18/12/2022
ক. সিমেন্ট কি?
খ. সিমেন্ট কত প্রকার কী কী?
গ. মাঠ পর্যায়ে সিমেন্টের পরীক্ষা
পদ্ধতি কী কী?
ঘ. ল্যাবরেটরিতে সিমেন্টের পরীক্ষা
কী কী?
ঙ.পোর্টল্যান্ড সিমেন্টের অম্ল ও
ক্ষারকীয় উপাদানের তালিকা
তৈরি কর।
চ.OPC ও PCC সিমেন্টের পার্থক্য কী কী?
ছ.বিভিন্ন প্রকার পোর্টল্যান্ড
সিমেন্টের ব্যবহার।
জ.বাংলাদেশে উৎপাদিত কয়েকটি
পোটল্যান্ড সিমেন্টের নাম।
ঝ. অতি সংক্ষিপ্ত ১-২০ পর্যন্ত।
ক.সিমেন্ট কি
উত্তরঃ - সিমেন্ট হল সেই সকল গুঁড়া
জাতীয় পদার্থের সাধারণ নাম,
যাদেরকে পানি বা অন্য কোন তরলের
সাথে মিশ্রিত করলে কাদার মত নমনীয়
পদার্থ পাওয়া যায় এবং তা কিছু
সময়ের মধ্যে জমে গিয়ে বিভিন্ন
দৃঢ়তার শক্ত পদার্থ গঠন করে। প্রায় সকল
ধরনের প্রকৌশল কাজেই সিমেন্টের
ব্যবহার হয়ে থাকে।এর সাহায্যে কাজ
করা সহজ এবং কাজের
স্হায়িত্বশীলতাও অধিক। কাজের ধরন ও
মান অনুযায়ী সিমেন্ট পাওয়া যায়।
খ. প্রকারভেদ :-
উত্তরঃ - সিমেন্ট প্রধানত দুই প্রকার
যথা :
১।প্রাকৃতিক সিমেন্ট
২।কৃত্রিম সিমেন্ট
প্রাকৃতিক সিমেন্ট :- ২৫% থেকে ৪০%
কর্দম এবং বাদ বাকি কার্বনেট অব
লাইমযুক্ত প্রাকৃতিক চুনাপাথর পুড়িয়ে
এবং মিহি পাউডারে চূর্ণ করে
প্রাকৃতিক সিমেন্ট পাওয়া যায়।
কৃত্রিম সিমেন্ট :-চুনা পাথরের সাথে
সঠিক অনুপাতে মাটি মিশিয়ে গুঁড়া
করা হয় এবং মিশ্রণকে চুল্লিতে উত্তপ্ত
করলে ক্লিঙ্কারে পরিণত হয়।এ
ক্লিঙ্কার মিহি করে গুঁড়া করলে
কৃত্রিম সিমেন্ট পাওয়া যায়।বিভিন্ন
ধরণের কৃত্রিম সিমেন্টের মধ্যে
পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট বেশি ব্যবহৃত হয়।
গ. মাঠ পর্যায়ে সিমেন্টের পরীক্ষা
পদ্ধতি গুলো :-
১।সিমেন্টের বস্তায় হাত দিলে
ঠান্ডা অনুভূত হলে সিমেন্ট ভালো।
২।পানিতে মুঠোবদ্ধ সিমেন্ট ফেললে
ডুবে গেলে ভালো সিমেন্ট।
৩।দু'আঙ্গুলের মাঝে নিয়ে ঘষলে,
মিহি পাউডার মনে হলে সিমেন্ট
ভালো।
৪।সিমেন্ট মুঠোতে জড়ো করলে, জড়ো
হয়ে থাকলে সিমেন্ট ভালো।
ঘ.ল্যাবরেটরিতে সিমেন্টের যে
পরীক্ষা করা হয়ে থাকে:-
১।Setting time test
২।Soundness test
৩।Fineness test
৪।Tensile strength test
৫।Compressive strength test
৬।Chemical composition test
ঙ. পোর্টল্যান্ড সিমেন্টের অম্ল ও
ক্ষারকীয় উপাদানের তালিকা হলো:-
১।ক্যালসিয়াম অক্সাইড - ৬৩%
২।সিলিকা-২২%
৩।অ্যালুমিনা - ৭%
৪।আয়ন অক্সাইড - ৩%
৫।ম্যাগনেশিয়াম অক্সাইড - ৫।ম্যাগনেশিয়াম অক্সাইড - ২%
৬।সালফার ট্রাই - অক্সাইড - ২%
৭।ক্ষারকীয় পদার্থ - ১%
চ. OPC এবং PCC সিমেন্টের পার্থক্য
আলোচনা করা হলো।
১। OPC - Ordinary Portland Cement.
