18/08/2024
ইসলাম কোনো ব্যুফে না। কিছু নেবেন, কিছু ফেলে দেবেন, এই অপশান আল্লাহ আমাদের দেননি।
আকীদাহর ক্ষেত্রে ইসলামকে মানা অপরিহার্য, না মানলে জাহান্নাম। তেমনিভাবে শাসনের ক্ষেত্রেও আল্লাহ যা নাযিল করেছেন সেই শরীয়াহকেই গ্রহণ করতে হবে। এটা অপশানাল না। এখানে ইচ্ছেমতো মানুষের বানানো তন্ত্রমন্ত্র বেছে নেয়ার অধিকার আল্লাহ মাখলুককে দেননি।
আসমানেও রাজত্ব আল্লাহর, যমীনেও রাজত্ব আল্লাহর। তিনিই মালিকুল মুলক। ইসলামী আকীদাহর বদলে অন্য কোন আকীদাহকে গ্রহণ করার পর কেউ মুসলিম থাকতে পারে না। একইভাবে জেনেবুঝে, স্বেচ্ছায়, স্বাধীনভাবে ইসলামী শরীয়াহর বদলে গাইরুল্লাহর শাসনকে প্রেফার করা কুফর।
আল্লাহ তার দ্বীনকে বিজয়ী করবেন। কিন্তু তিনি সেই বিজয় মালাইকাদের দেবেন না। মানুষকে দেবেন। আমরা সেই রকম মানুষ বানাতে পারিনি। সেই রকম দাওয়াহ ও আন্দোলন গড়ে তুলিনি। নিজেদের ক্ষুদ্র একটা বলয়ের বাইরে বাকি ক্বওমকে উপেক্ষা করে গেছি ক্রমাগত।
এ ভূখন্ডে শরীয়াহ শাসনের আওয়াজ এবং তাগুতী শাসনের বাস্তবতাকে স্পষ্ট করা হয়নি। আল্লাহর পক্ষ থেকে বিজয় ও নুসরতের যে রিকোয়ারমেন্ট আছে, আমরা সেটা এখনো পূরণ করতে পারিনি। সেই অর্থে চেষ্টাও করিনি। শরীয়াহ শাসনের আন্দোলনকে আমরা একটা ভায়াবল অপশান হিসেবে সামনে আনতে ব্যর্থ হয়েছি। একটা দীর্ঘ পথের একদম শুরুর দিকে আছি আমরা।
তাই স্বভাবতই ক্ষমতা এক জাহেলি রিজিমের কাছ থেকে আরেক রিজিমের কাছে গেছে। যুলুমসহ নানা দিক থেকে এই দুই রিজিমের মধ্যে পার্থক্য আছে। কিন্তু এই পার্থক্য মাত্রার। মৌলিক বিচারে দুটোই গাইরুল্লাহর শাসন, দুটোই জাহেলিয়াত।
যতোদিন আমরা ইসলামী শাসনের আন্দোলনকে একটা ভায়াবল অপশান হিসেবে সামনে আনতে পারবো না, ততোদিন এক জাহেলিয়াত থেকে আরেক জাহেলিয়াতের মধ্যে আমরা ঘুরপাক খাবো। এটা ব্রুট ফ্যাক্ট। হাহুতাশ, হাহাকার কিংবা ক্রোধের কারণে এ বাস্তবতা বদলাবে না।
অ্যামেরিকা সমর্থিত সেক্যুলার সরকার শরীয়াহ কায়েম করবে না। দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও আন্দোলন ছাড়া রাতারাতি ইসলামী শরীয়াহর শাসন কায়েম হবে না। শরীয়াহর শাসন স্রেফ মুখে দাবি করার বিষয় না। রক্ত, লাশ আর খুলি দিয়ে কেনার মতো সম্পদ।
এ সব কথাই নিজ নিজ জায়গায় সঠিক। তবে এই বাস্তবতাকে স্বীকার করে নিয়ে আগামীর করনীয় নির্ধারণ করা এক জিনিস, আর 'শরীয়াহ চাই না সেক্যুলার শাসন চাই', বলা একেবারে আলাদা একটা ব্যাপার।
প্রথমটা বাস্তবতার আলোকে মুমিনের দায়িত্ব। পরেরটা আল্লাহর দ্বীনের বদলে অন্য দ্বীনকে বেছে নেয়া। এই ডিস্টিংশানটা সবার স্পষ্ট ভাবে বোঝা উচিত।
আল্লাহ জাল্লা ওয়া 'আলা বলেছেন,
أَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ ۚ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ حُكْمًا لِّقَوْمٍ يُوقِنُونَ
তবে কি তারা জাহিলিয়্যাতের বিধান চায়? আর নিশ্চিত বিশ্বাসী কওমের জন্য বিধান প্রদানে আল্লাহর চেয়ে কে অধিক উত্তম? [ সূরা আল-মায়'ইদা, ৫০]