02/06/2025
আপনাদের মিশন ছিল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে।
বিএনপি বা জামাতের বিরুদ্ধে নয়।
আপনারা এখন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগকে নিষিদ্ধ করেছেন । ওরা এখন আপনাদের শ*ত্রু ।
এই এক বিশাল গ্রুপ এখন আপনাদের বিপক্ষ।
এখন আবার বিএনপির বিরুদ্ধেও খোঁচা দিয়ে কথা বলছেন—তাহলে আরও প্রায় চল্লিশ শতাংশ মানুষও আপনাদের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে।
সবাইকে একসাথে বিপক্ষে বানালে হবে?
একসাথে দুই দলের সাথে ম্যাচ খেলে টিকতে পারবেন? আওয়ামীলীগ ছাত্রলীগের কিছু নেতা পালিয়েছে , অনেকেই কিন্তু দেশে আছে ভিন্ন রূপে ।
আমার পাশের জেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একজন চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য এক কোটি টাকা খরচ করেছেন।
এই এক কোটি টাকা দিয়ে সে পনেরো-বিশ বার হজ করতে পারতেন।
অথচ হজ না করে নির্বাচন করে চেয়ারম্যান হয়েছেন। কেন?
জনসেবা করতে?
এটা সবাই জানে, নেতারা আসলে কি জনসেবা করেন।
বাংলাদেশে রাজনীতি মানেই টাকা কামানোর উপায়।
মুখে মুখে সবাই নিজেকে যতই ফেরেশতা বলে , সবই ধোঁকা।
যদি এত সৎ হতেন, তাহলে রাজনীতিবিদদের গাড়ি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, কোম্পানি, ব্যাংকে টাকা—এসব আসত কোথা থেকে?
ছেলে-মেয়েরা বিদেশে পড়াশোনা করে—সেই খরচ আসে কোথা থেকে?
একসাথে সবার পেছনে লাগতে নেই।
একই সাথে সবাইকে শ*ত্রু বানালে নিজের অস্তিত্বই থাকবে না।
কি আছে হাসনাত সার্জিস ভাইয়ের কপালে?
কেমন হবে তাদের আগামীর দিনগুলো?
আশেপাশের সবাই তো স্বার্থের জন্য বিক্রি হয়ে যাবে—তখন কে দাঁড়াবে উনার পাশে?
যুদ্ধ তো শেষ।
বিজয়ী যো*দ্ধাদের নিয়ে এখন হাসি-তামাশা শুরু হয়ে গেছে।
থুতু বা পেচ্ছাব দিয়ে ভাসিয়ে দেয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে।
এই হাসনাত ভাইয়েরা কোন ফর্মুলায় চলছেন?
কে তাদের অ্যাডভাইজার?
আওয়ামী লীগ তাদের শ*ত্রু, বিএনপিও তাদের পছন্দ করে না।
যদিও বিএনপির সাথে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার পেছনে দু’পক্ষেরই কিছু ভুল ছিল, যা আদৌ প্রয়োজন ছিল না।
এখন তাদের পাশে কে থাকবে? জামাত-শিবির?
হাসনাত ভাইয়ের মত বীর হাজার বছরে একটা জন্মায় কিনা সন্দেহ।
উনার অনেক কথা আমি শেয়ার করেছি, উনার পক্ষে কথা বলেছি।
যু*দ্ধ শেষ হলে কামানের আর কোনো দাম থাকে না।
যু*দ্ধ বিমানও পরে থাকে অযত্নে ।
মুক্তিযো*দ্ধারা সার্টিফিকেট আর ভাতা পান ঠিকই, কিন্তু সম্মান হারান।
বইয়ে জায়গা পান, মুক্তিযু*দ্ধ নিয়ে ব্যবসা হয়—আবার অপমানও হয়। এটাই বাস্তবতা।
আপনাদের অপারেশন শেষ হওয়ার পরপরই উচিত ছিল একজন যোগ্য গার্ডিয়ান ঠিক করা।
কিন্তু আপনারা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগে অনেক দেরি করে ফেলেছেন।
ভাই, সবার পেছনেই লাগতে পারতেন, সুযোগ আসতোই।
কিন্তু প্রক্রিয়াটা ভিন্ন হওয়া উচিত ছিল।
শেখ হাসিনাকে সরিয়ে দিয়ে আপনারা কিছুটা অহংকারে পড়ে গিয়েছিলেন ,
বিনা কারণে শ*ত্রু বানিয়ে ফেলেছেন অনেককে—যা এত দ্রুত করাটা প্রয়োজন ছিল না।
আপনারা যদি একা নির্বাচন করেন, কে আপনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে?
আপনারা দিয়েছেন দেশকে , সেটা নিশ্চয়ই সেরা একটা কাজ ছিল ।
কিন্তু এখন সামনে কীভাবে এগুবেন?
কার সঙ্গে জোট বাঁধবেন?
সামনের দিনের পরিকল্পনা কী হবে—এসবের দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে আগামীর দিনগুলো খুব কঠিন হয়ে যাবে।
আপনারা অনেক কিছু করতে পারবেন।
কিন্তু মনে রাখতে হবে—অনেক কিছু করার জন্য আগে বেঁচে থাকতে হবে।
এখন আপনাদের জন্য সবচেয়ে বড় যু*দ্ধ—বেঁচে থাকার যু*দ্ধ।
আর এই যুদ্ধের পরিস্থিতিটাও তৈরি হয়েছে কিছু ভুল সিদ্ধান্তের ফলেই।আপনারা আমার চেয়ে ভাল বুঝেন , নিশ্চই ভাল কোন পরিকল্পনা আছে আপনাদের । আপনাদের ভাল কিছু দেখার অপেক্ষায় ।আপনাদের গাছের ফল তো এখন অতিথি পাখিরা খাচ্ছে , আর ফল খেয়ে খেয়ে আপনাদের বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে ।
#বাংলাদেশ #বাংলাদেশের