19/05/2026
"ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩"
*********************************************
এ আইনে মোট ২৭ টি ধারা রয়েছে।
ধারা-৪: ভূমি প্রতারণা সংক্রান্ত অপরাধ ও দন্ড।
অন্যের জমি নিজের দাবি করা, তথ্য গোপন করে কিংবা নিজের মালিকানার অতিরিক্ত কিংবা মিথ্যা পরিচয় দিয়ে কিংবা মিথ্যা বিবরণ দিয়ে কোন জমি বিক্রয় করা ভূমি প্রতারণা।
উক্ত অপরাধে অনধিক ৭ বছর জেল ও অর্থদন্ডে দন্ডিত হবেন।
উক্ত দন্ড প্রদানের এখতিয়ার ফৌজদারি আদালতের। (ধারা-২২)। এ আইনে বর্ণিত অপরাধ অ-জামিনযোগ্য।
ধারা-৫: ভূমি জালিয়াতি সংক্রান্ত অপরাধ ও দন্ড।
মিথ্যা দলিল প্রস্তুত; অসাধু বা প্রতারণামূলকভাবে দলিল প্রস্তুত, স্বাক্ষর, সিলমোহর প্রদান; সম্পাদিত দলিলের কোন অংশ পরিবর্তন, বা উক্ত অসাধু কাজ করতে কাউকে বাধ্য করা ভূমি জালিয়াতি।
উক্ত অপরাধে অনধিক ৭ বছর জেল ও অর্থদন্ডে দন্ডিত হবেন।
উক্ত দন্ড প্রদানের এখতিয়ার ফৌজদারি আদালতের। (ধারা-২২)। এ আইনে বর্ণিত অপরাধ অ-জামিনযোগ্য।
ধারা-৬(২): ভূমি বিষয়ক কোন কাজে উপস্থাপিত কোন দলিল প্রতারণা বা জালিয়াতির মাধ্যমে করা হয়েছে নিশ্চিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত উল্লেখ করে তা বিচারের জন্য ফৌজদারি আদালতে প্রেরণ করবে।
ধারা-৬(৩): কোন ব্যক্তির নামে সর্বশেষ খতিয়ান এবং দাখিলা না থাকলে তিনি উক্ত জমির দলিল সম্পাদন করতে পারবে না।
ধারা-৭: অবৈধ দখল প্রতিরোধ ও দন্ড।
(১) যথাযথ দলিল বা মালিকানা ছাড়া কোন ব্যক্তি কোন জমি দখলে রাখতে পারবে না।
(২) বৈধ মালিককে আদালত বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের আদেশ ব্যতীত দখলচ্যুত করা যাবে না।
উক্ত অপরাধে অনধিক ২ বছর জেল ও অর্থদন্ডে দন্ডিত হবেন।
তবে বৈধ দলিল আছে কিন্তু রেকর্ড নেই এমন ব্যক্তি রেকর্ড সংশোধনের জন্য আদালতে মামলা করলে তাকে দখলচ্যুত কিংবা দখলে যেতে বাধা প্রদান করা যাবে না।
ধারা-৮: অবৈধভাবে দখলচ্যুত ব্যক্তির দখল পুনরুদ্ধার।
কোন জমির বৈধ মালিককে দখলচ্যুত করা হলে তিনি দখল পুনরুদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্ট অধিক্ষেত্রের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করতে পারবেন।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, বাদী ও বিবাদীর বক্তব্য গ্রহণ ও সরেজমিন তদন্ত করে অভিযোগের বিষয় নিশ্চিত হলে দখল পুনর্বহালের আদেশ দিবেন এবং এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
কোনো দেওয়ানী আদালতে দখল পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত কোন মামলা বিচারাধীন থাকলে একই বিষয়ে এ ধারার অধীন কোন ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। তবে বিচারাধীন মামলার কোন পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত তা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রেরণ করতে পারবে।
এ ধারার অধীন কোন আদেশ অমান্য করলে বা বাধা প্রদান করলে অনধিক ২ বছর জেল ও অর্থদন্ডে দন্ডিত হবেন। (ধারা-১৫)।
উক্ত দন্ড প্রদানের এখতিয়ার ফৌজদারি আদালতের। (ধারা-২২)।
