29/08/2026
মেধা, অধিকার ও মর্যাদার প্রত্যয়ে সম্পন্ন হলো জাতীয় প্রকৌশলী সম্মেলন-২০২৬
দেশের প্রকৌশল খাতের পেশাজীবীদের অধিকার আদায়, বৈষম্য দূরীকরণ এবং মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দৃঢ় অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে রাজধানী ঢাকায় সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে জাতীয় প্রকৌশলী সম্মেলন-২০২৬। গত ২৭ আগস্ট ২০২৬ বৃহস্পতিবার বিকেল ৫:০০ টায় রমনাস্থ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ‘প্রকৌশলী অধিকার দিবস’ উপলক্ষে প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের উদ্যোগে ও আইইবি-এর সহযোগিতায় এই জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সম্মেলনটিকে কেন্দ্র করে দুপুরের পর থেকেই আইইবি প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), চুয়েট, কুয়েট, রুয়েটসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তরুণ গ্র্যাজুয়েট এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রকৌশল সংস্থাসমূহের শত শত পেশাজীবী প্রকৌশলী এই সম্মেলনে অংশ নেন। মিলনায়তনের কানায় কানায় পূর্ণ উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, বর্তমান সময়ে প্রকৌশলীদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা কতখানি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
সম্মেলনের মূল পর্বে প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ দেশের প্রকৌশল খাতের বর্তমান সংকট ও বৈষম্যের চিত্র অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তুলে ধরেন। মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে দেখানো হয় কীভাবে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিএসসি প্রকৌশলীদের পদায়ন ও প্রমোশনে অবহেলা করা হচ্ছে। বক্তারা চাকরির বাজারের সংকোচন, সহকারী প্রকৌশলী পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিয়মের চরম লঙ্ঘন এবং বিএসসি প্রকৌশলীদের নিয়োগ কমে যাওয়া ও ১০ম গ্রেডের উপসহকারী পদে আবেদনের সুযোগ না থাকার বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেন। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি তাঁর বক্তব্যে প্রকৌশলীদের যৌক্তিক দাবির প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে বলেন, রাষ্ট্র গঠনে প্রকৌশলীদের অবদান অনস্বীকার্য। কোনো ধরনের 'মবক্রেসি' বা পেশিশক্তির জোরে নয়, বরং মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই রাষ্ট্রীয় প্রতিটি স্তরে প্রকৌশলীদের পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে। তিনি উন্নত বিশ্বের, বিশেষ করে চীনের উদাহরণ টেনে বলেন, যে দেশ দক্ষ প্রকৌশলীদের যত বেশি মূল্যায়ন ও রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে সুযোগ দিয়েছে, সেই দেশ তত দ্রুত উন্নতি করেছে। আইইবি-এর কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরাও পেশাগত অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় তরুণ প্রকৌশলীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
জাতীয় প্রকৌশলী সম্মেলন-২০২৬ কেবল একটি আনুষ্ঠানিক আলোচনা সভা ছিল না; এটি ছিল প্রকৌশলীদের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ দূর করার এবং অধিকার আদায়ের একটি সুশৃঙ্খল প্ল্যাটফর্ম। এই সম্মেলন থেকে দেশ গড়ার কারিগরদের মর্যাদা রক্ষা এবং মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনে একটি জাতীয় রূপরেখা প্রণয়নের তাগিদ দেওয়া হয়। উপস্থিত প্রকৌশলীদের সুশৃঙ্খল অংশগ্রহণ এবং দৃঢ় প্রত্যয় আগামী দিনে বাংলাদেশের প্রকৌশল খাতকে আরও আধুনিক, বৈষম্যহীন এবং সমৃদ্ধিশালী করার বার্তা দিয়ে শেষ হয়।