19/03/2025
পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের ঐক্য: প্রযুক্তি উন্নয়নের পথে অগ্রযাত্রা-
প্রিয় পলিটেকনিক শিক্ষার্থী ও ভবিষ্যৎ প্রকৌশলীবৃন্দ,
কারিগরি শিক্ষা ও প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা কোনো একক ব্যক্তির সাফল্য নয়—এটি একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। বিশ্বের প্রতিটি উন্নত দেশ তাদের প্রযুক্তিবিদ ও প্রকৌশলীদের যথাযথ মর্যাদা দিয়েছে এবং তাদের কর্মদক্ষতা শিল্প-কারখানায় কাজে লাগিয়ে জাতীয় সমৃদ্ধি নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। আমাদের শিল্প ও উৎপাদন খাতের মেরুদণ্ড হলেন পলিটেকনিক শিক্ষার্থীরা, যাঁরা আজকের শিক্ষার্থী, কিন্তু আগামী দিনের প্রযুক্তি খাতের স্থপতি।
তবে, এই পথচলা সহজ নয়। ন্যায্য অধিকার, উপযুক্ত মর্যাদা, এবং কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা—এসবের জন্য আমাদেরকে লড়াই করতে হয়েছে, এখনো করতে হচ্ছে। আমাদের ঐক্য, আমাদের সংগ্রাম শুধু কিছু সুবিধা আদায়ের জন্য নয়, এটি প্রযুক্তিনির্ভর জাতি গঠনের আন্দোলন।
২০১৩: একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়-
২০১৩ সালে, যখন কারিগরি শিক্ষার মর্যাদা ও প্রকৌশলীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রথম বড় আন্দোলন গড়ে ওঠে, তখন আমি নিজেও সেই আন্দোলনের সামনের সারির কর্মী ছিলাম। বিশেষ করে, পটুয়াখালী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের প্রতিনিধিত্ব করে আমি ঢাকার তেজগাঁওয়ে রাজপথে দাঁড়িয়ে এই সংগ্রামে অংশগ্রহণ করি। সেই সময়, আমাদের আন্দোলন শুধু পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ভিত্তি তৈরির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠেছিল।
তবে, আন্দোলনের বিরুদ্ধে তখনও কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সক্রিয় ছিল। তারা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চেয়েছিল, আমাদের দুর্বল করতে চেয়েছিল। কিন্তু আমাদের ঐক্য ও নেতৃত্ব সেই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়েছিল। আমরা আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে একধাপ এগিয়ে যেতে পেরেছিলাম।
বর্তমান আন্দোলন: ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম-
আজকের শিক্ষার্থীরা সেই একই লড়াইয়ের নতুন বাহক। আমাদের লক্ষ্য একটাই—প্রকৌশলীদের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা, তাদের দক্ষতা শিল্পখাতে সঠিকভাবে কাজে লাগানো এবং বাংলাদেশকে একটি প্রযুক্তি-নির্ভর অর্থনীতিতে পরিণত করা।
কিন্তু দুঃখজনকভাবে, এখনো কিছু মহল প্রকৌশলীদের গুরুত্ব খর্ব করতে চায়। তারা আমাদের দাবিগুলোকে ছোট করে দেখতে চায়, আমাদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা সংকুচিত করতে চায়। আমরা যদি আজ নীরব থাকি, তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
তাই, এই মুহূর্তে আমাদের করণীয় একটাই—ঐক্যবদ্ধ থাকা, সচেতন থাকা এবং দৃঢ়সংকল্পের সাথে আমাদের ন্যায্য দাবিগুলো আদায় করা। এই আন্দোলন শুধু আমাদের স্বার্থের জন্য নয়, এটি জাতীয় উন্নয়নের জন্য। প্রযুক্তি খাতের অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করতে হলে, কারিগরি শিক্ষার মূল্যায়ন করতে হবে, প্রকৌশলীদের যথাযথ মর্যাদা দিতে হবে, এবং তাদের দক্ষতা শিল্প ও উৎপাদন খাতে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।
একতার শক্তি: আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে-
আমাদের এই আন্দোলন যেন কোনো ব্যক্তি বা ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর স্বার্থে সীমাবদ্ধ না থাকে। এটি সমগ্র কারিগরি শিক্ষার্থী ও প্রকৌশলীদের আন্দোলন। তাই, আসুন, আমরা বিভেদ ভুলে একসাথে কাজ করি। আমাদের দাবি বাস্তবায়নের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাই।
আমরা যদি এক থাকি, তাহলে কেউ আমাদের দাবিয়ে রাখতে পারবে না। প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় নেতৃত্ব দিতে আমাদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। আমরা যদি আজ লড়াই করি, তাহলে আগামী প্রজন্ম আমাদের পথ অনুসরণ করে প্রযুক্তি ও শিল্প উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড় করাবে।
প্রকৌশলীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই, প্রযুক্তি উন্নয়নের সংগ্রাম!
কারিগরি শিক্ষার্থীদের ঐক্য অটুট থাকুক, জাতীয় উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলি!
প্রকৌশলী মোঃ আকতারুজ্জামান হিরু
মহাসচিব
বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশন (বিআইইএ)।