব মস্তিষ্ককে শিখিয়েছে, বোঝা না গেলেই পরেরটায় চলে যাও। মসজিদে "পরেরটায়" যাওয়ার উপায় নেই, তাই মানুষ ভেতরে ভেতরে চলে যায় অন্য জগতে, শব্দগুলো কানে আসে ঠিকই কিন্তু মস্তিস্কে ঢোকে না।
চল্লিশ মিনিটের গভীর একটা খুতবা মনোযোগ ধরে রাখতে পারে কেবল তখনই, যখন প্রতিটি বাক্য পরিশ্রম ছাড়া বোঝা যায়। অস্পষ্ট শব্দ শুনতে মস্তিষ্ককে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়; গবেষণায় একে বলে "listening effort"। সেই পরিশ্রম ৫-৭ মিনিটে ক্লান্তি আনে, তারপর মানুষ শোনা বন্ধ করে দেয়। খতিব বলে যান, শ্রোতা আর নেই।
ফলাফল যেটা কেউ মাপে না। একজন খতিব সপ্তাহভর প্রস্তুতি নিয়ে যে বক্তব্য তৈরি করেন, তা যদি কয়েক মিনিট পরে গিয়ে অর্থহীন গুঞ্জন হয়ে যায়, ক্ষতিটা হয় দাওয়াহর, ক্ষতিটা হয় উম্মাহর। সমাজ পরিবর্তনের যে বার্তা মিম্বার থেকে দেওয়ার কথা ছিল, তা সপ্তাহে সপ্তাহে দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে হারিয়ে যায়।
আমরা মসজিদে সবচেয়ে বেশি টাকা খরচ করি টাইলস, মার্বেল, ঝাড়বাতি আর গম্বুজের কারুকাজে, অর্থাৎ যা দেখা যায় তাতে। আর সবচেয়ে কম মনোযোগ দিই যা শোনা যায় তাতে, অথচ এর মাধ্যমেই মানুষের কাছে পৌঁছে কুরআন, খুতবা, ইলম ও নসিহাহ, যা মানুষকে পরিশুদ্ধ করে এবং উম্মাহর চিন্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে ভূমিকা রাখে।
*দামী Sound system দিয়ে architecture-এর ভুল পুরোপুরি ঠিক করা যায় না*
একটি বিষয় আমাদের প্রথমেই বুঝতে হবে। মসজিদ নির্মাণ সাধারন একটি বাসা বাড়ি বা অফিস নির্মাণ নয়। ষ্ট্রাকচারাল ও ফ্যাসিলিটিজ বিবেচনায় এটি পাবলিক ভবনের মত হলেও এটি আসলে অডিটোরিয়ামের মত একটি অত্যন্ত speech-critical space, যেখানে মানুষের কাছে বক্তব্য পরিষ্কারভাবে পৌঁছানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই Masjid Acoustics নিজেই একটি বিশেষ গবেষণার বিষয়।
TU Berlin-এর গবেষক Wasim A. Orfali তাঁর ২০০৭ সালের গবেষণা “Sound Parameters in Mosques”-এ দেখিয়েছেন যে auditorium, opera house বা multipurpose hall-এর acoustic criteria সরাসরি মসজিদে প্রয়োগ করা যথেষ্ট নয়। মসজিদের volume, form এবং বিভিন্ন ধরনের ব্যবহার বিবেচনা করে আলাদা acoustic parameters প্রয়োজন।
অর্থাৎ, মসজিদের acoustics কোনো sound-system vendor-এর শেষ মুহূর্তের কাজ নয়। এটি architectural design-এরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
*আমাদের মসজিদগুলোতে সমস্যা কোথায়?*
শব্দ/Sound এর মূল সমস্যা হলো এটি একটি surface-এ গিয়ে হয় absorb হয়, নয়তো reflect হয়। Carpet, acoustic panel, fabric এবং কিছু porous material-এ শব্দ অংশিকভাবে absorb হতে পারে। অন্যদিকে কাঁচ, টাইলস, মার্বেল, কনক্রিট, কাঠের প্যানেল এবং প্লাস্টার করা দেয়াল সাধারণত অনেক বেশি sound reflective।
এখন আমাদের একটি টিপিক্যাল মসজিদ কল্পনা করুন-
মেঝেতে টাইলস বা মার্বেল, জানালায় বিশাল কাঁচ, দেয়ালে টাইলস বা ডিস্টেম্পার করা প্লাস্টার, ছাদে ও স্মুথ প্লাস্টার (কখনো বড় dome-ও রয়েছে)। ইমাম সাহেবের কণ্ঠ speaker থেকে বের হওয়ার পর একটি অংশ সরাসরি আপনার কানে আসছে। কিন্তু আরেকটি অংশ দেয়াল, গ্লাস, সিলিং বা টাইলস-এ ধাক্কা খেয়ে কয়েকবার reflect হয়ে কিছুটা পরে আবার আপনার কানে আসছে। ফলে আপনি একই syllable-এর direct sound এবং delayed reflected sound একসঙ্গে শুনছেন। যা বক্তব্যকে আপনার কানে অস্পষ্ট করে তুলছে। ফলে microphone বা speaker খারাপ না হলেও কথা অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
বিষয়টি বাংলাদেশের মসজিদের কোনো বিচ্ছিন্ন সমস্যা নয়। এটি আন্তর্জাতিকভাবে documented একটি architectural-acoustics problem।
