13/11/2025
💍 আজ আমাদের বিবাহ বার্ষিকী — এক দশকের বন্ধন 🕊️
শুরুতে কথা’র মা যখন শুনেছিল —
পাড়ার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা দাঁড়কাক (মানে আমি!) ওর মেয়েকে বিয়ে করবে —
তখন তিনি অজ্ঞান ছিলেন আধা ঘণ্টা! 😅
তারপর অনেক বোঝানো, অনেক চাপ...
কিন্তু ‘কথা’ আজও আমাকে ভালোবেসে যাচ্ছে। ❤️
শুনলে হয়তো হাসবে এখন —
তখন গভীর রাতে আমি চুপচাপ উঠে বসে থাকতাম,
আর ওকে দেখতাম।
ভাবতাম, “পাগলী না হলে আমাকে কেউ ভালোবাসে?”
বিশ্বাস হতো না — বাউন্ডুলে আমি-ও চাকরি করছি!
মাঝে মাঝে পুরনো বন্ধুদের আড্ডায় যেতাম,
তারা বলতো — “ভাই, তোর এতো পরিবর্তন কেমনে হলো?”
আমি নিজেও সেই প্রশ্নটা নিজেকে করতাম।
‘কথা’কে বিয়ে করে যখন এক রুমের কামরায় নিয়ে এলাম,
তখনও আমার সিঙ্গেল তোষক।
লজ্জায় কুঁকড়ে একপাশে নেমে যেতাম,
কিন্তু সে প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে আমাকে জড়িয়ে ঘুমাতো। ❤️
ওর নিশ্চিন্ত ঘুম দেখে আমি ভড়কে যেতাম,
আমার ঘুম চলে যেত।
রাতের পর রাত ছোট জানালার পাশে বসে
সিগারেট টানতাম,
আর নিজের দুরবস্থার জন্য নিজেকেই দায়ী করতাম।
যখন নিউ মার্কেট যেতাম কথা’কে নিয়ে,
পকেটে থাকতো পুরো মাসের টাকা —
যদি দামি কিছু চেয়ে বসে, যা আমি না দিতে পারি!
হোক না একটু ধার-দেনা, তাও ও খুশি থাকুক।
এখন বিশ্বাস হয় না —
তখনকার মাসিক বেতন এখন এক-দুদিনের ইনকাম।
কথা আমার বোঝার বাইরে, চিন্তারও বাইরে।
কারণ সে সবসময় কিনতো বাজেটের থেকেও নিচে,
আর মাসের হিসাব রাখতো নিখুঁতভাবে।
আমি যখন মন খারাপ করে ফিরতাম,
‘কথা’ বলতো —
“একদিন সব হবে, তখন দিবে।”
আমি বলতাম — “কবে হবে সেইদিন?”
ধীরে ধীরে সব হলো —
এক রুম থেকে দুই রুম,
এখন তিন রুমের বাসা।
ছোট্ট তোষক থেকে কিং বেড —
দেশ ভ্রমণ, বিদেশ ভ্রমণ — সব হলো।
তবুও আমার কাছে ‘কথা’র সামনে নিজেকে ছোট লাগে।
বিয়ের পর কখনো এমন হয়নি আমি না খেয়ে অফিসে গিয়েছি।
বাচ্চাকে রেডি করে, টিফিন বানিয়ে, আমাকে পাঠিয়ে দেয় —
আমি আজও বুঝি না, এত সকালে সে কীভাবে পারে!
মাঝে মাঝে ভাবি —
💬 পুরুষ হওয়া সহজ, কিন্তু ‘কথা’র মতো মেয়ে হওয়া সহজ নয়।
বেকার প্রেমিককে স্বামী বানিয়ে
এত কষ্ট সহ্য করে টিকে থাকা সহজ নয়।
মাঝে মাঝে ওকে প্রশ্ন করি —
“যদি আমি পরিশ্রম করেও সফল না হতাম?”
ও বলে —
> “তবুও তোমার সাথে থাকতাম।
তোমার পরিশ্রমী চেহারাই আমার অনুপ্রেরণা,
তোমার সফলতা নয়।” 💖