২।OPC সিমেন্টে ক্লিংকারের
পরিমাণ ৯৫-১০০ শতাংশ থাকে।
৩।এতে জিপসাম ০-৫ শতাংশ।
৪।OPC সিমেন্টে ফ্লাই এ্যাশ, লাইম
স্টোন ইত্যাদি থাকে না।
৫।OPC সিমেন্ট ঢালাই কাজে বহুল
পরিমাণে ব্যবহার হয়।
৬।PCC এর চাইতে OPC সিমেন্টের
কমপ্রেসিভ স্টেন্থ বেশি আসে।
৭।এই সিমেন্টে ২৮ দিনে পূর্ণ শক্তি
অর্জন করতে পারে।
৮।এই সিমেন্টের সেটিং টাইম দ্রুত
তাই নির্দিষ্ট সময় পর শাটারিং খুলতে
কোন সমস্যা হয়না।
১।PCC - Portland Composite Cement
২।PCC সিমেন্টে ক্লিংকারের
পরিমাণ ৬৭-৭৯ শতাংশ।
৩। জিপসামের পরিমাণ ২-৭ শতাংশ।
৪।PCC সিমেন্টে ফ্লাই এ্যাশ,লাইম
স্টোন ২১-৩৫ শতাংশ।
৫।গাঁথুনিও প্লাস্টারের কাজে
ব্যাপকভাবে এই সিমেন্ট ব্যবহার হচ্ছে।
৬।এই সিমেন্ট ঢালাই কাজেও ব্যবহার
করা হয়,কিন্তু একই অনুপাতে OPC এর
চাইতে PCC এর কম্প্রেসিভ স্ট্রেন্থ কম
আসে।
৭।২৮ দিনে PCC পূর্ণ শক্তি অর্জন করতে
পারে না, এতে ২৮ দিনের বেশি সময়
লাগে।
ছ. বিভিন্ন প্রকার পোর্টল্যান্ড
সিমেন্টের ব্যবহার নিম্নে আলোচনা
করা হলো
১।High early strength portland cement - দ্রুত
জমাট বাঁধার জন্য।
২। Clay cement - সামুদ্রিক নির্মাণ
কাজে।
৩।Colour cement - বিভিন্ন মোজাইক
কাজে তথা বিভিন্ন সৌন্দর্যবর্ধক
কাজে।
৪।Aluminous cement - ২৪ ঘন্টায় শতকরা ৭৫%
শক্তি অর্জন করে।
৫।Pazzolanic silica cement - অগ্নি
প্রতিরোধক পৃষ্ঠ নির্মাণে।
৬।White cement - মোজাইক, সুইমিং পুল,
গোসলখানা ইত্যাদিতে অলংকার মূলক
সৌন্দর্যবর্ধক কাজে।
জ. বাংলাদেশে উৎপাদিত কয়েকটি
সিমেন্টের নাম হলো:-
১।স্ক্যান সিমেন্ট
২।হোলসিম সিমেন্ট
৩।সেভেন রিংস সিমেন্ট
৪।শাহ সিমেন্ট
৫।বসুন্ধরা সিমেন্ট
৬।প্রিমিয়ার সিমেন্ট
৭। আনোয়ার সিমেন্ট
৮। আকিজ সিমেন্ট
৯।মেট্রোসেম সিমেন্ট
১০।ক্রাউন সিমেন্ট
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
১।শুষ্ক পদ্ধতিতে সিমেন্ট তৈরির জন্য
উপাদানসমূহের মিশ্রণকে 'র - মিক্স'
বলে।
২।Ordinary portland cement এর Initial setting
time ৩০ মিনিট।
৩। Ordinary portland cement এর final setting time
১০ ঘন্টা।
৪। প্রতি ব্যাগ হোয়াইট সিমেন্টের ওজন
৪০কেজি।
৫।সিমেন্টের এক বস্তার উপর এক বস্তা
এরূপে ১০ বস্তার অধিক রাখা যাবে
না।
৬।উৎপাদনের তিন মাস পরে সিমেন্ট
কাজে লাগালে জমাটবদ্ধতার সময় ও
শক্ততা ২% হ্রাস পায়।
৭।এক ঘনমিটার সিমেন্টের ওজন ১৪৪০
কেজি/ঘনমিটার।
৮।এক ব্যাগ সিমেন্টের ওজন ৫০ কেজি।
৯।এক ব্যাগ সিমেন্ট ১.২২ cft।
১০।এক ঘনমিটার সিমেন্ট ৩০ ব্যাগ।
১১. সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়
পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট।
১২.সিমেন্ট তৈরির মূল উপাদান হলো
দুইটি - চুনজাত ও কাদাজাত।
১৩.সিমেন্ট শব্দটির উৎপত্তি রোমানস
থেকে।
১৪. সিমেন্টের জমাটবদ্ধতা ত্বরান্বিত
করে অ্যালুমিনা।
১৫.সিমেন্ট ২ টি পদ্ধতিতে তৈরি করা
হয়।
১৬.সিমেন্টের জমাটবদ্ধতা সময়
নিরাপণে ভাইকেট যন্ত্র ব্যবহার করা
হয়।
১৭. ড্যাম নিমার্ণে লো- হিট সিমেন্ট
ব্যবহার করা হয়।
১৮.পদ্মা সেতু নির্মাণে বসুন্ধরা
সিমেন্ট ব্যবহার হয়।
১৯.বরফ আচ্ছাদিত এলাকায় Air entraining
cement ব্যবহার হয়।
২০।শক্তিশালী নির্মাণ কাজে Ordinary
portlan