*গবেষণা কী বলছে?*
২০০৩ সালে Journal of the Acoustical Society of America তে প্রকাশিত Adel A. Abdou-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় সৌদি আরবের ২১টি মসজিদে field measurement করা হয়।
গবেষকরা মাপেন:
- Reverberation Time বা RT,
- Speech Transmission Index বা STI,
- speech clarity,
- background noise,
- air-conditioning ও ceiling fan-এর প্রভাব,
- এবং sound reinforcement system চালু ও বন্ধ অবস্থায় পার্থক্য।
গবেষণায় বিভিন্ন মসজিদে acoustic deficiencies পাওয়া যায় এবং mosque design-এর জন্য acoustic target নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়।
*দুটি শব্দ আমাদের জানা দরকার: RT এবং STI*
মসজিদ নির্মাণের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক architect এবং engineer-এর অন্তত এই দুটি term জানা উচিত।
১. Reverberation Time বা RT:
সহজভাবে বললে, কোনো sound বন্ধ হওয়ার পর room-এর মধ্যে সেই sound-এর energy কতক্ষণ টিকে থাকে, তার একটি measure হলো reverberation time।
RT অতিরিক্ত বেশি হলে আগের শব্দ শেষ হওয়ার আগেই পরের শব্দ চলে আসে। ফলে, শব্দ জোরে শোনা যায়, কিন্তু কথা বোঝা যায় না।
আন্তর্জাতিকভাবে room acoustics-এর reverberation এবং অন্যান্য acoustic parameter measurement-এর জন্য ISO 3382-1:2009, Acoustics: Measurement of room acoustic parameters বহুল স্বীকৃত একটি standard framework।
২. Speech Transmission Index বা STI:
STI দিয়ে মূলত বোঝার চেষ্টা করা হয় একটি room এবং sound system-এর মধ্য দিয়ে মানুষের speech কতটা বোধগম্য হয়ে শ্রোতার কাছে পৌঁছাচ্ছে।
এর আন্তর্জাতিক measurement methodology রয়েছে:
IEC 60268-16:2020, Sound system equipment, Part 16: Objective rating of speech intelligibility by Speech Transmission Index.
অর্থাৎ, একটি মসজিদের acoustic performance পরিমাপযোগ্য এবং শব্দের স্পষ্টতা পরিমাপযোগ্য এবং এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই বিশ্বে ষ্ট্যান্ডার্ড নির্ধারিত আছে।
*সবচেয়ে বড় ভুল: Building আগে, acoustics পরে*
আমাদের প্রচলিত পদ্ধতি হলো:
Architect প্লান ও স্থাপত্য ডিজাইন করলেন। এরপর Civil engineer structural ডিজাইন ও ভবণ নির্মাণ করলেন। তারপর Interior designer টাইলস, মার্বেল, কাঁচ জিপসাম সিলিং এবং decoration করলেন। মাঝে Electrical engineer wiring করলেন। এবং সব শেষ হওয়ার পরে একজন sound-system supplier-কে ডেকে বলা হলো,
> "এখন সুন্দর একটা sound system লাগিয়ে দেন।"
এটি অনেকটা এমন যে, একটি নান্দনিক সেতু তৈরি করা হলো, অনেক শক্ত ফাউন্ডেশনও দেয়া হলো, কিন্তু ডিজাইনের আগে ট্রাফিকের পরিমাণ বিবেচনা না করায় সেতুটি প্রয়োজনের তুলনায় সরু হয়ে গেল। সব কাজ শেষ হওয়ার পর ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারকে ডেকে বলা হলো, “এখন এমন ব্যবস্থা করুন, যেন এখানে কোনো যানজট না হয়।”
Sound system অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক loudspeaker directivity, quality, positioning, delay, DSP এবং zoning অনেক উন্নতি করতে পারে।
কিন্তু room নিজেই যদি অত্যন্ত reflective হয়, তাহলে দামী sound system দিয়েও সমস্যার পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব হবে না। তখন উন্নত sound system-এর পাশাপাশি দেয়াল ও ceiling-এ আলাদাভাবে acoustic treatment করতে হতে পারে, যা মসজিদের স্থাপত্য ও নান্দনিকতার সঙ্গে মানানসই নাও হতে পারে এবং মুসল্লিদের সালাতে মনোযোগেও ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
তাই মসজিদ নির্মাণের সঠিক ক্রম হওয়া উচিৎ এমন-