ধারা-৯: ক্রেতা বরাবর বিক্রিত জমির দখল হস্তান্তর না করার দন্ড।
নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ করা সত্ত্বেও যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া জমির দখল হস্তান্তর না করা হলে
বিক্রেতা অনধিক ২ বছর জেল ও অর্থদন্ডে দন্ডিত হবেন।
উক্ত দন্ড প্রদানের এখতিয়ার মোবাইল কোর্টের। (ধারা-২২)।
ধারা-১০: সীমানা বা ভূমির ক্ষতিসাধনের দন্ড।
যদি কোন ব্যক্তি অন্য কোন বৈধ মালিকের জমির সীমানা কিংবা জমিতে অবস্থিত স্থাপনা, বৃক্ষ, ফসলের কোন ক্ষতি সাধন করে তবে তিনি অনধিক ২ বছর জেল ও অর্থদন্ডে দন্ডিত হবেন।
উক্ত দন্ড প্রদানের এখতিয়ার মোবাইল কোর্টের। (ধারা-২২)।
ধারা-১১: সরকারি, আধা-সরকারী, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান বা জনসাধারণের ব্যবহার্য ভূমির অবৈধ দখল বা ক্ষতিসাধনের দন্ড।
উপরোক্ত অপরাধে অনধিক ২ বছর জেল ও অর্থদন্ডে দন্ডিত হবেন।
উক্ত দন্ড প্রদানের এখতিয়ার মোবাইল কোর্টের। (ধারা-২২)।
ধারা-১২: সরকারি, আধা-সরকারী, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান বা জনসাধারণের ব্যবহার্য ভূমির অবৈধ ভরাট, শ্রেণি পরিবর্তনের দন্ড।
উপরোক্ত অপরাধে অনধিক ২ বছর জেল ও অর্থদন্ডে দন্ডিত হবেন।
উক্ত দন্ড প্রদানের এখতিয়ার মোবাইল কোর্টের। (ধারা-২২)।
ধারা-১৩: মাটির উপরি-স্তর কর্তন ও ভরাটের দন্ড।
জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া যদি কোন ব্যক্তি আবাদযোগ্য জমির উপরি-স্তর কর্তন অথবা জমির মালিকের বিনা অনুমতিতে বালু বা মাটি দ্বারা ভরাট করেন তবে তিনি অনধিক ২ বছর জেল ও অর্থদন্ডে দন্ডিত হবেন।
উক্ত দন্ড প্রদানের এখতিয়ার মোবাইল কোর্টের। (ধারা-২২)।
তবে কোন ব্যক্তি তার প্রয়োজনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুমতিক্রমে নিজ মালিকানাধীন জমি হতে সীমিত পরিসরে বালু বা মাটি উত্তোলন করতে পারবেন।
ধারা-১৪: অপরাধ প্রতিরোধে ব্যবস্থা।
ধারা ১১, ১২, ১৩ এ বর্ণিত অপরাধে জেলা প্রশাসক প্রয়োজনীয় আদেশ দিবেন। এ ধারার কার্যক্রম "সরকার এবং স্থানীয় সরকারের ভূমি ও ভবন (সম্পত্তি পুনরুদ্ধার) অধ্যাদেশ, ১৯৭০"
এর আলোকে পরিচালিত হবে।
ধারা-১৫: আদেশ অমান্যে দন্ড।
ধারা-১৬: অপরাধ সংঘটনে সহায়তা বা প্ররোচনার দন্ড।
যদি কোনো ব্যক্তি এ আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটনে সহায়তা বা প্ররোচনা প্রদান করেন তবে তিনি প্রকৃত অপরাধ সংঘটনকারী ব্যক্তির সমপরিমাণ দন্ডে দন্ডনীয় হবেন।
ধারা-১৭: অপরাধ পুন:সংঘটনের দন্ড।
এই আইনের অধীন কোন ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হয়ে সাজাপ্রাপ্ত হলে এবং একই অপরাধ পুনঃ সংঘটন করলে সংশ্লিষ্ট দন্ডের দ্বিগুণ দন্ড প্রাপ্ত হবেন। উক্ত দন্ড প্রদানের এখতিয়ার ফৌজদারি আদালতের। (ধারা-২২)।
ধারা-১৮: কোম্পানি কর্তৃক অপরাধ সংঘটন।
ধারা-১৯: অপরাধের বিচার।
ধারা-২০: ক্ষতিপূরণ ও প্রতিকার।
ধারা-২১: সাক্ষীর সুরক্ষা।
ধারা-২২: ধারা ৪,৫,১৫,১৭ এ বর্ণিত অপরাধ ব্যতীত অন্যান্য অপরাধের বিচার মোবাইল কোর্টে হবে।
🖋️কামরুল ইসলাম
ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম।
১৯.০৫.২০২৪(পুনঃ পোস্ট)