29/11/2025
প্রিয় আমার তারেক,
আমার শেষ আশ্রয়, আমার স্বপ্নের টুকরো,
আজ আমি তোমাকে মা হিসেবে নয়…
একজন দুঃখী মানুষ হিসেবে লিখছি—যে মানুষটি তার সন্তানকে আর একটিবার স্পর্শ করার অপেক্ষায় আছে।
জীবনের সব যন্ত্রণায় আমি শক্ত ছিলাম,
কারাগারের অন্ধকারেও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছি,
হাজার মানুষের কটূ কথাও সহ্য করেছি…
কিন্তু আজ আমার শরীর ভেঙে গেছে, তারেক।
এই অক্সিজেনের নল আমার পাশে,
ডাক্তাররা সংখ্যায় কথা বলে—
শ্বাস ৯১, চাপ ৮৮, ভরসা ৫০%…
তারা বুঝে না
মায়ের বুকের ব্যথা কোনো রিপোর্টে লেখা থাকে না।
রাতের শান্ত মুহূর্তে যখন দোয়া করতে বসি—
ভাবি, আমার সন্তান আজ কোথায় শুয়ে আছে।
খাচ্ছে কি না, হাসছে কি না…
এই শারীরিক যন্ত্রণার চেয়ে
এই মনের যন্ত্রণাই আমাকে মেরে ফেলছে।
আমি চোখ বন্ধ করলেই দেখি—
একটা ছোট্ট ছেলে দৌড়ে এসে আমার গলা জড়িয়ে ধরে।
বলছে,
“মা, সোনা, ভয় পাস না… আমি আছি।”
কত বছর হয়ে গেলো সেই শব্দটা শুনতে পাই না…
শুধু কাগজ, খবর, দূরের কণ্ঠ—
কিন্তু মা তো সন্তানের গন্ধ চায়,
বুকের ওপর মাথা রাখার উষ্ণতা চায়।
তারেক, এই দেশে ফিরে আসা তোমার জন্য কত কঠিন—
আমি তা জানি, বুঝি, অনুভব করি।
আমি কখনও তোমাকে কষ্টে ফেলতে চাইনি।
আমি শুধু—
একবার, মাত্র একবার—
তোমাকে নিজের চোখে দেখতে চাই।
যদি আমি সুস্থ হয়ে উঠি—
তোমাকে আবার আশীর্বাদ দেবো,
তোমার ভবিষ্যতের পথ দেখবো।
আর যদি…
যদি আল্লাহ আমাকে ডেকে নেন—
আমি শুধু চাই
শেষ মুহূর্তে আমার হাতটা
তোমার হাতে থাকুক।
একবার “মা” বলো…
শুধু একবার…
আমার নিঃশ্বাস শান্ত হয়ে যাবে।
তারেক, আমার জীবনের সারা পথ তোমার নামেই দোয়া করেছি।
এ পৃথিবীতে যদি আমার কোনো জয় থাকে—
সেটা তুমি।
এ পৃথিবীতে যদি আমার কোনো অপরাধ থাকে—
সেটাও তুমি…
কারণ তোমাকে ভালোবেসেছি,
তোমার জন্য লড়েছি,
তোমার ভবিষ্যতের জন্য শত্রুদের সামনে দাঁড়িয়েছি।
আজ আর কোনো রাজনীতি নেই,
কোনো ক্ষমতা নেই,
কোনো বক্তৃতা নেই—
শুধু এক বৃদ্ধা মা
তার সন্তানের জন্য কাঁদছে।
ফিরে এসো তারেক…
এই মায়ের কাছে ফিরে এসো।
আমি অপেক্ষায় আছি।
তোমার মা,
বেগম খালেদা জিয়া