জমি → সাউন্ডের লক্ষ্য নির্ধারণ → ডিজাইন → নির্মাণ → সাউন্ড অনুযায়ী ইন্টেরিয়র → সাউন্ড সিস্টেম → হস্তান্তরের আগে মেপে যাচাই
পার্থক্যটা টাকার নয়, ক্রমের। ডিজাইন পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নিলে বাড়তি খরচ প্রায় শূন্য
*তাহলে মসজিদ নির্মাণের সময় কী করা উচিত?*
মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত, মসজিদকে শুরু থেকেই এমনভাবে design করা যাতে sound reflection কম তৈরি হয় এবং interior-এর মধ্যেই প্রয়োজনীয় absorption ও diffusion তৈরি হয়। পরে গিয়ে Sound নিয়ে যেন বিপাকে পড়তে না হয়।
*Architectural design-এ যে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে*
Architect রুমের geometry ও architectural design দিয়েই শুরুতে অনেক acoustic সমস্যা কমিয়ে দিতে পারেন। অর্থাৎ sound system বসানোর আগেই building-এর shape, ceiling, wall, dome, opening এবং surface treatment এমনভাবে design করা যায়, যাতে unwanted reflection, echo ও sound focusing কমে এবং speech clarity বাড়ে।
যেমন:
1. বিশাল parallel ও uninterrupted wall এড়িয়ে কিছু surface angled, faceted বা stepped করা
2. Flat ceiling-এর বদলে coffered, segmented বা বিভিন্ন level-এর ceiling ব্যবহার করা
3. Dome থাকলে তার shape ও inner surface এমনভাবে design করা, যাতে sound এক জায়গায় focus না করে
4. বিশাল continuous glass façade-এর পরিবর্তে ছোট ছোট window section, recessed opening বা divided glazing রাখা
5. দীর্ঘ smooth wall-এ niches, columns, screens, shelves বা architectural detailing দিয়ে surface ভেঙে দেওয়া
6. Cylindrical বা rounded column ব্যবহার করা, কারণ এগুলো flat square column-এর মতো একদিকে strong reflection না দিয়ে sound বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে
7. Concave এড়িয়ে convex ব্যবহার করা: গোল column, উত্তল band, বাঁকানো cornice নিজেরাই diffuser; আর যেকোনো curved surface-এর center of curvature যেন মুসল্লিদের মাথার উচ্চতায় (মেঝে থেকে ১–২ মি) না পড়ে
8. square column হলে একেবারে smooth না রেখে faceted, grooved বা slatted surface করা, যাতে sound scattering বাড়ে
9. Detailing-এর মাপ ঠিক রাখা: depth variation ৫–৩৫ সেমি হলে তবেই speech frequency ছড়ায়; ২ সেমি গভীর খাঁজ শুধু দেখতে ভালো, কানে কিছুই করে না। আর rhythm যেন অনিয়মিত হয়, একদম সমান repetition কণ্ঠে ধাতব coloration আনে
10. খোলা opening রাখা: খোলা জানালা ১০০% absorber; রাস্তার দিক বন্ধ রেখে ভেতরের উঠান/সবুজের দিকে খুলে দিতে পারেন
মূল বিষয়টি হলো: Acoustics-কে construction শেষে যোগ করার বিষয় না বানিয়ে, শুরু থেকেই architecture-এর অংশ হিসেবে design করা।
*Interior design-টাই হোক acoustic treatment*
এরপর interior designer এমন material নির্বাচন করবেন, যাতে সৌন্দর্যের পাশাপাশি sound absorption-ও পাওয়া যায়।
যেমন:
1. সাধারণ gypsum ceiling-এর জায়গায় perforated acoustic gypsum ceiling ব্যবহার করা
2. Decorative wood, jali বা Islamic geometric panel-এর পেছনে acoustic insulation রাখা
3. smooth plaster-এর বদলে প্রয়োজনমতো acoustic plaster বা absorptive finish ব্যবহার করা
4. বড় smooth marble, tile বা glass surface সীমিত রেখে textured, grooved, slatted বা perforated finish ব্যবহার করা
5. Wide column-কে পুরো marble দিয়ে clad না করে decorative wood-slat বা perforated cladding-এর পেছনে absorber রাখা
6. Wall-এর নির্দিষ্ট অংশে bookshelves, niches, screens বা recessed panels দিয়ে বড় reflective surface ভেঙে দেওয়া
