21/05/2026
একটা ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে, দিনের আলোতে বহিরাগত টোকাই ও সন্ত্রাসীদের নিয়ে এসে হামলা করার পরও কিছু ইঞ্জিনিয়ারিং-রিলেটেড পেজে সেটাকে নিয়ে মিম ও ট্রল করতে দেখলাম। সত্যি বলতে, ইঞ্জিনিয়ার হলেই মানুষ হওয়া যায় না; মানুষ হওয়ার জন্য ন্যূনতম মানবিকতা ও বিবেকও প্রয়োজন। দোয়া করি, তোমাদের কোনো ক্যাম্পাস যেন কখনো এমন পরিস্থিতির শিকার না হয়। কারণ যারা এমন হামলার মুখোমুখি হয়, তারাই শুধু সেই বিভীষিকা, আতঙ্ক আর অসহায়ত্ব বুঝতে পারে।
আরও অবাক লাগলো যখন দেখলাম আইডিইবির কবীরকে ভিসি করার মতো বিষয় নিয়েও ট্রল করা হচ্ছে। অথচ আমি ডুয়েটের সিভিল ও মেকানিক্যাল বিভাগের ফ্যাকাল্টি লিস্ট দেখে অন্তত ১০ জন করে বুয়েট ও রুয়েট গ্রাজুয়েট প্রফেসর পেয়েছি। তাহলে কি এখন বলা হবে, বুয়েট বা রুয়েট থেকে পাশ করা এই শিক্ষকরা যোগ্য নন?
সাস্ট থেকে আসা বর্তমান ভিসিকে নিয়ে আমাদের কোনো ব্যক্তিগত মন্তব্য নেই। কিন্তু যদি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যে উনাকে বাদ দিলে ডুয়েটে আর কেউ যোগ্য নেই, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে বুয়েট, রুয়েট, চুয়েট এত বছর ধরে কী ধরনের শিক্ষক ও প্রকৌশলী তৈরি করেছে?
ছাত্রদল বলেছে, জামাতপন্থী ভিসি আনার জন্য শিবির সহিংসতা করেছে। ছাত্রদলের কাছেও প্রশ্ন থাকে ডুয়েটে কি কোনো যোগ্য বিএনপিপন্থী শিক্ষক নেই, যাকে নেতৃত্বের জন্য বিবেচনা করা যেতে পারে? একইসঙ্গে ডুয়েট শিক্ষার্থীদের প্রতিও আহ্বান থাকবে, ভিসি ইস্যুকে কেন্দ্র করে সহিংসতার পথে যাওয়া কখনোই সমাধান হতে পারে না। সরকার যেহেতু সিদ্ধান্ত দিয়েছে, সেটিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মেনে নিয়েই যৌক্তিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে মত প্রকাশ করা উচিত। তবে হামলার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতের ক্যাম্পাস জীবন আরও বিভীষিকাময় হয়ে উঠবে।
মতপার্থক্য থাকতেই পারে, বিরোধিতাও থাকতে পারে। কিন্তু প্রতিপক্ষ হলেও উত্তম প্রতিপক্ষ হওয়া উচিত। কোথায় কী বলা উচিত, কোন বিষয় নিয়ে রসিকতা করা যায় আর কোন বিষয় মানবিক সংবেদনশীলতার জায়গা এই বোধটুকু থাকা প্রয়োজন। শুধু বিরোধিতা করার জন্য সবকিছু নিয়ে ট্রল করার মানসিকতা পরিহার করা উচিত।
-KUET Informers