06/07/2026
প্রবাসীদের জন্য অবশ্যই করণীয় :
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় যে সকল প্রবাসীর প্লট আছে দের জন্য বিশ্লেষণধর্মী রিভিউ নিচে দাঁড় করিয়েছি। যেমন-
১. আইনি ও মালিকানা সংক্রান্ত যাচাই (Legal Checkpoints) প্রবাসী নাগরিকদের ক্ষেত্রে দূর থেকে প্রজেক্ট তদারকি করা কঠিন, তাই কাগজের সত্যতা সবচেয়ে আগে নিশ্চিত করতে হবে।
• পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (Power of Attorney): যেহেতু নিজে সার্বক্ষণিক বাংলাদেশে থেকে বিষয়টি তদারকি করতে পারবে না, তাই, তার পক্ষ থেকে সেটি করার জন্যে আইনগতভাবে বিশ্বস্ত কাউকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিতে হবে। এটি আমার বোনকে ইউএসএ-তে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে নোটারি ও সত্যায়িত করিয়ে নিয়ে আসতে হবে।
• রাজউক ও বসুন্ধরা কর্তৃপক্ষের অনুমোদন: প্লটটির নকশা (Building Plan) রাজউক (RAJUK) এবং বসুন্ধরা গ্রুপের নিজস্ব এস্টেট অফিস দ্বারা অনুমোদিত কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। ফারুক রোড বা নির্দিষ্ট ব্লকের জন্য হাইট রেস্ট্রিকশন (উচ্চতার সীমাবদ্ধতা) আছে কিনা তা আগে জানতে হবে।
২. ডেভেলপার কোম্পানির সাথে আলোচনার রিভিউ (Developer Evaluation): ডেভেলপার কোম্পানির সাথে আলোচনার ক্ষেত্রে সাধারণত: দুটি উপায়ে কাজ হয়— যৌথ উদ্যোগ (Joint Venture) অথবা কন্ট্রাক্ট কন্সট্রাকশন (Building Contract)। যদি যৌথ উদ্যোগে (Landowner-Developer Share) যাওয়া হয়, তবে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে:
• রেশিও বা শেয়ার (Ratio): সাধারণত: বসুন্ধরায় ব্লকের ওপর ভিত্তি করে ল্যান্ডওনার এবং ডেভেলপারের মধ্যে ফ্ল্যাট ও সাইন-অন মানি (Signing Money)-র অনুপাত ঠিক হয়। অফারটি বাজারের বর্তমান হারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা তা যাচাই করা জরুরি।
• কোম্পানির ট্র্যাক রেকর্ড: ডেভেলপার কোম্পানিটি বসুন্ধরায় তাদের আগে করা অন্তত ৩-৪টি প্রজেক্ট স্বশরীরে ভিজিট করার প্রয়োজন রয়েছে এবং সেখানকার ফ্ল্যাট মালিকদের কাছ থেকে তাদের কাজের মান ও সঠিক সময়ে হ্যান্ডওভারের রেকর্ড কেমন ছিল তাও আগে জানতে হবে।
৩. আর্থিক ও নির্মাণ সংক্রান্ত বিষয় (Financial & Construction Terms)
• নির্মাণ সামগ্রীর মান (Material Specification): রড (BUET টেস্টেড কি না), সিমেন্ট, ব্রিকস এবং ফিনিশিং ম্যাটেরিয়ালস (টাইলস, লিফট, জেনারেটর) কোন ব্র্যান্ডের দেয়া হবে, তা চুক্তিনামায় স্পষ্ট উল্লেখ করে নিতে হবে।
• সময়সীমা (Timeline & Penalty Clause): প্রজেক্টটি শুরু এবং শেষ করার সুনির্দিষ্ট তারিখ চুক্তিতে থাকতে হবে। যদি ডেভেলপার সময়মতো প্রজেক্ট শেষ করতে না পারে, তবে প্রতি মাসের বিলম্বের জন্য ল্যান্ডওনারকে কত টাকা ক্ষতিপূরণ (Delay Penalty) দেবে, তাও চুক্তিতে স্পষ্টভাবে লিখিয়ে নিতে হবে।
৪. প্রবাসী (Non-Resident) হিসেবে বাড়তি সুবিধা ও সতর্কতা:
• ব্যাংক অ্যাকাউন্ট: প্রজেক্টের যাবতীয় লেনদেন বা সাইন-অন মানি নেয়ার জন্যে আমার বোনের একটি 'NITA' (Non-Resident Investor's Taka Account) বা সাধারণ এফসি (Foreign Currency) অ্যাকাউন্ট তৈরি করে নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে তার তরফে ফান্ড ট্রান্সফারের সুবিধা হয়।
ডেভেলপার কোম্পানি আজ মৌখিকভাবে বা খসড়া আকারে যে প্রস্তাব (Proposal) দিয়েছে, তা চূড়ান্ত করার আগে একজন অভিজ্ঞ রিয়েল এস্টেট আইনজীবীকে (Lawyer) দিয়ে ড্রাফট বা চুক্তিপত্রটি ভালো করে স্ক্রুটিনি (Scrutiny) করাতে হবে।
আজকের আলোচনায় ডেভেলপারের পক্ষ থেকে মূল প্রস্তাবগুলো (যেমন: শেয়ার রেশিও, সাইন-অন মানি বা নির্মাণের সময়কাল) নিয়েও অভিজ্ঞ কারো সাথে মতামত শেয়ার করতে হবে, যাতে আরও নিখুঁত এবং যথাযথ সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয়।