7. Rear wall-এ decorative feature-এর সঙ্গে hidden acoustic absorption integrate করা
8. Ceiling-এর decorative coffers, ribs বা suspended elements-এর মধ্যে absorptive material লুকিয়ে দেওয়া
9. Wooden slat wall বা ceiling ব্যবহার করলে slat-এর পেছনে mineral wool বা acoustic backing রাখা, শুধু wood slat দিলেই যথেষ্ট নয়
10. Fabric panel প্রয়োজন হলে plain studio panel-এর বদলে architectural fabric, calligraphy panel বা decorative artwork-এর ভেতরে absorber লুকিয়ে দেওয়া
11. Curtain/পর্দা প্রয়োজন হলে thin decorative curtain-এর বদলে heavy, pleated fabric ব্যবহার করা; ওজন কমপক্ষে ৪০০–৫০০ g/m², প্রস্থের ১.৫–২ গুণ কুঁচি, এবং কাচ থেকে ১০০–২০০ মিমি দূরে ঝোলানো।
12. দরজা, partition ও movable screen-এর finish এমন রাখা, যাতে এগুলো অতিরিক্ত hard reflective surface না হয়ে যায়
13. Carpet নির্বাচন করার সময় শুধু design নয়, pile thickness ও underlay-ও বিবেচনা করা, কারণ underlay absorption বাড়াতে পারে
14. Wall-to-wall carpet থাকলেও শুধু floor absorption-এর ওপর নির্ভর না করে wall ও ceiling-এও acoustic control রাখা
15. Furniture, shelves ও built-in elements এমনভাবে arrange করা, যাতে বড় flat wall বা corner পুরোপুরি exposed না থাকে
16. Decorative ceiling feature-এর ভেতরে HVAC diffuser এমনভাবে integrate করা, যাতে air noise কম থাকে
17. Absorber শুধু এক জায়গায় না রেখে ceiling, rear wall ও upper wall-এ balanced ভাবে distribute করা, যাতে room অতিরিক্ত dead বা uneven না শোনায়
18. সব absorptive material-এর ক্ষেত্রে fire rating, durability, cleanability এবং maintenance বিবেচনা করা, বিশেষ করে বড় public mosque-এর জন্য
19. এরকম আরও অনেক আইডিয়া আসতে পারে
এভাবে interior design থাকবে নান্দনিক ও সম্পূর্ণ architectural, কিন্তু অদৃশ্যভাবে পুরো interior-টাই একটি integrated acoustic system হিসেবে কাজ করবে। এতে পরে আলাদা acoustic treatment-এর প্রয়োজন ও খরচ কমবে, আর পরবর্তীতে যোগ করা দৃশ্যমান panel বা treatment-এর কারণে মসজিদের সৌন্দর্য ও architectural harmony নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও থাকবে না। এবং room acoustics ভালো হলে তুলনামূলক কম খরচের sound system দিয়েও পরিষ্কার ও বোধগম্য sound পাওয়া সম্ভব হবে।
*মসজিদ কমিটির প্রতিও একটি অনুরোধ*
মসজিদ বানানোর সময় আমরা tiles-এর colour, marble কোথা থেকে আসবে, dome কেমন হবে, chandelier কত বড় হবে, mihrab কত সুন্দর হবে, এসব নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করি। কিন্তু design meeting-এ আমরা কতবার এই প্রশ্নটি করি যে, ইমাম সাহেব যখন কুরআন তিলাওয়াত করবেন বা খুতবা দেবেন, তখন তাঁর প্রতিটি শব্দ মুসল্লিরা পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারবে কি না? অথচ একটি মসজিদের মূল উদ্দেশ্য শুধু চোখে সুন্দর লাগা বা visual impression তৈরি করা নয়। এখানে মানুষ আল্লাহর ইবাদত করবে, কুরআন শুনবে, দ্বীন শিখবে এবং নসিহাহ গ্রহণ করবে। একজন খতিব হয়তো চল্লিশ মিনিট প্রস্তুতি নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খুতবা দিলেন, সামনে কয়েকশ মুসল্লি বসে আছেন, কিন্তু room acoustics খারাপ হওয়ার কারণে পেছনের অর্ধেক মানুষ যদি তাঁর কথাই পরিষ্কারভাবে বুঝতে না পারেন, তাহলে সেটি শুধু একটি technical problem নয়, বরং আমরা দাওয়াহর message delivery-তেই একটি বাধা তৈরি করেছি। তাই মসজিদ কমিটির উচিত শুধু কী দেখা যাবে, সেটার ওপর নয়, কী শোনা যাবে এবং কতটা পরিষ্কারভাবে শোনা যাবে, সেটার ওপরও সমান গুরুত্ব দেওয়া। Architect, interior designer এবং sound consultant-কে শুরু থেকেই একসঙ্গে নিয়ে room geometry, ceiling, dome, wall, floor, materials এবং sound system এমনভাবে পরিকল্পনা করা দরকার, যাতে মসজিদ একই সঙ্গে সুন্দরও হয় এবং প্রতিটি মুসল্লির কাছে কুরআন, খুতবা ও নসিহাহ পরিষ্কারভাবে পৌঁছায়।
*Architects এবং Engineers ভাইদের প্রতি*
মসজিদ design শুধু আরেকটি building project নয়। Ceiling, glass, marble, wall finish বা dome-এর geometry বহু বছর সালাত, কুরআন তিলাওয়াত, খুতবা ও দ্বীনি শিক্ষার অভিজ্ঞতাকে প্রভাবিত করবে। তাই aesthetics, structure, HVAC ও fire safety-এর মতো acoustics-কেও formal design discipline হিসেবে নিন। প্রয়োজনে specialist, simulation ও final measurement ব্যবহার করুন।
*শেষ কথা*
আমাদের হয়তো মসজিদ নির্মাণের ধারণাটাই একটু বদলাতে হবে। আগে building বানাব, পরে sound system দিয়ে শব্দ ঠিক করব, এই চিন্তার পরিবর্তে শুরু থেকেই Architecture + Acoustics + Sound System, সবকিছুকে একসঙ্গে design করতে হবে।
একটি সুন্দর মসজিদ চোখকে প্রশান্তি দেয়। আর একটি acoustically well-designed মসজিদে কুরআনের প্রতিটি আয়াত, ইমামের প্রতিটি তাকবীর এবং খতিবের প্রতিটি নসিহাহ মুসল্লিদের কাছে পরিষ্কারভাবে পৌঁছায়।
মসজিদের দেয়াল সুন্দর হওয়া অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেই সৌন্দর্য যেন খতিবের কথাই মুসল্লিদের কাছ থেকে কেড়ে না নেয়।
---- Md. Saifullah-Al-Rashhedi, Civil-99, RUET, [email protected],
________________________________________
*নির্বাচিত আন্তর্জাতিক গবেষণা ও Standards:*
1. ISO 3382-1:2009
Acoustics: Measurement of room acoustic parameters, Part 1: Performance spaces.
Room reverberation ও অন্যান্য acoustic parameter measurement-এর আন্তর্জাতিক standard framework।
2. IEC 60268-16:2020
Sound system equipment, Part 16: Objective rating of speech intelligibility by Speech Transmission Index.
STI-এর মাধ্যমে speech intelligibility measurement ও prediction-এর international methodology।
3. Adel A. Abdou, 2003
Measurement of Acoustical Characteristics of Mosques in Saudi Arabia, Journal of the Acoustical Society of America, 113(3), 1505-1517.
২১টি মসজিদের field measurement-ভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা। DOI: 10.1121/1.1531982.
4. Wasim A. Orfali, 2007
Sound Parameters in Mosques, Proceedings of Meetings on Acoustics, Acoustical Society of America.
Mosque-specific acoustic parameters ও mosque volume অনুযায়ী acoustic design নিয়ে গবেষণা। DOI: 10.1121/1.2829306.
5. H. A. Hamadah & H. M. Hamouda, 1998
Assessment of Speech Intelligibility in Large Auditoria: Case Study, Kuwait State Mosque, Applied Acoustics, 54(4), 273-289.
একটি বৃহৎ মসজিদে speech intelligibility নিয়ে সরাসরি গবেষণা।
6. Mostafa Refat Ismail, 2013
A Parametric Investigation of the Acoustical Performance of Contemporary Mosques, Frontiers of Architectural Research, 2(1), 30-41.
মসজিদের geometry, volume এবং architectural design-এর সঙ্গে acoustic performance-এর সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা।
7. Kaygısız et al., 2024
Acoustic Analysis of the Masjid at Necmettin Erbakan University Köyceğiz Campus, Buildings, 14, 3330.
Contemporary mosque-এর passive acoustics, reverberation এবং speech intelligibility নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণা।